রবিবার, এপ্রিল ২১

বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস মানে ধর্ষণ, বলল সুপ্রিম কোর্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন সম্পর্ক তৈরি করার অর্থ ধর্ষণ। এক জন নারীর সম্মানের উপর আঘাত। একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ছত্তীশগড়ের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন এক মহিলা। সেই মামলার সূত্রেই এই রায় দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এল নাগেশ্বর রাও এবং এম আর শাহ বলেন, বিয়ের প্রতিশ্রতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার ঘটনা আধুনিক সমাজে বেড়েই চলেছে। এই ভাবে শারীরিক সম্পর্ক তৈরির করার অর্থ এক জন নারীর সম্মান ও মর্যাদার অবমাননা।

যে মামলাটিকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্য সেটি ছত্তীশগড়ের। বিলাসপুরের এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এক চিকিৎসকের। ২০০৯ থেকে ওই তরুণীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে ওই চিকিৎসক। দুই পরিবারও  দুজনের সম্পর্কের কথা জানত। ওই চিকিৎসক আরও এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছিল। পরে সে দ্বিতীয় মহিলাকেই বিয়ে করে। প্রথম তরুণী ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। আদালত চিকিৎসককে ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত করে। এর পর হাইকোর্টও তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়।

অভিযুক্ত চিকিৎসক সুপ্রিম কোর্টে গেলে সর্বোচ্চ আদালত রায়ে বলে, “কাউকে খুন করা হলে তার শরীরটা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ধর্ষণ এমন এক অপরাধ যাতে এক নিরপরাধ নারীরর অন্তরাত্মাকে টেনে নামিয়ে তাকে পশুতে পরিণত করে। কারণ ধর্ষণের ফলে তার জীবনের নির্যাসটুকুকে শেষ করে দেওয়া হয়।”

বিলাসপুরের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, অভিযুক্ত আগেই জানত সে কখনওই ওই তরুণীকে বিয়ে করবে না। কারণ তার বিয়ে আগে থেকেই ঠিক ছিল। তাও শুধু যৌনতার জন্য সে ওই তরুণীকে বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেয়। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে জুড়েছে প্রতারণাও। অভিযুক্ত যদি ওই তরুণীকে স্পষ্ট বলত, সে তাকে বিয়ে করবে না, তা হলে হয়তো তরুণী তার সঙ্গে সহবাসে রাজি হতেন না।

Shares

Comments are closed.