কোভিড পরবর্তী সময়ে চিন্তা ‘পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার’, মন সুস্থ রাখার উপায় বললেন বিশেষজ্ঞরা

মন যে ভাল নেই বা মনকে কিছুতেই নিজের বশে স্বস্তিতে রাখা যাচ্ছে না, এই ভাবনা থেকেই জন্ম নিচ্ছে হাজারো রোগ। কোভিড কালে তো বটেই কোভিড-পরবর্তী সময়েও সবচেয়ে বড় আতঙ্কের কারণ হতে চলেছে মানসিক রোগ।

১১৭

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মন ভাল নেই!

লকডাউনে অন্দরবাসে এই কথা কমবেশি সবাই বলেছে। ঘরের বাইরে পা দিলেই মারণ ভাইরাসের আতঙ্ক, আবার ঘরের ভেতরে সেই একঘেয়েমি। খবরের পাতা উল্টালেই একরাশ আতঙ্ক, উদ্বেগ আর চিন্তাভাবনার জট পাকিয়ে যাচ্ছে মাথায়। করোনা কালে শুধু শরীর কেন, মনেরও দু’দণ্ড শান্তি নেই। মন যে ভাল নেই বা মনকে কিছুতেই নিজের বশে স্বস্তিতে রাখা যাচ্ছে না, এই ভাবনা থেকেই জন্ম নিচ্ছে হাজারো রোগ। কোভিড কালে তো বটেই May is Mental Health Awareness Month - Mental Health & Suicide Prevention  Blog | The Kim Foundationকোভিড-পরবর্তী সময়েও সবচেয়ে বড় আতঙ্কের কারণ হতে চলেছে মানসিক রোগ।

আর কোভিড সারিয়ে উঠেছেন যাঁরা? তাদের ক্ষেত্রে উদ্বেগের আরও বড় কারণ রয়েছে। অসুখে ভোগার সময়টা ট্রমার মতো চেপে বসছে মনের গভীরে। হাসপাতালে কাটানো দিনগুলো যেন অসহ্য যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছে সুস্থ হওয়ার পরেও। ভাইরাস আবার ফিরে আসবে না তো? আবার শ্বাস নিতে সমস্যা হবে না তো? এই চিন্তা কুরে কুরে খাচ্ছে বেশিরভাগ কোভিড রোগীকেই। রাতে শুয়ে দুঃস্বপ্ন বা ঘুমই না আসা বাতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসুখ ধরুক আর নাই ধরুক, কোভিড পরবর্তী সময়ে মনের যে টালমাটাল স্থিতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত ডাক্তাররা তার পোশাকি নাম চিকিৎসার ভাষায় ‘পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার’ (PTSD) । চিন্তার কারণ যেমন রয়েছে তেমনি চিন্তামুক্ত হওয়ার উপায়ও রয়েছে। মন ভাল থাকবে কিসে, স্ট্রেস কমবে কোন উপায়ে, সহজ সমাধানের কথা বললেন বিশেষজ্ঞরা।

করোনা পরবর্তী আতঙ্কের নাম পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার

প্রচণ্ড চিন্তা, আতঙ্ক বা এমন কোনও ঘটনা যা মনকে আঘাত দিয়েছে তার থেকেই যে জটিল মানসিক স্থিতি তৈরি হয় তাকে পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার বলে। মনের এই অবস্থাকে একসময় ‘Battle Fatigue’ বলা হত। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সৈনিকরা এই জাতীয় মানসিক রোগে আক্রান্ত হতেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাল ফিভারের সঙ্গে পরিচয় থাকলেও করোনাভাইরাস নামক প্রাণঘাতী ভাইরাসের সঙ্গে পরিচয় ছিল না সাধারণ মানুষের। হঠাৎ করেই এক অজানা ভাইরাসের প্রকোপে মহামারী শুরু হয়ে গেছে বিশ্বজুড়েই।

