দিল্লি আইআইটির আরটি-পিসিআর টেস্ট কিটকে স্বীকৃতি আইসিএমআরের, কম খরচেই নির্ভুলভাবে ধরবে কোভিড সংক্রমণ

২৫

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি আইআইটির বানানো কোভিড টেস্ট কিটকে স্বীকৃতি দিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। কোভিড-১৯ সংক্রমণ ধরবে নির্ভুলভাবে। কম খরচে এমন আরটি-পিসিআর (রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ-পলিমারেজ চেন রিঅ্যাকশন) টেস্ট কিট বানিয়েছে দিল্লির ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। এই প্রথমবার দেশের কোনও অ্যাকাডেমিক ইনস্টিটিউটের বানানো টেস্ট কিটকে সবুজ সঙ্কেত দিল আইসিএমআর।

র‍্যাপিড অ্যান্ডিবডি টেস্ট কিটে ত্রুটি ধরা পড়ার পর থেকে আরটি-পিসিআর টেস্টেই বেশি ভরসা রাখছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। গতকালই আইসিএমআরের ডিরেক্টর জেনারেল বলরাম ভার্গব বলেছিলেন, কোভিড সংক্রমণ ধরার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিই হল এই আরটি-পিসিআর টেস্ট। এই টেস্টে ভাইরাল স্ট্রেন চিহ্নিত করা যায়। সময় বেশি লাগলেও আরটি-পিসিআর টেস্টেই ১০০ শতাংশ নির্ভুলভাবে ধরা পড়ে সংক্রমণ।

আইসিএমআরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, এমন টেস্ট কিটই বানিয়েছে দিল্লি আইআইটি। তাও আবার কম খরচেই। আইআইটির বানানো এই আরটি-পিসিআর টেস্ট কিট দিয়ে সংক্রমণ পরীক্ষা করতেও খুব বেশি সময় লাগবে না। পর্যাপ্ত পরিমাণে এই টেস্ট কিট বানানো হচ্ছে আইআইটিতে।

আরও পড়ুন: আশা জাগাচ্ছে প্লাজমা থেরাপি, চার করোনা রোগীর উপরে ট্রায়াল সন্তোষজনক: অরবিন্দ কেজরিওয়াল

গবেষক প্রশান্ত প্রধান, আশুতোষ পাণ্ডে ও প্রবীণ ত্রিপাঠীর তত্ত্বাবধানে এই প্রজেক্ট চলছে দিল্লি আইআইটিতে। এই টিমে রয়েছেন ডক্টর পারুল গুপ্ত, ডক্টর অখিলেশ মিশ্র, অধ্যাপক বিবেকানন্দন পেরুমল, মনোজ বি মেনন, জেমস গোমস ও বিশ্বজিৎ কুণ্ডু।

কেমন এই আরটি-পিসিআর টেস্ট কিট?

দিল্লি আইআইটির রিসার্চ টিম জানিয়েছে, কোনও ভাইরাস জিনোমকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারে রিভার্স পলিমারেজ চেন রিঅ্যাকশন। সেই ভাইরাস কেমন, তার প্রকৃতি কী, ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড) নাকি আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) ভাইরাস সেটাও সঠিকভাবে ধরা পড়ে এমন টেস্ট কিটে। আইআইটিতে যে আরটি-পিসিআর কিট বানানো হয়েছে সেটা ‘প্রোব-ফ্রি’ কিট, এতে কোনওরকম ফ্লুরোসেন্ট প্রোব নেই। গবেষকরা বলেছেন, এই টেস্ট কিটে এমন প্রাইমার রয়েছে যা ভাইরাস জিনোমের নির্দিষ্ট অংশকে শনাক্ত করতে পারে।

সেটা কেমন? গবেষকরা বলছেন, এই সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনের যে জিনোম বিশ্লেষণ করা হয়েছে তাতে দেখা গেছে জিনোমের নির্দিষ্ট কিছু অংশকে (আরএনএ সিকুয়েন্স) চিহ্নিত করতে পারলেই কোভিড সংক্রমণ হয়েছে কিনা সেটা বোঝা যায়। ওই নির্দিষ্ট অংশ অন্য কোনও ভাইরাসে থাকে না। যেমন সার্স-কভ-২ ভাইরাসের স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিন (S) ।  এই প্রোটিনের অংশ যদি টেস্ট কিট শনাক্ত করে ফেলে, তাহলেই বোঝা যাবে কোভিড-১৯ সংক্রমণ রয়েছে কিনা। আর এই টেস্ট করতে বেশি সময়ও লাগবে না।

গবেষকরা বলছেন, র‍্যাপিড টেস্টের জন্য অ্যান্টিবডি স্ক্রিনিং টেস্ট করাই যায়, তবে এই টেস্টে সংক্রমণের একটা আভাস পাওয়া যায়। কী ধরনের সংক্রমণ বা কোন জাতীয় ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে সেটা ধরা যায় না। অ্যান্ডিবডি স্ক্রিনিংয়ে সংক্রমণ ধরা পড়লে নিশ্চিত হওয়ার জন্য বারে বারেই রিপিড টেস্ট করতে হয়। অথবা কোন জাতীয় সংক্রমণ সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ফের আরটি-পিসিআর টেস্টই করতে হয়। তাই কম খরচে এমন আরটি-পিসিআর টেস্ট কিট বানানো হয়েছে যা একবারেই নির্ভুলভাবে টেস্টের রিপোর্ট সামনে আনবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More