ফ্যাটি লিভার বড় অসুখের ছোট ধাপ, লুকিয়ে আছে মারাত্মক ঝুঁকি: ডক্টর মহেশ গোয়েঙ্কা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

ডক্টর মহেশ গোয়েঙ্কা

(ডিরেক্টর, ইনস্টিটিউট অফ গ্যাস্ট্রোসায়েন্সেস, অ্যাপোলো হাসপাতাল)

লিভারের বিভিন্ন সমস্যা চট করে ধরা পড়ে না বেশিরভাগ সময়েই। সমস্যা থেকে অসুখে পরিণত হতে থাকে শরীরের ভিতরেই। অনেক সময়েই এমন হয়, যখন লিভারের অসুখ ধরা পড়ে তখন বেশ খানিকটা ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। অনেক সময়ে সে ক্ষতি সারানোও কঠিন হয়ে ওঠে।

তাই আগে থেকেই লিভার নিয়ে কীভাবে সতর্ক হওয়া যায়, কীভাবে যত্ন নেওয়া যায় লিভারের, সেটা জেনে রাখা জরুরি। বিশেষ করে এই অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের সময়ে আলাদা করে লিভারকে গুরুত্ব দিতেই হবে। তাই লিভারের নানা সমস্যা, ছোট সমস্যা কীভাবে লিভার ক্যানসারের মতো মারণ অসুখে পরিণত হতে পারে তার বিশ্লেষণ, যদি এমনটা হয় তাহলে চূড়ান্ত ধাপে লিভার প্রতিস্থাপনই বা কীভাবে হতে পারে– এই সবটা নিয়ে সহজ করে আলোচনা করলেন সিনিয়র গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট এবং অ্যাপোলো গ্লেনেগলস হাসপাতালের ডিরেক্টর অফ ইনস্টিটিউট অফ গ্যাস্ট্রোসায়েন্সেস, ডক্টর মহেশ গোয়েঙ্কা।

ফ্যাটি লিভার

আশ্চর্যের বিষয় হল, ফ্যাটি লিভারের সমস্যা মানুষের শরীরে চিরকালই ছিল। কিন্তু এটা এমন ভয়াল অসুখ কখনও ছিল না। এই সমস্যা তথা অসুস্থতার ধরন ও গড়ন গত ২০-২৫ বছরে আমূল বদলে গেছে। তার আগে পর্যন্ত একে ততটা ক্ষতিকর নয় বলেই মনে করা হতো। এ নিয়ে না রোগীরা খুব বেশি উদ্বিগ্ন হতেন, না চিকিৎসকরা সেভাবে গুরুত্ব দিতেন। কিন্তু গত কয়েক দশকে আমরা বুঝেছি, এই অসুখটা চরম খারাপ দিকে যেতে পারে। তাই এখন এ নিয়ে আলোচনা ও সচেতনতা দুই-ই বেড়েছে।

আমাদের লিভারে সকলেরই সাধারণ মাত্রায় ফ্যাট অর্থাৎ স্নেহ পদার্থের উপস্থিতি থাকে। কিন্তু তা ৫ শতাংশের বেশি থাকলে, তখনই তা ‘ফ্যাটি লিভার’ নামক অসুখ হয়ে ওঠে। তবে ব্যাখ্যা করে বলতে গেলে, এটা আসলে কোনও অসুখ নয়। এটাকে অসুখের একটা ধাপ বলা যায়। কারণ প্রথমে ফ্যাটি লিভার দিয়ে শুরু হলেও, পরে তা লিভারের বড় সংক্রমণ ঘটানোর ঝুঁকি বাড়ায়। সেখান থেকে হতে পারে সিরোসিস, যার চূড়ান্ত পর্ব লিভার ক্যানসার।

তার মানে এই নয় যে সমস্ত ফ্যাটি লিভার এভাবেই খারাপতম চেহারা নেবে। কিন্তু বিশ্বে মোট যত মানুষের ফ্যাটি লিভার আছে, তাঁদের মধ্যে ২০ শতাংশ মানুষের ফ্যাটি লিভার খারাপ দিকে যায়।

অনেক সময় ফ্যাটি লিভারের কোনও উপসর্গই দেখা যায় না। কখনও আলট্রা সোনোগ্রাফি বা লিভার ফাংশন টেস্টে হয়তো ধরা পড়ল ফ্যাটি লিভার। সেটা মাত্রাতিরিক্ত মনে হলে তা এমআরআই করে দেখা হয়। লিভার বায়প্সি-ও করা হতে পারে চিকিৎসকরা যদি প্রয়োজন বোঝেন। তার পরেই নিশ্চিত ভাবে বোঝা যায় ফ্যাটি লিভার কোন স্তরে আছে, তার চিকিৎসা কী হবে।

ফ্যাটি লিভার কাদের হয়?