একের পর এক মৃত্যুর খবর আসছে। সংক্রমণে জটিল রোগ হানা দিচ্ছে শরীরে। তীব্র শ্বাসকষ্টে ছটফট করছে রোগী। এইসব কিছুই মনে এক গভীর ছাপ ফেলছে। আর যারা করোনা সংক্রমণ কাটিয়ে উঠছে তাদের ট্রমা আরও বেশি। বিশেষত ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট থেকে ফিরে আসা রোগীদের কোভিড-পরবর্তী সময়ে মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে বেশি খেয়াল রাখতে বলা হচ্ছে। কারণ একটাই, এই পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস সিন্ড্রোম।


রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে উঠছে রোগী, বুক ধড়ফড়, তীব্র মাথা যন্ত্রণা

ডাক্তাররা বলছেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে যদি স্ট্রেস সিন্ড্রোম হানা দেয় তার কিছু লক্ষণ দেখে আগেভাগেই সতর্ক হতে হবে। শুরুটা হতে পারে অবসাদ দিয়ে। একটানা ক্লান্তি, ঝিমুনি সেই সঙ্গে কিছুই ভাল লাগছে না ভাব। কোভিড সারিয়ে উঠেছেন যারা, তাদের এই ধরনের উপসর্গ বেশি। আরও কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে যাকে হেলাফেলা করা কোনওভাবেই উচিত হবে না।

COVID‐19 and post‐traumatic stress disorder: A vicious circle involving  immunosuppression - Liang - 2020 - CNS Neuroscience & Therapeutics -  Wiley Online Library

কী কী সেই উপসর্গ?

ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে ওঠা। বারে বারেই পুরনো স্মৃতি ফিরে এসে মন খারাপ হওয়া। ঘুম না হওয়া বা ইনসমলিয়ার প্রকোপও দেখা যাচ্ছে অনেকের মধ্যেই। সেই সঙ্গে বুক ধড়ফড়, মাথা যন্ত্রণা এমনকি মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হতেও দেখা গেছে।

প্রচণ্ড মানসিক চাপ গ্রাস করছে। ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে আসছে হাসপাতালের স্মৃতি। ভুলে যাওয়া, ভুল বকা ইত্যাদি উপসর্গও দেখা দিচ্ছে রোগীর। যাদের অসুখ ধরেনি তাদের মধ্যে অনেকেই মেন্টাল ট্রমার শিকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাস যদি হানা দেয় শরীরে এই চিন্তা থেকেই ভুল বকা শুরু করছেন অনেকে। বারে বারে হাত ধোওয়া, ঘন ঘন স্যানিটাইজার হাতে ঢালা বাতিকে পরিণত হয়েছে।

 

ভারতে এখনই ২৮ শতাংশ রোগী পোস্ট ট্রমাটিক ডিসট্রেস সিন্ড্রোমে আক্রান্ত

কোভিড পর্যায়ে প্রায় ২৮.২ শতাংশ রোগীই এই মানসিক স্থিতিতে ভুগছে। সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, ৫৫ শতাংশ রোগী ঘুমের সমস্যায় ভুগছে। কোভিড সারিয়ে উঠে ইনসমনিয়ার শিকার হয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। ৬৪ শতাংশ মনে করছে লকডাউনে কোনও কাজই হয়নি। ৮২ শতাংশের আবার করোনার কথা শুনলেই ঘাম, শ্বাসকষ্ট ও মানসিক উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ট্রেস সিন্ড্রোমের এগুলো নানা পর্যায়। মানুষ এতবেশি ভাইরাস নিয়ে ভাবছে যে মানসিক চাপ তার মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মস্তিষ্কের স্নায়ুর উপরে তার খারাপ প্রভাব পড়ছে। এমনিতেও এই ভাইরাস মস্তিষ্কেও হানা দিচ্ছে। রক্ত জমাট বাঁধছে, হ্যালুসিনেশন হচ্ছে রোগীর। এমনকি ডিসমেনসিয়া বা স্মৃতিনাশের শঙ্কাও দেখা দিচ্ছে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্বেগ থেকে ফোবিয়া বা আতঙ্ক তৈরি হয় মনে। যার থেকেই উৎকণ্ঠা বাড়ে। ‘প্যানিক ডিসঅর্ডার’-এ আক্রান্ত হয় রোগী। মনোসংযোগ কমে যায়, মাত্রাতিরিক্ত চিন্তায় হৃদগতি বাড়ে। বুকে ব্যথা হতেও দেখা গেছে অনেকের। শ্বাসের গতি ধীর হয়। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও দেখা দেয়। অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার ও প্যানিক ডিসঅর্ডার যদি একটানা চলতে থাকে তাহলে অবসাদ, মাথাব্যথা, ঝিমুনিভাব, কাজে অনীহা দেখা দেয়। এমনকি স্নায়ুর উপরেও তার প্রভাব পড়ে। শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে যায়। রক্তচাপেরও তারতম্য হতে পারে। প্যানিক ডিসঅর্ডার ক্রনিক হয়ে গেলে শরীরে এনজাইম ক্ষরণও অনিয়মিত হয়ে যায়। খাবার হজমে সমস্যা হয়, পেটের রোগও দেখা দিতে পারে। খিদে কমতে থাকে, বিপাকক্রিয়ায় বড়সড় প্রভাব পড়ে। স্ট্রেস থেকে লিভারের অসুখ হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘সাইকোলজিক্যাল ডিসট্রেস’ থেকে জটিল লিভারের রোগও ধরতে পারে। এইসব কিছুই হল রোগের সঙ্কেত, তাই মনের রোগ চেপে রাখলে তা বিপজ্জনকও হতে পারে।

