ত্বকে হঠাৎ জেগে উঠেছে আঁচিল, ঘায়েল হবে কিসে, সহজ থেরাপি বললেন বিশেষজ্ঞরা

ডারমাটোলজিস্টরা বলছেন, আঁচিলকে ঘায়েল করতে না পেরে অনেকেই বিস্তর টানাটানি করে তার মুখ ফাটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাতে হিতে বিপরীত হয়। সেই অংশের ত্বকে আরও ভাল করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।

১১৭

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝকঝকে তকতকে ত্বকে গজিয়ে ওঠা একখণ্ড মাংসপিণ্ড তুলকালাম কাণ্ড ঘটাতে পারে। হইচই, ছুটোছুটি শুরু হয়ে যেতে পারে। হঠাৎ করে জেগে ওঠা একটা মাংসল জিনিস আর তার থেকে ফণা তোলা একপিস মোটা লোম স্টাইল স্টেটমেন্টের বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে। এই মাংস পিণ্ড আর কিছুই না অত্যন্ত বিরক্তিকর আঁচিল। কারও আবার জন্ম থেকেই থাকে, কারও আচমকা সক্রিয় আগ্নেয়গিরির মতো মাথা তুলে জেগে ওঠে। তারপরেই শুরু হয় হইচই। ওষুধ, ঘরোয়া টোটকা, গুগল-ইউটিউব ঘেঁটে আঁচিল-মুক্তির চেষ্টা।

ডারমাটোলজিস্টরা বলছেন, আঁচিলকে ঘায়েল করতে না পেরে অনেকেই বিস্তর টানাটানি করে তার মুখ ফাটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাতে হিতে বিপরীত হয়। সেই অংশের ত্বকে আরও ভাল করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকটা সংক্রমণই বটে। কারণ আঁচিলের কারণ সেই ভাইরাস। স্কিন স্পেশালিস্টরা বলছেন, ত্বকে অবাঞ্ছিত মাংসখণ্ড গজিয়ে ওঠার কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) । ৬০ রকমের এইচপিভি আছে। আঁচিলের ধরন ও বৈশিষ্ট্য তাই নানা রকম। মুখ, হাত, ঘাড়, হাতের আঙুল, পায়ের পাতা বা গোড়ালি এমনকি যৌনাঙ্গেও আঁচিল জন্মায়।

এই আঁচিল নানারকম। ডার্মাটোলজিস্টরা বলছেন, সাধারণত তিন রকমের আঁচিল বেশি দেখা যায়।

প্ল্যান্টার ওয়ার্ট (Planter Wart)—মাংসল আঁচিল পায়ের পাতা, গোড়ালিতে দেখা যায়। রঙ অনেকটা হাল্কা হয়। কখনও হাল্কা বাদামি রঙের এমন আঁচিলও দেখা যায়। অনেকের ক্ষেত্রে ত্বকের ওই অংশে রক্ত জমাট বেঁধে আঁচিলের আকার বড় হয়ে ওঠে। অনেকটা অংশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে প্ল্যান্টার ওয়ার্ট।

জেনিটাল ওয়ার্ট—রক্তের মতো লাল রঙ বা হাল্কা গোলাপি রঙের হয়। যৌনাঙ্গ বা তার আশপাশে এই ধরনের আঁচিল বেশি দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইচপিভি ভাইরাসের সংক্রমণে এই ধরনের আঁচিল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সাধারণত যন্ত্রণাহীন হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে এই আঁচিলের চারপাশে র‍্যাশ, চুলকানি হতে দেখা যায়। রক্ত জমাট বাঁধে অনেকের ক্ষেত্রে।

ফ্ল্যাট ওয়ার্ট- এই ধরনের আঁচিল কমবয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। ছোট ছোট লালচে-বাদামি মাংস খণ্ড মুখে, হাতে, হাতের আঙুলে বা পায়ে দেখা যায়। মহিলাদেরই এই ধরনের আঁচিল বেশি দেখা দেয়।

গাদা গাদা ওষুধ বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ না নিয়েই ইউটিউব থেকে বের করা থেরাপি কাজে লাগাতে গিয়ে অনেকেই বিড়ম্বনায় পড়েছেন। ডার্মাটোলজিস্টরা বলছেন, আঁচিলকে ঘায়েল করা সম্ভব। তার জন্য অনেক ঘরোয়া টোটকা আছে। থেরাপিও আছে।


