দাঁত দিয়ে কি নখ কাটেন! নিছক বদভ্যাস নয় কিন্তু, কারণ রয়েছে গভীরে

মানুষ দাঁত দিয়ে নখ কাটে কেন? গবেষকরা বলেন তার অনেক কারণ। বেশিটাই মানসিক। সমীক্ষা বলে দাঁত দিয়ে নখ চিবনোর অভ্যাস ২৫-৩০ শতাংশ শিশুরই আছে। তবে শুধু শিশু বা কম বয়সী নয়, দাঁত দিয়ে একমনে নখ চিবনোর অভ্যাসে প্রাপ্তবয়স্করাও কিছু কম যায় না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিন্তার ঝাঁপি উপুড় হলেই হাতের নখগুলো কেমন অবলীলায় মুখের ভেতরে সেঁধিয়ে যায়। ইচ্ছা না হলেও নখের আগাগোড়া কামড়েই স্বস্তি মেলে। নখ ভেঙে যাক, খুবলে মাংস উঠে আসুক, ম্যানিকিওর করা হাতের সৃষ্টিছাড়া অবস্থা হোক, কিন্তু নখে কামড় না বসালে চরম উত্তেজনায় মলম লাগানো যায় না। এই যে জোর করে নখ আর দাঁতের মধ্যে লড়াই লাগানোর চেষ্টা, এর ফল কিন্তু মোটেও ভাল হয় না। দাঁত দিয়ে নখ কাটা বা নখের টুকরো ভেঙে খেয়ে ফেলার এই অভ্যাস থুরি বদভ্যাসের কারণে নানা রোগের উটকো ঝামেলা এসে জুড়ে বসে শরীরে। রোগব্যধি তো হয়ই, মানসিক স্থিতিও টালমাটাল হতে পারে। এমন কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরাই।

মানুষ দাঁত দিয়ে নখ কাটে কেন? গবেষকরা বলেন তার অনেক কারণ। বেশিটাই মানসিক। সমীক্ষা বলে দাঁত দিয়ে নখ চিবনোর অভ্যাস ২৫-৩০ শতাংশ শিশুরই আছে। তবে শুধু শিশু বা কম বয়সী নয়, দাঁত দিয়ে একমনে নখ চিবনোর অভ্যাসে প্রাপ্তবয়স্করাও কিছু কম যায় না। এটা নিছকই অভ্যাস নয়, রীতিমতো শরীরে-মনে চেপে বসা একটা রোগ। যার একটা পোশাকি নামও আছে—অনিকোফেজিয়া (Onychophagia)

নখের প্রতিই দাঁতের এত আকর্ষণ কেন তার সঠিক কারণ অবশ্য জানা যায়নি। গবেষকরা বলেন এটি হল ইমপালস কন্ট্রোল ডিসঅর্ডার। মানসিক এবং ব্যবহারগত ত্রুটি। অনেক ক্ষেত্রে আবার যৌন উদ্দীপনাতেও দাঁত দিয়ে নখ কাটার প্রবণতা দেখা যায়। সেক্ষেত্রে গবেষকরা সাইকো-সেক্সুয়াল ডিসঅর্ডার বলেন।

দাঁত দিয়ে নখ কাটার কারণ অনেক। মানসিক বা সাইকোলজিক্যাল কারণ বললে প্রথমেই আসে প্রবল মানসিক উত্তেজনা। কোনও কারণে যদি উদ্বেগ বা প্রবল মানসিক চাপ এসে পড়ে, তাহলে মনের এমন একটা অবস্থা তৈরি হয় যার থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে মানুষ নানা ধরনের কাজ করে থাকে। কেউ ক্রমাগত পা নাড়িয়ে চলে, কারও উত্তেজনায় ঘাম হয়, কেউ হঠাৎ করেই কাশতে শুরু করে, আবার অনেকে দাঁত দিয়ে নখ চিবোতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকক্ষেত্রেই মানসিক উত্তেজনার বশে মানুষ বুঝতেই পারে না সে ঠিক কী করছে। নখ চিবোতে গিয়ে তাই অনেকেই চামড়া উঠিয়ে ফেলে, নখের চারপাশের নরম জায়গা চিরে গিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করে।