যাঁরা নিয়মিত বেশি অ্যালকোহল খান তাঁদের ফ্যাটি লিভার হওয়ার আশঙ্কা স্বাভাবিক ভাবেই অনেক বেশি। লিভারের সঙ্গে মদের এই বৈরিতার কথা সকলেই প্রায় জানেন। কিন্তু আজ আমরা তাঁদের কথা বলব, যাঁরা অ্যালকোহল না নিয়েও ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হচ্ছেন।

ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল– এই সব অসুখ থাকলে ফ্যাটি লিভার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি হয়। শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়াও ফ্যাটি লিভারের একটা কারণ হতে পারে। তার মানে এই নয়, রোগা মানুষদের ফ্যাটি লিভার হবে না। চিকিৎসা পরিভাষায় একটা টার্ম আছে, ‘লিন ফ্যাটি লিভার’। এর ফলে রোগা চেহারার মানুষের লিভারেও ফ্যাট জমে।

ফ্যাটি লিভার আটকাবেন কী ভাবে?

এই সমস্যা বিপদের ঝুঁকি বাড়ালেও, একটা পর্যায় পর্যন্ত তা ঠেকানো কিন্তু অসম্ভব কিছু নয়। কারও যদি ডায়াবেটিস, ওবেসিটির মতো সমস্যা থাকে, তাঁদের সেটা আগে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ফিট থাকতে হবে, ডায়েটিং করতে হবে। তাহলে ফ্যাটি লিভার হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। তবে যাঁদের ফ্যাটি লিভার হয়ে গেছে, তাঁরাও যদি নিয়মে থাকেন, জীবনযাপনে সংযম মেনে চলেন, শরীরের প্যারামিটারগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখেন, তবে ফ্যাটি লিভারের ক্ষতিকর প্রভাবও থেমে যাবে। কিছু ওষুধও আছে, যা ফ্যাটি লিভারকে বাড়তে দেয় না। কিন্তু এমন কোনও ম্যাজিক্যাল ওষুধ নেই, যা খেলেই ফ্যাটি লিভার সেরে যাবে।

When the liver gets fatty - Harvard Health

ফ্যাটি লিভার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই, কিন্তু এটা অবহেলা করা যাবে না। তাহলে মুশকিল। আমি ভয় দেখাচ্ছি না, তবে এটা সত্যি, যে ফ্যাটি লিভার কিন্তু লিভার ক্যানসারের প্রথম ধাপ।

লিভার ক্যানসার

সমস্ত ক্যানসারই খারাপ। কিন্তু লিভার ক্যানসার একটু বেশিই খারাপ। কারণ এর চিকিৎসা এখনও খুব ভাল ও নিশ্চিত নয়। তাছাড়া প্রথম পর্যায়ে ধরা পড়ে না এই ক্যানসার। ফলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হাতের বাইরে বেরিয়ে যায় পরিস্থিতি। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে, কী করে বোঝা যাবে এই ক্যানসার শরীরে ঘনাচ্ছে বলে। যাঁদের ইতিমধ্যেই লিভারের কোনও অসুখ আছে, তা সিরোসিস হোক বা ফ্যাটি লিভার, তাঁদের নিয়মিত স্ক্রিনিং করা উচিত। প্রতি ৬ মাসে আল্ট্রাসাউন্ড করা যেতে পারে। এর ফলে কখনও সমস্যার সূত্রপাত হলে, তা প্রথম পর্যায়ে ধরা পড়বে। লিভার ক্যানসারের ডায়াগনসিস অনেক দ্রুত হবে।

আর প্রথম দিকে ধরা পড়লে, নিয়ম মেনে চিকিৎসা করলে পুরোপুরি নিরাময় হতে পারে লিভার ক্যানসারও। তা রেডিয়েশন দিয়ে হোক বা লিভারের অংশ অস্ত্রোপচার করে হোক। কিন্তু যদি তা না হয়, অর্থাৎ একটু বেশি ছড়িয়ে যায় ক্যানসার, তাহলে লিভার সারানো মুশকিল। আমরা চেষ্টা করি লিভারে সরাসরি কিছু ওষুধ পৌঁছতে, তাতে সংক্রমণ একটু নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। কিন্তু পুরোপুরি সারানো প্রায় অসম্ভব।

লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট

গত কয়েক বছর ধরে সারা পৃথিবীতেই অনেকটা পপুলার হয়েছে লিভার প্রতিস্থাপন। আমাদের দেশেও অনেক প্রতিস্থাপন হচ্ছে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। হয়তো ১০০ জনের প্রতিস্থাপন প্রয়োজন হলে আমরা ১ জন বা ২ জনের ক্ষেত্রে তা করতে পারছি। কিন্তু এই সংখ্যাটা এত কম কেন? কারণটা জানার জন্য আমাদের জানতে হবে, লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট আসলে কী।

সহজ কথায় বলতে গেলে, কোনও মানুষের লিভারের অংশ বা পুরো লিভারটা অন্য মানুষের শরীরে বসানোই হল লিভার প্রতিস্থাপন। কোনও ক্ষেত্রে এটা হতে পারে, মস্তিষ্কের মৃত্যু হওয়ার পরে সেই মানুষের লিভারটি সংগ্রহ করে রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হল। আর অন্য একটি ক্ষেত্রে হতে পারে, রোগীর আত্মীয় বা ব্লাডগ্রুপ মিলে যাওয়া কারও শরীর থেকে ৪০-৬০ শতাংশ লিভার সংগ্রহ করে রোগীর শরীরে বসানো হল।

Liver Cirrhosis Treatment In Kolkata

আমাদের দেশের পরিস্থিতিতে দেখা যায়, ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে আত্মীয় বা পরিবার লিভার দিচ্ছেন রোগীকে। বাকি ২০ শতাংশ হচ্ছে মৃত্যু পরবর্তী অঙ্গদানের কারণে। ইউরোপের দেশগুলিতে ছবিটা উল্টো। মস্তিষ্কের মৃত্যু হওয়া মানুষের অঙ্গদানের কারণে লিভার প্রতিস্থাপিত হচ্ছে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে। আমাদের দেশেও এমনটা সম্ভব। সেক্ষেত্রে অঙ্গদান আরও বাড়াতে হবে। এ দেশে প্রতিদিন বহু মানুষের মস্তিষ্কের মৃত্যু ঘটে পথ দুর্ঘটনায়। সেই সব মানুষের লিভারগুলি ভাল অবস্থায় থাকে। তা পাওয়া গেলে অনেকের লিভার প্রতিস্থাপিত করা যেতো। তবে আমাদের দেশ এখনও এই ব্যাপারে পিছিয়ে আছে খানিকটা। অনেক পরিবারই চান না, তাঁদের মানুষের শরীর কাটাছেঁড়া করে অঙ্গ নেওয়া হোক।

কিন্তু এই ধারণা বদলাতে হবে। অঙ্গদানে উৎসাহ দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, মৃত মানুষটি অন্য মানুষকে বাঁচাতে পারছেন। এটা খুব জরুরি।

অনেক সময়ে অনেকে জানতে চান, জীবিত মানুষের লিভার দিয়ে দিলে সে বাঁচবে কী করে। মনে রাখতে হবে, আমাদের যেমন দুটো কিডনি আছে, দুটো ফুসফুস আছে, তেমনই অনেকগুলো লিভারও আছে। সব মিলিয়ে আটটা লিভার আছে আমাদের। আটটা লিভার একজায়গায় জমা হয়ে আমাদের একটি লিভার তৈরি হয়েছে। তা থেকে আমরা খানিকটা কেটে দিয়ে দিলে অনায়াসে বাঁচব আমরা। শুধু তাই নয়, কাটা অংশটা খুব তাড়াতাড়ি তৈরিও হয়ে যায় শরীরে। ফলে লিভার দান করার জন্য আরও অনেক মানুষ এগিয়ে আসতে পারেন। কোনও রোগীর সঙ্গে প্যারামিটারগুলো ম্যাচ করলে লিভার দেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

হেপাটাইটিস কী ও কেন, কী কী উপসর্গ থাকে

হেপাটাইটিস একটা বড় ব্যাপার। লিভারের সংক্রমণ হলে তবে সেই অসুখের নাম হেপাটাইটিস। এই সংক্রমণ অ্যালকোহলের জন্য হতে পারে, কিছু বিশেষ ওষুধের কারণে ঘটতে পারে, ভাইরাসের জন্যও হতে পারে। আমরা আজ ভাইরাল হেপাটাইটিস নিয়েই কথা বলব।

হেপাটাইটিস ভাইরাসের ৫টি স্ট্রেন আছে। এ, বি, সি, ডি, ই। এদের মধ্যে এ এবং ই ভাইরাস রক্তবাহিত নয়, এটা খাবার বা স্পর্শ মাধ্যমে ছড়ায়। তবে বি এবং সি স্ট্রেনটি রক্তের মাধ্যমে, যৌন সংসর্গের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। মা থেকে সন্তানের শরীরেও সংক্রামিত হয়। সব হেপাটাইটিসই খারাপ। কিন্তু বি ও সি বড় ক্ষতি করে। ক্রনিক রোগ সৃষ্টি করে।