আঁচিল যাবে কিসে

স্যান্ডপেপার-ডাক্ট টেপ—বাড়িতেই এই পদ্ধতিতে আঁচিলের আগাগোড়া নষ্ট করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্যান্ডপেপার ও ডাক্ট টেপ একসঙ্গে আঁচিলের উপর চেপে বসিয়ে দিতে হবে। এক সপ্তাহ যদি টানা এই পদ্ধতি করা যায় তাহলে আঁচিল সমূলে বিনষ্ট হবে। যদি সাদা ও ছোট আঁচিল গজিয়ে ওঠে হাতের আঙুলে বা পায়ে, তাহলে স্যান্ডপেপার দিয়ে বার বার ঘষে তার বাইরে আবরণ তুলে ফেলা যায়। এরপর কয়েকদিন ডাক্ট টেপ লাগিয়ে রাখলেই আপনা থেকি আঁচিল খসে পড়ে যায়।

ক্রায়োথেরাপি—আঁচিলে যদি ব্যথা থাকে বা জ্বালা-চুলকানি থাকে তাহলে এই পদ্ধতি উপযোগী। ক্রায়োথেরাপিতে আঁচিলকে জমিয়ে দেওয়া হয় তরল নাইট্রোজেন দিয়ে। ফলে ত্বকের ওই অংশে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না বা কোনওরকম প্রদাহ হয় না। এই থেরাপি একমাত্র বিশেষজ্ঞ বা ডাক্তারের কাছে গিয়েই করা উচিত।

অ্যাপল সিডার ভিনিগার ও অ্যালোভেরা—অ্যাপল সিডার ভিনিগারে যে অ্যাসিড থাকে সেটা প্রাকৃতিভাবে আঁচিলকে পুড়িয়ে দেয়। ভিনিগারে তুলো ভিজিয়ে আঁচিলের উপর চেপে রাখলে ফল মেলে। পাঁচ-সাত দিন এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে দেখা যেতে পারে। ত্বকের যে কোনও সমস্যায় অ্যালোভেরা উপযোগী। অ্যালোভেরার পাতা কেটে ভেতরের থকথকে জেলিটা আঁচিল বা জরুলের উপর লাগিয়ে রাখলে তাড়াতাড়ি ফল পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যালোভেরার ম্যালিক অ্যাসিডে আঁচিল নষ্ট হয়ে যাবে।

রসুনের অ্যালিসিন–বিশেষজ্ঞরা বলেন রসুনের অ্যালিসিন উপাদান আঁচিল সারাতে কাজে আসে। কারণ অ্যালিসিনের অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণ আছে। রসুন থেঁতো করে তার রস লাগালে অনেক সময়েই উপকার পাওয়া যায়। যে কোনও রকম প্রদাহ কমাতে কাজে আসে অ্যালিসিন। এর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট গুণও আছে।

স্যালিসাইলিক অ্যাসিড—আঁচিল বা জরুলের উপরে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড লাগিয়ে রাখলেও উপকার মেলে। জেল, লোশন বা প্যাড যাতে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড আছে, ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ত্বকের ধরন বুঝে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

ওষুধ—বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইচপিভি ভাইরাসের সংক্রমণ ভেতর থেকে রুখতে ব্লেওমাইসিন ইঞ্জেকশন দেন ডাক্তাররা। যাদের আঁচিলের সমস্যা বেশি বা এই কারণে ত্বকে কোনওরকম সংক্রমণ ছড়িয়েছে তাদের এই থেরাপি করা হয়। তাছাড়া ইমিকুইমোড নামে ইমিউনোথেরাপি ড্রাগ ব্যবহার করা যায়। এই ওষুধ ভেতর থেকে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে সংক্রমণ আটকায়। জেনিটাল ওয়ার্টের সমস্যা বেশি হলে এই থেরাপি করেন ডাক্তাররা।

লেজার থেরাপি—সারা শরীরে যদি আঁচিল ছড়িয়ে পড়ে তাহলে লেজার ট্রিটমেন্টে কৃত্রিমভাবে আঁচিল পুড়িয়ে নষ্ট করে ফেলা যায়। তবে এই থেরাপি ডাক্তারের কাছে ছাড়া সম্ভব নয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More