কোভিড পরবর্তী জীবনে চনমনে থাক হৃদয়, খুশি থাক মন

বর্তমান সময়কে বিশেষজ্ঞরা দুই ভাগে ভাগ করছেন। করোনা-কাল এবং করোনা-পরবর্তী সময়। কোভিড মহামারীর গতি থামবে একদিন। ভাইরাস কাবু হবে। মানুষ তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি দিয়েই ভাইরাস জয় করবে। করোনা পরবর্তী সময়ে শরীর-স্বাস্থ্য ভাল রাখা যেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তেমনি মনের স্বাস্থ্য ভাল রাখাও চ্যালেঞ্জ। মন ভাল রাখতে হলে পোস্ট ট্রমাটিক ডিসট্রেস সিন্ড্রোমকে জয় করতে হবে। সেটা কীভাবে?

করোনার চিন্তা একদম নয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহিলারা পুরুষদের থেকে আগে এই স্ট্রেস সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হন। তাই ভয়কে জয় করতে হলে সবচেয়ে আগে খারাপ চিন্তাগুলোকে দূরে সরাতে হবে। কোভিড অতিমহামারী নিয়ে কথাবার্তা বা খবর পড়া বন্ধ করতে হবে। যেটুকু না জানলেই নয়, সেটুকুই দরকার। কোভিড বিধি এখন কমবেশি সকলেরই জানা। তাই সুরক্ষার দিকে খেয়াল রেখে করোনাকে চিন্তাভাবনা থেকে একেবারে গুড বাই করে দিতে হবে।

মেলামেশা বাড়ুক

সামাজিক মেলামেশা বন্ধের কারণে আত্মীয়, পরিজন বা বন্ধুদের থেকে দূরে রয়েছেন অনেকেই। শারীরিকভাবে না হলেও ফোনে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কথাবার্তা বাড়াতে হবে। তবে কোভিড নিয়ে আলোচনা বা পোস্ট না করাই ভাল। নানারকম ভুয়ো খবরে বিভ্রান্তি আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Is it safe to exercise outdoors now? This is what a doctor had to say

মন খুলে কথা বলুন

মানসিক সমস্যা যদি বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছয় তাহলে কগনিটিভ বিহেভেরিয়াল থেরাপি (CBT) বা টক থেরাপি (Talk Therapy) করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক অবসাদ চরম সীমায় পৌঁছলে অনেকেই নিজেকে গুটিয়ে ফেলেন। একা থাকতে ভালবাসেন। যার কারণে নিঃসঙ্গতা, একাকীত্ব গ্রাস করে। মানসিক স্থিতি আরও বিগড়ে যায়। রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে মন খুলে কথা বলতে, হাসতে বলেন ডাক্তাররা। এই থেরাপি ডাক্তারের কাছে গিয়ে নয়, বরং পরিবারের আপনজনদের মাঝে থেকেও করা যায়। মোবাইল, টিভি, ল্যাপটপে সময় কমিয়ে কথা বলতে বলছেন ডাক্তাররা। পারস্পরিক কথোপকথনেই মনের ভয়, আতঙ্ক দূর হয়।

