যাদবপুরে গিয়ে ফের ঘেরাওয়ের মুখে রাজ্যপাল! কড়া ভাষায় টুইট, সমালোচনার তির উপাচার্যের দিকে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার ছাত্রদের ঘেরাওয়ের মুখে পড়েছিলেন। মঙ্গলবার সকালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গিয়ে ফের ঘেরাওয়ের মুখে পড়লেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। সোমবার ধৈর্য ধরে থাকলেও মঙ্গলবার অসন্তোষ গোপন করেননি তিনি। টুইট করে বলেছেন, আমি শক পেয়েছি। অত্যন্ত আশ্চর্য হয়েছি।

    পরে উপাচার্যের কড়া সমালোচনা করে তিনি লেখেন, ভিসিকে আমি বলেছিলাম, তিনি যেন আমার নির্দেশ মেনে সমাবর্তনের ব্যবস্থা করেন। তাঁকে বিধিসম্মতভাবে কাজ করতে বলেছিলাম। আশ্চর্যের ব্যাপার, তা সত্ত্বেও আগের মতোই সব শুরু হল। আমি অসহায় অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছেড়ে যাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ভেবে দেখুক, কেন এমন হল।

    এদিন কালো পতাকা হাতে কয়েকজন ছাত্র তাঁর গাড়ি ঘিরে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করে। পরে রাজ্যপাল টুইটে লিখেছেন, “আই অ্যাম শকড অ্যান্ড সারপ্রাইজড! আমি ভাবতেই পারছি না, কীভাবে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম চলতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কিছুই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। পুরো সিস্টেমটাই ভেঙে পড়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সমালোচনা করে রাজ্যপাল লিখেছেন, “দুঃখজনক ব্যাপার হল, উপাচার্য ইচ্ছা করে উদাসীনতা দেখাচ্ছেন। তিনি নানা ছুতো খুঁজে বেড়াচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য তিনিই দায়ী।”

    সোমবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কয়েকজন কর্তার সঙ্গে বৈঠক করার জন্য যাদবপুরে গিয়েছিলেন জগদীপ ধনকর। মিটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল দুপুর দুটোয়। আগে থেকেই কালো পতাকা, ব্যানার নিয়ে জমায়েত করেছিলেন পড়ুয়া, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীরা। রাজ্যপাল আসতেই সকলে ঘিরে ধরেন গাড়ি। সিএএ-র বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন তাঁরা, পোস্টার লিখে জানিয়ে দেন, রাজ্যপাল নিরপেক্ষ নন। কালো পতাকার পাশাপাশি জাতীয় পতাকা নিয়েও নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে সুর চড়ান বিক্ষোভকারীরা। আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলছে এই বিক্ষোভ। অভিযোগ, রাজ্যপালের গাড়ির বনেটেও ব্যানার লাগিয়ে দেওয়া হয় বিক্ষোভকারীদের তরফে। তোলা হয় আজাদি স্লোগান।

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এর আগেও বহুবার এমন বিক্ষোভ দেখিয়েছে। এই দিন এই ছবিটা হয়তো প্রত্যাশিতও ছিল। কারণ ২৪ তারিখের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাজ্যপালকে আগেই বয়কট করেছিলেন পড়ুয়ারা। সে ক্ষেত্রে সমাবর্তনের আগের দিন রাজ্যপাল ক্যাম্পাসে এলে যে বিক্ষোভ হবেই তা অনেকেই আন্দাজ করেছিলেন। কিন্তু বদলে গেল এর পরের দৃশ্যটা। প্রবল বিক্ষোভের মুখেও কার্যত জমি ছাড়লেন না রাজ্যপাল। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে, ভিড় ঠেলে ইঞ্চি-ইঞ্চি করে গাড়ির চাকা এগিয়ে, অবশেষে বিক্ষোভের মধ্যেই নেমে পড়লেন তিনি। যেখানে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠার পুরোদস্তুর আশঙ্কা ছিল, সেখানে পালন করলেন অন্যরকম ভূমিকা। খেলা ঘুরিয়ে দিলেন প্রশাসনিক দক্ষতায়।

    বিক্ষোভের মধ্যে গাড়ি থেকে নেমে প্রথমেই তিনি ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, “আমি আপনাদের চ্যান্সেলর, সব প্রশ্নের উত্তর দেব। তবে আমি সংবিধান ও প্রতিষ্ঠানের আইনের মধ্যে বাঁধা আছি, তার মধ্যে যতটা সম্ভব আমি কথা বলব আপনাদের সঙ্গে। আমি আশা করছি আপনাদের কিছু প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে আছে।”

    রাজ্যপালকে কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে তার কারণ জানতে চাইলে ছাত্রদের তরফে জানানো হয়েছিল, দেশের পরিস্থিতি নিয়ে এবং আরও নানা বিষয় নিয়ে কিছু প্রশ্ন তৈরি করে তাঁরা রাজ্যপালকে দেবেন। উত্তর চাইবেন সেগুলির। তাই চাইলেন। আর রাজ্যপালও উত্তর দিলেন ধৈর্য ধরে। প্রশ্নোত্তরপর্ব চলাকালীনই একাধিক বার রাজ্যপালের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শোনা যায় পড়ুয়াদের। তবে তা উপেক্ষা করেই প্রশ্নের জবাব দিতে থাকেন রাজ্যপাল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More