ছাত্র বিক্ষোভে যাদবপুরে আটক বাবুল, পৌঁছে গেলেন ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে ঘিরে এখনও বিক্ষোভ অব্যাহত যাদবপুরে। বিক্ষোভকারীদের দাবি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে বাবুলকে।

এ দিকে যাদবপুরের ঘটনা নিয়ে প্রাক্তন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীকে ফোন করেন বাবুল সুপ্রিয়। সূত্রের খবর, বর্তমান রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে ফোন করেন কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ  রাজ্যপাল। তিনি ইতিমধ্যেই মুখ্যসচিব মলয় দে-কে ফোন করেছেন।সেই সঙ্গে নির্দেশ দিয়েছেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। রাজ্যপাল নিজেও ক্যাম্পাসে পৌঁছে গিয়েছেন। কিন্তু ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের সামনে এবিভিপি সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছে বলে খবর। তাই তিন নম্বর গেটে দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকে রাজ্যপালের গাড়ি। কিন্তু রাজ্যপালের গাড়ির সামনেও বিক্ষোভ দেখায় পড়ুয়ারা। তাই গাড়ি থেকে নেমে ক্যাম্পাসে ঢুকতে গিয়েও ফের গাড়িতেই ফিরে আসতে হয় রাজ্যপালকে। শেষ পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেন রাজ্যপাল।

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে উত্তাল হয় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। পড়ুয়াদের হেনস্থার শিকার হন বাবুল সুপ্রিয়। এই ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং বিরক্ত রাজ্যপাল। উপাচার্য সুরঞ্জন দাসকে ফোনও করেন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া  হয়নি তাও উপাচার্যের কাছে জানতে চেয়েছেন ধনকড়। রাজ্যপাল জানিয়েছেন, এই ঘটনা দুঃখজনক। যে ভাবে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে তা অভিপ্রেত নয়। এই ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন রাজ্যপাল।

এ দিন ক্যাম্পাসে নবীনবরণ উৎসবের আয়োজন করেছিল এবিভিপি। সেখানেই যোগ দিতে এসেছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। কিন্তু মন্ত্রী ক্যাম্পাসে আসতেই শুরু হয় বিক্ষোভ। কালো ব্যাজ পরে এবং কালো পতাকা হাতে নিয়ে বাবুলকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন পড়ুয়ারা। চত্বর জুড়ে ওঠে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। অভিযোগ, সেই সময় ধস্তাধস্তিতে মাটিতে পড়ে যান বাবুল। তাঁর আরও অভিযোগ পড়ুয়ারা তাঁর গায়ে তুলেছেন। তাঁকে কিল-চড়-ঘুষি-লাথি মারা হয়েছে। মন্ত্রীর জামার কলার ছিঁড়ে যায় বলেও অভিযোগ।

সূত্রের খবর, গানের অনুষ্ঠান করতে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু ক্যাম্পাসের ঢোকার পরেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন পড়ুয়ারা। অভিযোগ, নিরাপত্তারক্ষীদের বেষ্টনী ভেঙেই বাবুলের উপর চড়াও হন কিছু ছাত্র। এমনকী তাঁকে ধাক্কা মেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও অভিযোগ।

নিমেষেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। সামনে থাকা এক পড়ুয়ার উদ্দেশে বাবুল সুপ্রিয়কে বলতে শোনা যায়, “তোমাদের নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সম্মান বজায় রাখো। আমি যদি ডিগনিটি বজায় রাখি। তোমরাও রাখো। গায়ে হাত দিচ্ছ কেন। গায়ে হাত দেবে না।” বাবুলের মন্তব্যের জবাবে সঙ্গে সঙ্গেই ওই বিক্ষোভকারী জানান, “আমি এসএফআই করি না।” পাল্টা প্রশ্ন করেন বাবুল, “তাহলে তুমি কী করো।” পড়ুয়ার সাফ জবাব, “নকশাল”। ইতিমধ্যেই পাশ থেকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানের মাঝেই শোনা যায়, “আপনি প্লিজ সিন ক্রিয়েট করবেন না।”

এ বিষয়ে অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ছাত্র সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, এ দিন বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সামিল হয়েছিল সব ছাত্র সংগঠনই। কিন্তু কালো পতাকা দেখানো কিংবা স্লোগানিং-এর বাইরে কোনও ঘটনা ঘটেনি। পড়ুয়াদের দাবি কেবল প্রতিবাদ দেখিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়ে ব্যারিকেড করা হয়েছিল। কারও গায়ে হাত দেওয়া হয়নি। পড়ুয়াদের একাংশের কথায়, এ দিন কোনও সংগঠনই নিজেদের প্রতীক নিয়ে বিক্ষোভে নামেনি। তবে আল্ট্রা লেফট বা নকশাল সংগঠনের অনেকেই হাজির ছিলেন। কিন্তু এসএফআই-কে বিক্ষোভের সামনের সারিতে একেবারেই দেখা যায়নি। বরং তাদের কথায়, “ক্যাম্পাসে যে কেউ আসতে পারেন। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। আমরা কাউকে ঢুকতে দেবো না—-এটা কখনই আমাদের স্ট্যান্ড পয়েন্ট নয়।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি নিয়েই আয়োজন করা হয়েছিল এই কর্মসূচি। তারপরেও কেন ক্যাম্পাসের মধ্যে এ ভাবে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে হেনস্থা হতে হলো তাই নিয়েই বিভিন্ন মহলে উঠছে নানান প্রশ্ন। সমস্যা মেটাতে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপাচার্যও। বাবুল সুপ্রিয়র অভিযোগ সে সময় উপাচার্যের সঙ্গেও অভব্য আচরণ করেন একদল পড়ুয়া।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More