বুধবার, অক্টোবর ১৬

‘পাকিস্তান মাথা নোয়ালে, ভারত সগর্বে মাথা উঁচু করে রাখবে,’ বার্তা দিলেন সৈয়দ আকবরউদ্দিন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীর সমস্যা মেটাতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বিষয়কেই গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুয়েতেরেস। আগামী সপ্তাহেই রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলতে পারেন তিনি।  এ দিকে কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলকে পাশে পেতে রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চকে পুরোপুরি ব্যবহার করতে মরিয়া ইসলামাবাদ। তাই নিয়ে এ বার পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিল দিল্লি।

রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় কাশ্মীর প্রসঙ্গ টেনে আনা কতটা যুক্তিযুক্ত, এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপুঞ্জে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরউদ্দিনকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, “পাকিস্তান যদি মাথা নিচু করে, ভারত মাথা তুলে দাঁড়াবে।” এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশের কাছেও এই প্রসঙ্গ ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বুঝিয়ে দেব, আমাদের দায়িত্ব কী! আন্তর্জাতিক মহলে বিভিন্ন দেশের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকতে পারে, তাতে কেউ মাথা নোয়াতেও পারে, তবে আমরা মাথা উঁচু করে রাখব। বিষাক্ত পেন বেশিদিন কাজ করতে পারে না।”

পাকিস্তানের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সন্ত্রাসের প্রশ্নও তোলেন আকবরউদ্দিন। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় বিশ্বের সব দেশ একজোট হোক, এটাই চায় ভারত।আমাদের লড়াই সেখানেই। সবাই দেখুক, আন্তর্জাতিক মঞ্চকে কী ভাবে কাজে লাগাতে চাইছে ওরা। সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোই ওদের মূল উদ্দেশ্য। ওরা যেটা করতে পারে, সেটা হল বিদ্বেষের বীজকে আরও খুঁচিয়ে তোলা।”

ভারত সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের পরেই পাকিস্তান বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জে আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছিল। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর নিয়ে আলোচনার জন্য সওয়াল করেছিল পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বন্ধু চিন। সেইমতো জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকও বসে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে। সেখানে ভারত বা পাকিস্তান কেউ ছিল না। শুধু নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসাবে ছিল চিন। সেই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সৈয়দ আকবরউদ্দিন বলেছিলেন, জম্মু-কাশ্মীরের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে ভারত সরকার। সেই সঙ্গে উদ্দেশ্য সন্ত্রাসবাদ সমূলে বিনাশ করা।

রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় ভারতের এই লক্ষ্যকেই আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরতে চান আকবরউদ্দিন। তাঁর কথায়, “ভারত অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। আমরা যে মাথা নোয়াতে শিখিনি, তার প্রমাণ আগেও বহুবার পাকিস্তান পেয়েছে। “

Comments are closed.