বুধবার, আগস্ট ২১

ডেঙ্গুর মতো কিন্তু ডেঙ্গু নয়, কলকাতায় বাড়ছে স্ক্রাব টাইফাসের হানা

সোহিনী চক্রবর্তী

ডেঙ্গির প্রকোপ এ শহরে নতুন নয়। কিন্তু জানেন কি, এ শহরে হানা দিয়েছে আরও এক রোগ। নাম, স্ক্রাব টাইফাস। বছর দুয়েক আগে এই রোগ প্রথম নজরে আসে শহর কলকাতায়। সমীক্ষা বলছে, দেড় থেকে দশ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে সাধারণত দেখা যায় এই রোগ। প্রাথমিক ভাবে রোগের বেশিরভাগ উপসর্গই মিলে যায় ডেঙ্গুর সঙ্গে। ফলে অনেকসময়েই রোগ ধরা পড়তে অনেকটা দেরি হয়ে যায়। আর এই দেরির কারণেই বিপদ বেড়ে যায়।

কী এই স্ক্রাব টাইফাস?

জানা গিয়েছেন, এক ধরণের মাকড় (মাইট) থেকে ছড়িয়ে পড়ে এই রোগ। এই মাকড় কামড়ালে শরীরে রিকেটশিয়া সুসুগামুসা নামের এক ধরণের জীবাণু প্রবেশ করে। তারপর ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে সারা দেহে। বিকল হতে থাকে লিভার, কিডনি, হার্ট-সহ একাধিক অঙ্গ।

কী কী উপসর্গ দেখা যায়?

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সাধারণত জ্বর নিয়েই আসেন রোগীরা। এ ছাড়া গায়ে বেরোয় র‍্যাশ। বাদামি রংয়ের চাকা চাকা দাগ দেখা যায়। অনেকটা ফোস্কার মত। দেখলে মনে হয় যেন কেউ সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়েছে। এর পাশপাশি যেটা সবচেয়ে সমস্যাজনক তা হলো প্লেটলেট কাউন্ট। অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে কমতে থাকে প্লেটলেট কাউন্ট। উপসর্গ দেখে প্রাথমিক ভাবে অনেক সময়েই ডেঙ্গু বা মেনিনজাইটিস বলে ভুল হয়ে যায়। ফলে রোগ ধরা পড়তে দেরি হয়ে যায়। আর দেরিই সৃষ্টি করে বাড়তি সমস্যা। হার্ট ফেলিওর থেকে শুরু করে মাল্টি অরগ্যান ফেলিওর পর্যন্ত হতে পারে। প্রাণহানিও হতে পারে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এ ধরণের রোগ নিয়ে কোনও রোগী হাসপাতালে এলে যত দ্রুত সম্ভব স্ক্রাব টাইফাস নির্ণায়ক পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে দ্য ওয়াল-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল পার্ক সার্কাসের ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথ (আইসিএইচ)-এর চিকিৎসক অরুণালোক ভট্টাচার্যের সঙ্গে। তিনি বলেন, “আগে সাধারণত আমরা জানতাম স্ক্রাব টাইফাস যে মাকড় থেকে ছড়ায় সেটা জঙ্গলে জন্মায়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে শহরাঞ্চলেও এদের অবাধ বিচরণ। কাঠের আলমারি, আসবাবপত্র কিংবা ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় এই মাকড় (মাইট) জন্মায়। সাধারণত এই রোগের উপসর্গ হিসেবে প্রথমে রোগীর জ্বর হয়। আর তার সঙ্গে গায়ে বের হয় র‍্যাশ।” ডক্টর ভট্টাচার্য আরও জানিয়েছেন, “এই রোগ নিরাময়ের উপায়ও রয়েছে। তবে রোগ দেরিতে ধরে পড়লে জটিলতা বাড়ে। প্রাণহানির সম্ভাবনাও থাকে।”

স্ক্রাব টাইফাসের হাত থেকে কী ভাবে বাঁচাবেন আপনার বাচ্চাকে?

এই প্রসঙ্গে ডক্টর ভট্টাচার্য বলেন, “জুতোর সঙ্গে বাচ্চাদের অবশ্যই মোজা পরানো দরকার। জুতো-মোজার পাশাপাশি পা ঢাকা প্যান্ট পরাও দরকার।”

Leave A Reply