ভুবনেশ্বরে রোবট-রেস্তোরাঁ! রাঁধছে, খাবার পরিবেশন করছে চম্পা-চামেলি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেস্তোরাঁর দরজা ঠেলে ঢুকলেই হাসি হাসি মুখে বলবে, ‘স্বাগত!’ দেখিয়ে দেবে আপনার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা। চেয়ারে জমিয়ে বসতে না বসতেই ফের হাজির তারা। আপনার অর্ডার নিয়ে ফের জানতে চাইবে ‘কোনো অসুবিধা হচ্ছে না তো!’ পছন্দের খাবার টেবিলে সাজিয়ে এক গাল হেসে বলবে, ‘আপনি খুশি তো!’

    না, মানুষ নয়। তারা যন্ত্র। তারা মানুষের পোশাক পরা রোবট। নাম চম্পা ও চামেলি। ভুবনেশ্বেরর এই রেস্তোরাঁয় ঢুকলে আপনাকে স্বাগত জানাবে চম্পা-চামেলি। তারাই এখানকার হর্তাকর্তা। রাঁধা, পরিবেশন করা, অতিথি আপ্যায়নে একেবারে তুখোড়। কাজ করে নিমেষে। অভিযোগের সুয়োগও দেবে না।

    ভুবনেশ্বরের চন্দ্রশেখরপুর এলাকায় বুধবারই উদ্বোধন হল এই রোবট-রেস্তোরাঁর। চম্পা-চামেলিকে দেখতে ওইদিনই রেস্তোরাঁয় ভিড় ছিল দেখার মতো। রেস্তোরাঁর মালিক জিৎ বাসা জানিয়েছেন, পূর্ব ভারতে এমন রোবট রেস্তোরাঁ এই প্রথম। মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক এমন রেস্তোরাঁর কথা আগেই বলেছিলেন। সেই মতো প্রস্তুতিও চলছিল। গতকালই জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে প্রথম রোবট-রেস্তোরাঁ। এখনও পর্যন্ত দারুণ কাজ করেছে রোবট চম্পা-চামেলি। ঠিক যেমন ভাবে প্রোগ্রামিং করা হয়েছিল, ঠিক সে ভাবেই কাজ করে যাচ্ছে তারা। রোবটের মুখেও মানুষের মতো বেশ হাসিখুশির অভিব্যক্তি আনা হয়েছে। রেস্তোরাঁয় খেতে আসা মানুষজনও খুব খুশি। আর চম্পা-চামেলিকে দেখে মনে হয়েছে, তাদেরও এই পরিবেশনের কাজ খুব একটা খারাপ লাগছে না।

    রেস্তোরাঁ জুড়ে তাদের অবাধ বিচরণ। গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলছে বিনয়ের সঙ্গে। নিচ্ছে পছন্দের খাবারের অর্ডার। আবার রোবটের পেছনে থাকা মনিটরের স্ক্রিনে ভেসে ওঠা বাটনে চাপ দিয়ে গ্রাহকরাও দিচ্ছেন খাবারের অর্ডার। শক্তিশালী ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে সে অর্ডার স্বয়ংক্রিয় ভাবে চলে যাচ্ছে রান্নাঘরে, শেফের কাছ। ঝটপট তৈরি হচ্ছে খাবার। দ্রুত সেই খাবার নিয়ে ওই রোবটই হাজির হচ্ছে নির্দিষ্ট টেবলে।

    জিৎ বাসা বলেছেন, ‘অনেক সময় দেখা যায় যে, ওয়েটাররা কয়েক ঘণ্টা কাজের পর ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ক্লান্ত অবস্থায় তাঁরা গ্রাহকদের খাবার সরবরাহ করতে বাধ্য হন। কিন্তু এই রোবটরা কখনওই ক্লান্ত হবে না। তাই যখন রোবট খাবার সরবরাহ করবে, তখন এটি গ্রাহককে আরও ভাল পরিষেবা দিতে পারবে। পাশাপাশি একটা রোমাঞ্চকর পরিবেশও তৈরি হবে। আহ্লাদিত হবে বাচ্চারাও। ”

    খাবারের স্বাদে একঘেয়েমি কাটাতেও টিপস দেবে এই রোবটরা। ইতিমধ্যেই নাকি দু’একটা খাবারের পদ বানিয়ে ফেলেছে তারা। সেটা বেশ পছন্দও করেছেন গ্রাহকরা। রোবটের হাতের রান্নার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে গোটা চন্দ্রশেখরপুরে। রোবট-রেস্তোরাঁর চম্পা-চামেলিকে দেখতে আগামী দিনে যে লম্বা লাইন পড়বে সেটা বেশ বুঝতে পারছেন মালিক জিৎ বাসা। তবে চম্পা-চামেলি এখন শুধু ওড়িয়া ভাষাই জানে। পরবর্তীতে তাদের আরও কিছু ভাষা শেখানো হবে বলে জানিয়েছেন রেস্তোরাঁর মালিক।

    পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

    সাতমহলা আকাশের নীচে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More