অবসেসিভ কম্পালসন ডিসঅর্ডারও হল এই নখ চিবনোর অন্যতম কারণ।  একঘেয়েমি, বিরক্তিভাব থেকে এই রোগ হয়। অনেক সময় দেখা যায় একই বিষয়ে চিন্তা করতে করতে মানসিক উদ্বেগ বাড়ে। তখন নখ চিবনো একটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায়।

সেপারেশন অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারও কাজ করে। বন্ধুবিচ্ছেদ, প্রেমে আঘাত বা আপনজনের মৃত্যুর ঘটনায় মনের যে পরিস্থিতি তৈরি হয় তার থেকেও এই অভ্যাস তৈরি হতে পারে অনেকের।

নিছক বদভ্যাসের কারণেও অনেকে দাঁত দিয়ে নখ কাটে। শিশুরা মূলত এমন করে। বন্ধুদের দেখে বা বড় কাওকে দেখে এই অভ্যাস শিখে নেয়। গবেষকরা বলেন বডি-ফোকাসড রিপিটিটিভ বিহেভিয়র । অনেকেরই বিনা কারণে ঠোঁট বা গাল কামড়ানো, চুল টানার অভ্যাস থাকে।

দাঁত দিয়ে নখ কাটলে ভাল তো কিছু হয় না, উল্টে ক্ষতির ভাগটাই বেশি। এখন দেখে নেওয়া যাক কী কী হতে পারে।

১) নখের কিউটিকল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

২) নখের চারদিকের নরম চামড়া উঠে গিয়ে সেখানে ক্ষত তৈরি হতে পারে।

৩) ক্রমাগত নখ চিবনোর ফলে সেখানে মুখের থুতু-লালা জমে ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে।

৪) নখের ময়লা পেটে গিয়ে শরীরে নানা রোগ ধরতে পারে।

৫) নখ শুধু নয়, দাঁতেরও বিস্তর ক্ষতি হয় এই অভ্যাসের ফলে।

৬) দাঁত দিয়ে নখ চিবনোর কারণে মানসিক চাপ মোটেও কমে না, বরং নানারকম মানসিক রোগ ধরতে পারে। সতর্ক করছেন গবেষকরা।

 

অনিকোফেজিয়া থেকে মুক্তির উপায় কী?

মনের জোর বাড়ানো। যে কোনও খারাপ অভ্যাসকে তাড়ানোর জন্য অনেক রকম সাইকোলজিক্যাল থেরাপি থাকে। তার জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। হাইপোনোথেরাপি বা হ্যাবিট-রিভার্সাল ট্রেনিং এক্ষেত্রে কাজে দেয়।

মানসিক স্থিতি ঠিক রাখতে নিয়মিত যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন করা যেতে পারে। কোনও কারণে মানসিক উত্তেজনা হলেই প্রাণায়াম বা যোগাভ্যাসে কাজ দেয়। এরই সঙ্গে দিনে সঠিক সময় খাবার খওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম দরকার।

দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস বন্ধ করতে নিজেই কিছু উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। যেমন নখে নেলপলিশ লাগিয়ে রাখা, ম্যানিকিওর করলে নখ চিবনোর প্রবৃত্তি কমবে। একেবারেই মন না মানলে হাতে গ্লাভস পরে থাকা যেতে পারে। অনেক বিশেষজ্ঞই বলেন, এই প্রক্রিয়ায় কাজ হয় তাড়াতাড়ি।

অভ্যাস যদি ক্রনিক হয়ে যায় তাহলে মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। সাইলোজিক্যাল থেরাপিতে কাজ হয় দ্রুত।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More