আত্মহত্যার চিন্তা চেপে বসছে অনেকের, সতর্ক হতে হবে পরিবারকেই

করোনা কালে মানসিক অবসাদ এমন জায়গায় পৌঁছচ্ছে যার থেকে ‘Self-destructive behavior’ দেখা দিচ্ছে অনেকেরই। করোনা সংক্রামিত হওয়ার পরে আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনাও অনেক ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাকীত্ব, ভয়, ট্রমা থেকে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চিন্তা আসছে মাথায়। পরিবারের কারও মধ্যে হঠাৎ করে আচার-আচরণে বদল, একা থাকার প্রবণতা বা এই জাতীয় কথাবার্তা শুনলেই সতর্ক হতে হবে। এ সময়ে পরিবারের মানুষ একে অন্যের প্রতি ধৈর্যশীল, সহানুভূতিশীল হওয়া ছাড়া উপায় নেই। রাগ না করে কাছের মানুষের সব কথা শুনতে হবে, ভরসা যোগাতে হবে। যাঁরা একাকীত্বে ভুগছেন, ফোনে কথা বলে তাঁদের সঙ্গ দিতে হবে। মেলামেশা বাড়াতে হবে। নিয়মিত শরীরচর্চা মন হাল্কা রাখে। স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ কমায়। সমস্যা তীব্র হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ছাড়া গতি নেই। তখন নিয়মিত কাউন্সেলিং করানোর দরকার।

Natural ways to clean lungs: Foods that clean your lungs naturally &  strengthen immunity

পুষ্টিকর খাবারে শরীর থাকবে ঝরঝরে, এক্সারসাইজে পালাবে স্ট্রেস

উদ্বেগ সারাতে হলে নিজেকেই আগে উদ্যোগ নিতে হবে। চিন্তা-ভাবনায় রাশ টানতে হবে। মনে অযথা কোনও ভাবনা এলে, মেডিটেশন করে মন অন্যদিকে রাখা যেতে পারে। পুষ্টিকর খাবার এই সময় সবচেয়ে বেশি জরুরি। বাড়িতে থাকার কারণে শরীরচর্চার ঝোঁক অনেকেরই কমেছে। তাই তেল-মশলাদার খাবারের বদলে হাল্কা খাওয়ার খাওয়াই ভাল। সবুজ শাক-সব্জি, ফল, মাছ খেতে হবে বেশি করে। প্যাকেটজাত খাবারের বদলে বাড়িতেই হাল্কা খাবার বানিয়ে নিলে ভাল। দীর্ঘ সময় পেট ফাঁকা রাখা চলবে না। অফিসের শিফট শুরু হওয়ার আগে ভাল করে পেট ভরে খেয়ে নিতে হবে। জল খেতে হবে সময়ান্তরে। নিয়মিত যোগব্যায়াম কাজে দেবে। সকালে ও রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে হাল্কা মেডিটেশন জরুরি। কার্ডিও এক্সারসাইজে যারা অভ্যস্ত তারা সেটাই করতে পারেন। তা না হলে রোজ অন্তত হাঁটার অভ্যাস থাকা ভাল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাঁটুন। এর থেকে ভাল ব্যায়াম হয় না। বাড়ির ছাদে, কম্পাউন্ডের ভেতরে বা বাগান থাকলে সেখানেই হাঁটাচলা করুন। মন ভাল থাকবে, স্ট্রেস হরমোন বশে আসবে।

আরও একটা বিষয় হল ঘুম। বাড়িতেই আছি মানে সোশ্যাল মিডিয়া, ল্যাপটপ, মোবাইলে ডুবে থাকা নয়। শরীরেরও বিশ্রামের সময় আছে। টানা ৬-৮ ঘণ্টা ঘুম না হলেই উদ্বেগ বাড়বে। যার থেকেই হানা দেবে মানসিক চাপ ও শেষে অবসাদ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More