Hepatitis C: Three new strains found in Africa - Outbreak News Today

এই মুহূর্তে বিশ্বে ৫০ কোটি মানুষ ক্রনিক হেপাটাইটিসে ভুগছেন। তার মধ্যে ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৫ কোটি মানুষ আমাদের দেশে হেপাটাইটিস বি ও সি অসুখে ভুগছেন। প্রতি বছরের লক্ষ লক্ষ মানুষ মারাও যাচ্ছেন এই অসুখে।

প্রথম দিকে এই ভাইরাল সংক্রমণের কোনও উপসর্গ নাও থাকতে পারে। কিন্তু অসুখের মাত্রা বেশি হলে লিভার সংক্রামিত হয়, পেটে জল জমে, কিডনিতে সমস্যা হয় এমনকি রোগী কোমাতেও চলে যেতে পারেন। শুধু তাই নয়, এই হেপাটাইটিস বি এবং সি লিভার ক্যানসারের কারণ। আমরা যত লিভার ক্যানসারের রোগী পাই, তার প্রায় ৮০ শতাংশের কারণ হেপাটাইটিস। আমরা জানি, লিভার ক্যানসার খুবই বাজে ধরনের ক্যানসার। এর বেঁচে থাকার হার খুবই কম। লিভার ক্যানসার হওয়ার পরে ৫ বছরের বেশি বেঁচে থাকা কার্যত বিরল ঘটনা।

কীভাবে নির্মূল সম্ভব এই অসুখ

নির্মূল করতে হলে আগে এই ভাইরাল হেপাটাইটিসকে আমাদের গুরুত্ব দিতে শিখতে হবে। এই বছরের হেপাটাইটিস দিবসের একটা মূল বক্তব্য হল, যে লক্ষ লক্ষ মানুষ হেপাটাইটিস সংক্রমণ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাঁদের খুঁজে বের করা জরুরি। কারণ নিজেদের অজান্তেই বহু মানুষ এই সংক্রমণ বহন করছে।

২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবী থেকে হেপাটাইটিস দূর করার অঙ্গীকার করেছে হু। ২০১৬ সালের এই অঙ্গীকারে সমস্ত দেশের সরকারে একমত হয়েছিল। কিন্তু এই চার বছরে আমরা তেমন এগোতে পারিনি। অথচ এই অসুখ কিন্তু রোখা সম্ভব। টেস্ট করে ভ্যাকসিন নিলেই নির্মূল করা সম্ভব। যে কোনও বয়সে এটা করা যেতে পারে।

Five Fast Facts About Viral Hepatitis | GoHealth Urgent Care

হেপাটাইটিস বি বা সি থাকলে সবসময় যে খুব কঠিন চিকিৎসা চালাতে হয়, তা নয়। তেমন তীব্র উপসর্গ না থাকলে প্রাথমিক অবস্থায় ওষুধ না দিলেও চলে। তবে কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘকালীন ওষুধ দিয়ে ভাইরাসকে দমন করে রাখতে হয়। তবে কোনওটাই খুব অসাধ্য বা অসম্ভব চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। সহজেই এই চিকিৎসা করা সম্ভব। তাই কেউ ভয় পাবেন না, দ্বিধা রাখবেন না।

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় লিভারের সংক্রমণ

প্রেগন্যান্সিতে যে কোনও অসুখই হতে পারে মায়ের। হেপাটাইটিসও ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু এক্ষেত্রে উদ্বেগটা অনেক বেশি। কারণ মা ও বাচ্চা দু’জনেরই ঝুঁকি রয়ে যাচ্ছে। মায়ের থেকে শিশুর শরীরে হেপাটাইটিস সংক্রমণ খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। তাই এক্ষেত্রে প্রেগন্যান্ট অবস্থাতেই মায়ের চিকিৎসা শুরু করতে হবে সংক্রমণ চিহ্নিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। আর শিশুর জন্মের পরে হেপাটাইটিসের সাধারণ ভ্যাকসিনের পাশপাশি তাকে ইমিউনোগ্লোবিউন-ও দিতে হবে ভাইরাস নিকেশ করার জন্য।

