বাঁশের আইসোলেশন বেড, চিকিৎসার আসবাবও বাঁশের, ঘাটতি মেটাতে নতুন পথের দিশা আইআইটি গুয়াহাটির

এই মুহূর্তে কোভিড রোগীদের বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেটর বা অন্যান্য চিকিৎসার সরঞ্জাম কিনতেও অনেক খরচ হচ্ছে, আইসোলেশন বেডও কম, তাই বাঁশের আসবাবই বিকল্প হতে পারে বলেই মনে করছেন গবেষক রবি মোকাশি পুনেকার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পথ দেখিয়েছিলেন ১২ বছর আগেই। এতদিনে তাঁর ভাবনা বাস্তব রূপ পেতে চলেছে।

সেই ২০০৮ সালেই বাঁশ দিয়ে হাসপাতালের আসবাব তৈরির পথ দেখিয়েছিলেন গুয়াহাটির ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (আইআইটি)গবেষক ডক্টর রবি মোকাশি পুনেকার। সেই সময় এই প্রজেক্ট বাতিলের খাতায় চলে গিয়েছিল। কুড়িতে কোভিড মহামারীর সময় যখন হাসপাতালে আইসোলেশন বেড থেকে চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি পড়ছে, তখন ডক্টর পুনেকারের দেখানো পথেই কাজ শুরু হয়েছে অসমের বিভিন্ন হাসপাতাল, নার্সিংহোমে।

অসমে বাঁশের উৎপাদন পর্যাপ্ত পরিমাণেই হয়। বাঁশ দিয়ে আসবাব তৈরির খরচও বেশি নয়। এই মুহূর্তে কোভিড রোগীদের বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেটর বা অন্যান্য চিকিৎসার সরঞ্জাম কিনতেও অনেক খরচ হচ্ছে, আইসোলেশন বেডও কম, তাই বাঁশের আসবাবই বিকল্প হতে পারে বলেই মনে করছেন গবেষক রবি মোকাশি পুনেকার।

“বাঁশের বেড তৈরি করাও সহজ, খরচও কম পড়বে। তাছাড়া হাসপাতালের অন্যান্য আসবাব বাঁশ দিয়ে তৈরি হলেও এই সময় দামি সরঞ্জাম কেনার খরচ বাঁচবে,” বলেছেন পুনেকার। উত্তর-পূর্বের হাসপাতালগুলিতে এই বাঁশের আসবাব মডেলই চালু হতে চলেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অধ্যাপক রবি মোকাশি পুনেকার

অসমের বিভিন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রথম এমন প্রজেক্ট চালু করা হয়েছিল, বলেছেন গবেষক পুনেকার। আইআইটি গুয়াহাটির ডিজাইন বিভাগের তিনি প্রধান। বলেছেন, এমন আসবাবের প্রোটোটাইপের প্রদর্শনীও হয় গুয়াহাটির বিভিন্ন জায়গায়। তবে ওই পর্যন্তই। কয়েকটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই প্রজেক্ট চালু হলেও, বৃহত্তর ক্ষেত্রে তখন এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি স্বাস্থ্য দফতরও। বর্তমানে চিকিৎসা পরিষেবাও যখন সঙ্কটের মুখে, তখন খরচ বাঁচাতে ও আরও বেশি মানুষকে চিকিৎসা দিতে এমন আসবাবের কথাই ভেবেছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।

কী কী তৈরি হচ্ছে?  দবেষক পুনেকার বলেছেন, বাঁশের আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইন বেড, আইভি ফ্লুইড স্ট্যান্ড, কম্পিউটার টেবিল, রোগীদের পরীক্ষা করার বেড ও টেবিল, হুইলচেয়ার-সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও এই উপায়ে তৈরি হচ্ছে। খোলা জায়গায় আইসোলেশন ওয়ার্ড বা বড় কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলোতে এমন আসবাব কাজে লাগবে। অনেক রোগীকে পরীক্ষার জন্য বা চিকিৎসার জন্য যেখানে রাখা হচ্ছে, সেখানে আইসোলেশন বেডের ঘাটতি পড়ছে। বাঁশ দিয়ে তৈরি বেডও মেডিক্যাল গাইডলাইন মেনেই বানানো হচ্ছে, রোগীদের চিকিৎসার কোনও অসুবিধাই হবে না। বরং আরও বেশি পোর্টেবল হবে।

আইআইটির ডিজাইন বিভাগের তত্ত্বাবধানে কয়েকটি সংস্থাকে এই বরাত দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রতিদিন প্রায় ২০০টি করে এমন আইসোলেশন বেড তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যান্য চিকিৎসার আসবাবও বানানো হচ্ছে।

উত্তর-পূর্বে কেন অ্যান্ড ব্যাম্বু টেকনোলজি সেন্টারের ডেপুটি ম্যানেজার পুলক মণ্ডল বলেছেন, ১৪০ রকম বাঁশের প্রজাতি রয়েছে উত্তর-পূর্বে। তবে চিকিৎসার আসবাব বানানোর জন্য ছোট, ওজনে হাল্কা ও মজবুত ধরনের বাঁশই বেছে নেওয়া হয়েছে। আইআইটি গুয়াহাটির এই প্রজেক্টে সম্মতি দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতরও। আর কিছুদিনের মধ্যেই বাণিজ্যিক হারে এমন আসবাব বানানোর কাজ শুরু হয়ে যাবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More