চার বছরের ভাইকে বাঁচাতে বুকে আঁকড়ে ধরল ১১ বছরের দিদি, দু’জনের উপরেই ঝাঁপিয়ে পড়ল চিতাবাঘ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাইয়ের সঙ্গে খেলতে খেলতে ঝোপের আড়ালে হলুদের নড়াচড়াটা অনেকক্ষণ ধরেই লক্ষ করছিল রাখী। উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি এলাকার মেয়ে। এইসব লক্ষণ খুব ভালো করেই চেনে। ভাইকে কোলে তুলে পালাতে যাবে ঝোপ থেকে বেরিয়ে এল সেই হলুদ শরীরটা। কোনও ভুল নেই। এটা পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ। এতক্ষণ ঝোপের আড়ালে ঘাপটি মেরে তাদেরই লক্ষ করছিল। পালাবার আর পথ নেই। ভাইকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরল রাখী। দু’জনের উপরেই ঝাঁপিয়ে পড়ল চিতাবাঘ।

উত্তরাখণ্ডের পাউরি জেলার দেবকুনডাই টাল্লি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে গত ৪ অক্টোবর। চিতাবাঘের আক্রমণে গুরুতর জখম হয় ১১ বছরের কিশোরী। ভাইয়ের শরীর আগলে রাখায় তাকে ছুঁতে পারেনি বাঘের নখ। ফালাফালা করেছিল কিশোরীকে। যদিও গ্রামবাসীরা এসে পড়ায় দু’জনকেই বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। রাখীর সাহস দেখে  ধন্য ধন্য করেছে দেশ। কিশোরীকে পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত।

রাখীর কাকিমা মধু দেবী জানিয়েছেন, দুটো বাচ্চার পরিত্রাহী চিৎকার শুনে ছুটে যান গ্রামবাসীরা। দৃশ্য দেখে চমকে ওঠেন তাঁরা। রাখীর উপরেই তখন হামলা চালাচ্ছিল বাঘটা। মেয়েটা রক্তাক্ত হতে হতেও ভাইকে আগলে রেখেছিল। গ্রামবাসীদের হইহল্লা শুনে বাঘটা পালিয়ে যায়। দু’জনকেই নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। মধু দেবী জানিয়েছেন, রাখীর গলায় ও পিঠে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল। চামড়া ছিঁড়েখুঁড়ে দিয়েছিল বাঘটা। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দিল্লিতে নিয়ে গেলে সেখানে প্রথমে ভর্তি নিতে অস্বীকার করে কয়েকটা হাসপাতাল। নিরুপায় হয়ে ওই পরিবার উত্তরাখণ্ডের পর্যটন মন্ত্রী সাতপাল মহারাজের দ্বারস্থ হয়। তাঁরই হস্তক্ষেপে রাখীকে ভর্তি করা হয় দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে।

চিকিৎসার জন্য এক লক্ষ টাকাও পরিবারের হাতে তুলে দেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী সাতপাল মহারাজ। মেয়েটি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই সাহস ও দায়িত্বশীলতার জন্য কিশোরীকে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পাউরির জেলাশাসক ডিএস গারবাল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More