After baby is born: what to expect | Raising Children Network

এছাড়া অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় পিত্তের প্রবাহ কমে যাওয়ায় লিভারের সমস্যা হতে পারে। ফ্যাটি লিভারও হয় এই সময়ে। এটা কিন্তু খুব খারাপ অসুখ। মর্টালিটি রয়েছে এই ধরনের ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে। এমনটা ধরা পড়লে, তাড়াতাড়ি বাচ্চার ডেলিভারি করানোর চেষ্টা করি আমরা। ডেলিভারির পরে দেখা যায়, মায়েদের সেরে ওঠার সম্ভাবনা বাড়ে। হবু মায়েদের বলব, খুবই সাবধানে এবং নিয়মিত চেক আপে থাকতে হবে। কোনও রকম উপসর্গ বা ইঙ্গিত মিললে তার চিকিৎসা শুরু করতে হবে দ্রুত।

করোনা ও লিভারের অসুখ

গত কয়েক মাস ধরে সর্বত্র কেবল কোভিড নিয়ে আলোচনা চলছে। আমরা জানি, কোভিড ১৯ সংক্রমণটি মূলত শ্বাসযন্ত্রকে প্রভাবিত করে। ফুসফুসের ক্ষতি হয় এতে। জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া– এইসব উপসর্গ দেখা দেয় এই ভাইরাসের সংক্রমণে। তবে এ কথা মনে রাখতে হবে, যে রিসেপটর সিস্টেমটি ফুসফুসে রয়েছে, অর্থাৎ ফুসফুসে প্রবেশ করে করোনাভাইরাস যেখানে আক্রমণ করছে, সেই একই রিসেপটর সিস্টেম কিন্তু লিভার-সহ শরীরের অন্য অঙ্গগুলোতেও রয়েছে। ফলে কোভিড সংক্রমণ কিন্তু লিভারকেও আক্রমণ করতে পারে। এটা দেখা গেছে, যাঁদের কোভিড হচ্ছে, তাঁদের তিন ভাগের দু’ভাগ মানুষের লিভার ড্যামেজ দেখা যাচ্ছে। সেটা খুব বড় মাপের না হলেও, সমস্যা একটা হচ্ছেই।

See Acute Hepatitis? Consider COVID-19, NY Case Suggests

আবার উল্টোদিকে, কোভিডের সমস্যা আরও বেশি হতে পারে, যদি আগে থেকেই রোগীর লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। এমন কোনও রোগী, যাঁদের লিভারের অসুখের চিকিৎসা চলছে, স্টেরয়েড চলছে, তাঁদের কোভিডের রিস্ক এবং বাড়াবাড়ি হওয়ার ঝুঁকিও বেশি। কারণ লিভারটা দুর্বল হয়ে থাকলে, ভাইরাসের কারণে সহজেই আক্রান্ত হচ্ছে। এক্ষেত্রে অনেক সময়ে স্টোরয়েডের ডোজ় কমিয়ে দেওয়াও জরুরি।

লিভার ভাল রাখার উপায়

সংযমী ডায়েট এবং লাইফস্টাইলের ভারসাম্য যে কোনও রোগকে রুখতেই জরুরি। কিন্তু লিভারের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব আরও বেশি। আর জরুরি পরিচ্ছন্নতা। কারণ লিভারের অসুখের একটা বড় কারণ ভাইরাল হেপাটাইটিস। সেক্ষেত্রে খাবার থেকেই হেপাটাইটিস এ ও ই ছড়াচ্ছে। তাই পরিচ্ছন্নতা মেনে চলতেই হবে। হেপাটাইটিস বি-এর জন্য তিনটি ভ্যাকসিনের ডোজ় রয়েছে। সেটা নিয়ে নিলেও ভাইরাল সংক্রমণের হাত থেকে লিভারকে বাঁচানো যেতে পারে।

How diet, exercise and medication play a role in your heart health

আর একটা কথা বলতেই হবে এ প্রসঙ্গে। অ্যালকোহল যদি নিতেই হয়, তাহলে পরিমাণ খুব কম রাখতে হবে। রোজ খেলে চলবে না। রোজ অ্যালকোহল খেলে লিভার জখম হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। এছাড়াও বেশ কিছু ওষুধ রয়েছে, রক্তচাপের বা মৃগীর বা টিবির– তাঁদের ওষুধগুলি লিভারের ক্ষতি করে। এমন ওষুধ কেউ নিয়মিত খেলে তাঁদের সময়ান্তরে পরীক্ষা করানো উচিত।

ডায়েট, এক্সারসাইজ, অ্যালকোহল না খাওয়া, ভ্যাকসিন নেওয়া– এই কয়েকটা জিনিস মাথায় রাখলে লিভার ভাল থাকবে। বা লিভারকে ভাল রাখার জন্য এই কয়েকটা জিনিস আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More