তোতলামির জন্য ছাত্রকে চূড়ান্ত অপমান অধ্যাপকের, পাশে দাঁড়ালেন হৃতিক

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলেজের প্রেজেনটেশন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহী ছিল সদ্য টিনএজ পেরনো এক ছাত্র। মন দিয়ে পড়াশোনা করেছিল সে। প্রচণ্ড পরিশ্রম করে বানিয়েছিল নিজের প্রোজেক্ট। কিন্তু মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই তার সব স্বপ্ন একেবারে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন ওই ছাত্রেরই এক শিক্ষক। একঘর লোকের সামনে চূড়ান্ত ভাবে অপমান করে ওই ছাত্রের উদ্দেশে প্রফেসর বলেছেন, “যখন ঠিক করে কথাই বলতে পারো না তখন সকলের সামনে প্রেজেন্টেশন দেখানোরই বা কী দরকার।”

    প্রফেসরের সঙ্গে কিন্তু কোনওরকম অসভ্যতা করেনি ওই ছাত্র। দোষের মধ্যে কেবল কথা বলতে গেলে ছেলেটা বারবার আটকে যায়। গোদা বাংলায় যাকে বলে তোতলা। আর এই সমস্যাটাকেই ওই ছাত্রের খামতি বলে মেনে নিয়েছেন ওই প্রফেসর। বাকি সব পড়ুয়াদের সামনে ছোট করে দিয়েছেন ওই ছাত্রকে। মনোবল তো ভেঙে গিয়েছেই। সেইসঙ্গে নিজেকে খুব অসহায় মনে হয়েছিল ওই ছাত্রের। বাড়ি এসে কষ্টের কথা নিজের এক তুতো দিদির সঙ্গে শেয়ার করেছিল সে। ভাইয়ের সঙ্গে হওয়া গোটা ঘটনার বিবরণ দিয়ে টুইট করেছিলেন দিদি।

    আর কে কে ওই ছাত্রের পাশে দাঁড়িয়েছেন তা অবশ্য জানা যায়নি। তবে এই ঘটনায় ওই ছাত্রের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলিউড স্টার হৃতিক রোশন। কড়া ভাষায় অভিযুক্ত প্রফেসরের সমালোচনা করে একটি টুইট করেছেন হৃতিক। ছাত্রের দিদির উদ্দেশে অভিনেতা লিখেছেন, “প্লিজ তোমার কাজিনকে বোলো ওই প্রফেসর এবং তাঁর ভাবনাচিন্তা দুটোই ভীষণ অপ্রাসঙ্গিক। তোতলামি কাউকে বড় স্বপ্ন দেখানোর থেকে পিছিয়ে রাখতে পারে না। ওকে বোলো এতে ওর কোনও দোষ নেই। ওর লজ্জা পাওয়ারও কিছু নেই। বরং যে লোকগুলো ওকে অপমান করছেন তাঁরা মস্তিষ্কহীন বাঁদরের থেকে ভাল কিছু নন।”

    কিন্তু হঠাৎ কেন ওই পড়ুয়ার পাশে দাঁড়ালেন হৃতিক? কেনই প্রফেসরের আচরণে এতটা ক্ষেপে গেলেন বলিউড তারকা–

    কারণ হৃতিকের নিজের জীবনেও ছিল একই সমস্যা। কথা বলতে গেলে আটকে যাওয়া অর্থাৎ তোতলামির সমস্যা ছিল অভিনেতারও। খুব অল্প বয়স থেকেই নানা ধরনের স্পিচ থেরাপির মাধ্যমে অবশেষে কেটে যায় হৃতিকের এই সমস্যা। কয়েকবছর আগে একথা জানিয়েছিলেন হৃতিকের বোন সুনয়না রোশনও। সুনয়না বলেছিলেন, ১৩ বছর বয়সের ছোট্ট হৃতিক দিবারাত্রি অক্লান্ত পরিশ্রম করত কেবল নিজের তোতলামি দূর করার জন্য। ২২ বছর পর্যন্ত রোজ ভাইকে এমনটাই করতে দেখেছিলেন তিনি। সুনয়নার কথায়, “বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা করেছে হৃতিক। ভাইকে দেখতাম বারবার নিজের ভয়েস রেকর্ড করে শুনছে। মন দিয়ে বোঝার চেষ্টা করত কোন হিন্দি শব্দের উপর ওকে জোর দিতে হবে। ঘরের মধ্যে একটা বোর্ডে সেই শব্দগুলো লিখে রাখত হৃতিক। আর বারবার ওগুলোই আওড়াতো।”

    কেবল নিজের জীবনের সমস্যাই দূর করেননি হৃতিক। সাহায্য করেছিল আর এক বলিউড তারকাকেও। অভিনেত্রী সমীরা রেড্ডি একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন তাঁকে একটি বই উপহার দিয়েছিলেন হৃতিক। স্পিচ প্রবলেম দূর করার জন্য হৃতিকের সাহায্য তাঁর খুব কাজে লেগেছিল বলেও জানিয়েছিলেন সমীরা।

    অভিনেতার নিজের জীবনে এই সমস্যা ছিল বলেই বোধহয় ওই ছাত্রের সমস্যাগুলো এতটা ভালভাবে বুঝতে পেরেছেন হৃতিক। সবাই যেভাবে ওই ছাত্রকে ‘বুলি’ করত হয়তো ছোটবেলায় তেমনটা হয়েছিল হৃতিকের সঙ্গেও। আর তাই-ই এক পড়ুয়ার সঙ্গে তার প্রফেসরের এ হেন আচরণে বেজায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন অভিনেতা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More