বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

ভালোবাসার মিলন ‘কারেজ়া’, তান্ত্রিকরা বলেন সাধনার পথ, ডাক্তাররা বলেন যৌন সমস্যা দূরে রাখে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৩১ সালে জে উইলিয়াম লিয়ড তাঁর বই ‘দ্য কারেজ়া মেথড’ (The Karezza Method)-এ বলেছিলেন, মিলন মানেই লাগামছাড়া যৌনতা নয়। শরীরী মিলনের প্রতিটা পর্যায় হবে ভালোবাসার চাদরে মোড়া। তবেই প্রেম পূর্ণতা পাবে। পরবর্তীকালে আমেরিকার এক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অ্যালিস বি স্টকহোম এই বইয়ের উপযোগিতার কথা প্রমাণ করেন। তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রী অথবা প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্ককে অনেক বেশি দৃঢ় করে এই কারেজ়া। লিয়ডের দেখানো পদ্ধতি পরবর্তীকালে শিলমোহর পায় চিকিৎসক মহলে।

ভালোবাসার গভীরতা দিয়ে মাপা হয় কারেজ়া

কারেজ়া এই শব্দটার সঙ্গে অনেকেরই পরিচয় নেই। লিয়ড বলেছিলেন ১৮৪৪ সালে নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা জন হামফেরি প্রথম এই পদ্ধতির আবিষ্কার করেছিলেন। তবে সেই সময় তাঁর কথাকে নিছক ধাপ্পা বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। লিয়ডের বইয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে পরবর্তীকালে চিকিৎসাবিজ্ঞান এই প্রক্রিয়াকে মান্যতা দেয়।
কারেজ়া (Karezza) যৌন মিলনেরই আর এক নাম। তবে উদ্দাম সেক্স নয়। এমন মিলন, যাতে পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা-শ্রদ্ধা জড়িয়ে আছে। এই মিলনে অর্গাজম হয় না। তার জন্য শরীরের নিয়ন্ত্রণ রাখতে হয় দু’জনকেই। কারেজ়া এমন একটা স্পর্শ যাতে এক শরীর আবেগে আলিঙ্গন করে অন্য শরীরকে। পাশে থাকার আশ্বাস দেয় শরীরী ছোঁয়ায়। মিলন হয় অনেক ধীর ও বিলম্বিত প্রক্রিয়ায়।
অ্যালিস স্টকহোম বলেছিলেন, কারেজ়া (Karezza) এই শব্দটা এসেছে ইতালিয়ান শব্দ কেয়ারেজ়া (Carezza) থেকে। যার মানে Caress। সহজ ভাষায় আদর। এর অনেকগুলো বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি রয়েছে, যার বিস্তারিত বর্ণনা উইলিয়াম লিয়ড তাঁর বইতে দিয়েছেন।

হিন্দু শাস্ত্রে ‘মৈথুন’, যোগের পদ্ধতি ‘সহজা’

হিন্দু তান্ত্রিক উপাসনায় সঙ্গমের এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। হিন্দু যোগেও এর বিশেষ উল্লেখ আছে। তান্ত্রিকরা বলেন, শরীরী মিলনে স্বর্গীয় সুখের অনুভূতি ঈশ্বর সাধনার পথকে প্রশস্ত করে। মার্জিত, রুচিশীল মিলন আত্মাকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যায়, যেখানে পরমাত্মার সঙ্গে তার মিলন হয়। তিব্বতের তান্ত্রিক উপাসনায় সঙ্গমের এই পদ্ধতিকে বলে “cai Yin pu Yang” and “cai Yang pu Yin“।

অর্গাজমকে এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। অর্থাৎ জন্ম নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কানাডার এক মনোবিদ রিচার্ড এম বিউক তাঁর বই ‘Cosmic Consciousness’-এ লিখেছিলেন যোগগুরুদের এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি বিজ্ঞানসম্মত। তাঁর মত ছিল কারেজ়া আসলে ‘Spiritual Love’। বাস্তব জীবনে অভ্যাস করতে পারলে সম্পর্কের বাঁধন অনেক মজবুত হয়।

যৌন ব্যধি দূরে থাকে, প্রোস্টেট ক্যানসারের সম্ভাবনা কমে

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই পদ্ধতির প্রয়োগ এখন সর্বাধিক। বিশেষত জেন্ডার অ্যান্ড সেক্সুয়াল থেরাপি সেন্টারগুলোতে এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে দম্পতিদের বোঝানো হয়।

কী কী সুবিধা মেলে?
বর্তমানের ব্যস্ত সময় সবকিছুই যান্ত্রিক হয়ে গেছে। মিলনও সেই পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। ফলে গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ মহিলা এবং পুরুষ সেক্সুয়াল স্টিমুলেশন সত্ত্বেও অর্গাজম না হওয়ার প্রক্রিয়ায় ভোগেন। যৌনমিলনকে একটা নিয়ম বা দায়িত্ব হিসাবে দেখেন। তাঁরা ভুলে যান ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে মিলন তাঁদের মানসিক ও শারীরিক আনন্দ দিতে পারে। নিজেদের ভাল লাগা বা খারাপ লাগা গুলো নিয়ে তাঁরা সহজে মুখ খোলেন না। ফলে মিলনটা তাদের কাছে বহু ক্ষেত্রেই যান্ত্রিক হয়ে ওঠে। সেখানে কারেজ়া একটা থেরাপি, যেটা বোঝায় যান্ত্রিক নয় ভালোবাসাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাও।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন,‘I Love You’এই কথাটাও কারেজ়া থেরাপির একটা অঙ্গ। দম্পতিরা আজকাল এই ছোট্ট কথাটা একে অপরকে বলতে ভুলে যান। অ্যানঅর্গাসমিয়ার পিছনে এটাও একটা বড় কারণ।
তা ছাড়া এই পদ্ধতিতে মিলন দীর্ঘস্থায়ী হলে সংক্রমণ জনিত রোগের সম্ভাবনা কমে। পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। যন্ত্রণাহীন ঋতুস্রাবের জন্যও কারেজ়া পদ্ধতির অভ্যাস করতে বলেন চিকিৎসকরা।

পড়তে ভুলবেন না

Comments are closed.