শনিবার, নভেম্বর ১৬

ভাইরাল ভিডিও, নাদিয়ার প্রশংসা! এবার সরকারি প্রশিক্ষণ নেবে কলকাতার দুই খুদে জিমন্যাস্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুল থেকে ফেরার পথে, নেহাত খেলার ছলেই ‘কার্টহুইল’ করেছিল তারা। শূন্যে ভল্ট দিয়ে দু’পাক ঘুরে মাটিতে পড়েছিল, পিঠে স্কুলব্যাগ নিয়েই। তাদের সেই কীর্তির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু কে জানত, এই ভাইরাল ভিডিওর জোরেই কপাল খুলে যাবা তাদের! সুযোগ মিলবে সরকারি প্রশিক্ষণের!

দিন পাঁচেক আগে ভাইরাল হয় ভিডিওটি। প্রথমে ভল্ট খায় একটি কিশোর, তার পরেই এক কিশোরী। এতই মসৃণ তাদের শরীরি ভঙ্গিমা, যেন হাঁটা-চলার মতোই স্বাভাবিক এই ভল্ট খাওয়াও! এই দৃশ্যের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেলে, তা শেয়ার করে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন স্বয়ং নাদিয়া কোমামিচি। পাঁচ বার অলিম্পিক পদকজয়ী কিংবদন্তী এই জিমন্যাস্টকে বলা হয় জিমন্যাস্টিকসের সম্রাজ্ঞী।

তাঁর প্রশংসার পরেই ছেলে-মেয়ে দু’টির পরিচয় জানতে তোলপাড় পড়ে যায় নেট-দুনিয়ায়। প্রথমে জানা যায়, এটি নাগাল্যান্ডের ঘটনা। পরে জানা যায়, নাগাল্যান্ড নয়, দুই ছেলে-মেয়ে খোদ কলকাতারই বাসিন্দা! গার্ডেনরিচের ভূকৈলাস রোডের বস্তিতে থাকে ১১ বছরের জেসিকা খান এবং ১২ বছরের মহম্মদ আজাজউদ্দিন।

কিন্তু তখনও জানা যায়নি, ১৫ সেকেন্ডের এক ভিডিওর জোরেই সরকারেরও নজর কেড়ে নিয়েছে তারা। জানতে পারার পরে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (সাই)। বুধবার সেখানে গিয়ে ট্রায়াল দিয়ে এসেছে তারা। জানা গেছে, সাই-এর তত্ত্বাবধানেই তাদের পূর্ণ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবার থেকে।

আরও পড়ুন: স্কুলের পোশাকে পথের মাঝেই দুরন্ত জিমন্যাস্টিক দুই ছাত্র-ছাত্রীর, প্রশংসায় মুখর স্বয়ং নাদিয়া কোমানিচি!

নুন আনতে পান্তা ফুরোনো সংসারের ছেলে-মেয়ে দু’টি স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি, জিমন্যাস্টিকস শেখা হবে তাদের। নিম্নবিত্ত মুসলিম পরিবারে নাচ শেখাতেই যেখানে বিধিনিষেধ রয়েছে, সেখানে জিমন্যাস্টিকস অনেক দূরের কথা। কিন্তু জোর করে নাচ শিখতে গিয়েই তারা শিখে ফেলেছিল কয়েক রকমের ভল্ট। আর তারই একটা রাস্তায় কড়তে গিয়ে, ভিডিওবন্দি হয়ে যায় তার। তার পরেই যেন রূপকথার অভিযান!

সাই-এর আঞ্চলিক অধিকর্তা মনমিত সিং গোইন্দি জানিয়েছেন, ‘‘গার্ডেন‌ রিচের যে ছেলে-মেয়ে দু’টির ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, ১৯৭৬ অলিম্পিকের সোনার পদকজয়ী নাদিয়া কোমেনিচি যাদের প্রশংসা করেছেন, তারা আজ কলকাতায় সাই-এর পূর্বাঞ্চলীয় শাখায় এসেছিল। ট্রায়াল দিয়েছে। ওদের কলকাতা সাই-এর হস্টেলে রেখে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।”

সাই-এর নজর পড়ার আগেই অবশ্য কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেন রিজিজু টুইট করে দু’জনের তারিফ করেছিলেন। নাদিয়ার টুইট দেখেই এই ভিডিও চোখে পড়েছিল তাঁর। তিনি লিখেছিলেন, ‘‘আমি খুশি যে নাদিয়া কোমানিচি টুইট করেছেন এটি। প্রথম জিমন্যাস্ট যিনি ১৯৭৬ মন্ট্রিল অলিম্পিক্সে পারফেক্ট টেন স্কোর করেছিলেন, এবং তার পরে আরও ছ’বার পারফেক্ট টেন স্কোর করে তিনটি স্বর্ণপদক জিতেছিলেন, তাঁর এই টুইট সত্যিই খুব স্পেশাল। আমি ওই বাচ্চাগুলির সঙ্গে দেখা করতে চাই।”

এর পরেই তাদের খোঁজ মেলে, গার্ডেনরিচে। এবার ব্যবস্থা হয়ে গেল প্রশিক্ষণেরও। জেসিকা-আজাজউদ্দিন জানিয়েছে, তারা দেশের জন্য পদক আনতে চায়, নাদিয়ার মতোই। দেখা যাক, স্বপ্নের ডানায় কতটা দীর্ঘ হয় তাদের উড়ান।

আরও পড়ুন:

নেট-দুনিয়া মাতানো দুই ছোট্ট জিমন্যাস্ট খোদ কলকাতার সম্পদ! সামনে এল দারিদ্র ও প্রতিভার তীব্র লড়াই

Comments are closed.