রেমডেসিভিরের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে আশা জাগছে, করোনার সংক্রমণ কমছে, দাবি করল গিলিয়েড সায়েন্সেস

পাঁচদিনের ক্নিনিকাল ট্রায়ালের পরে রিপোর্ট সামনে আনল রেমডেসিভিরের নির্মাতা সংস্থা ক্যালিফোর্নিয়ার বায়োটেকনোলজি ফার্ম গিলিয়েড সায়েন্সেস।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সারাতে কাজে দিচ্ছে রেমডেসিভির। মাঝারি লক্ষণযুক্ত কোভিড রোগী বা যাদের সংক্রমণ সঙ্কটের জায়গায় নেই, তাদের শরীরে ভাল করেছে রেমডেসিভির। পাঁচদিনের ক্নিনিকাল ট্রায়ালের পরে রিপোর্ট সামনে আনল রেমডেসিভিরের নির্মাতা সংস্থা ক্যালিফোর্নিয়ার বায়োটেকনোলজি ফার্ম গিলিয়েড সায়েন্সেস।

    করোনা চিকিৎসায় বিশ্বে যে ৭০ রকম ওষুধের সলিডারিটি ট্রায়াল চলছে তার মধ্যে প্রথমের সারিতেই রয়েছে গিলিয়েড সায়েন্সেসের বানানো অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভির। ইবোলার প্রতিষেধক হিসেবে তৈরি হলেও এই ওষুধ ইবোলা সারাতে কার্যকরী ভূমিকা দেখায়নি। অথচ সার্স ও মার্স ভাইরাস প্রতিরোধে কিছুটা হলেও কাজ করেছিল রেমডেসিভির। সেই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য এই ওষুধকে বেছে নিয়েছিল ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ। মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ)অনুমোদনে করোনা রোগীদের উপরে রেমডেসিভিরের কন্ট্রোলড ট্রায়াল শুরু করে গিলিয়েড সায়েন্সেস।

    আরও পড়ুন: করোনার ওষুধ রেমডেসিভির বানাবে ভারত, তিন সংস্থার সঙ্গে চুক্তি মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট গিলিয়েড সায়েন্সেসের

    সংস্থার গবেষকরা বলছেন, ৬০০ জন রোগী যাঁদের শরীরে করোনা পজিটিভ, তবে সংক্রমণ গভীরে ছড়ায়নি, তাঁদের রেমডেসিভির ইনজেক্ট করা হয়। দেখা গেছে, প্রত্যেকের সংক্রমণই কমতির দিকে। তবে বিস্তারিত রিপোর্ট পরে মেডিক্যাল জার্নালে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থার চিফ মেডিক্যাল অফিসার মার্দাদ পারসে।

    গিলিয়েড সায়েন্সেস জানিয়েছে, অ্যান্টি-ভাইরাল ড্রাগ রেমডেসিভিরের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। পাঁচদিনের কোর্সে নির্দিষ্ট ডোজে রোগীদের শরীরে এই ওষুধ ইনজেক্ট করা হচ্ছে। দেখা গেছে, ১১ দিনের মধ্যেই ৬৫% রোগীর সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমতির দিকে গেছে। এই ট্রায়াল সফল হলে অতি সঙ্কটাপন্ন রোগীদের শরীরে রেমডেসিভিরের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হবে।

    রেমডেসিভির নিউক্লিওটাইড অ্যানালগ (Nucleotide Analog)। আরএনএ ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতাকে নষ্ট করে দিতে পারে এই অ্যান্টি-ভাইরাল ড্রাগ। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে রেমডেসিভির নিয়ে গবেষণা চলছে। এই প্রজেক্টের অন্যতম গবেষক ভারতীয় বংশোদ্ভূত অরুণা সুব্রহ্মণ্যম। তিনি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের ইমিউনোকম্প্রোমাইজড হোস্ট ইনফেকসিয়াস ডিজিজ বিভাগের প্রধান ও চিফ ক্লিনিকাল অফিসার। জানিয়েছেন, দু’টি পর্যায়ে রোগীদের উপর ট্রায়াল শুরু হয়েছে স্ট্যানফোর্ডে। কিছু রোগীর শরীরে পাঁচদিন ধরে একটা নির্দিষ্ট ডোজে রেমডেসিভির প্রয়োগ করা হয়েছে, অন্যদের দশ দিন ধরে ওই ওষুধের ডোজ দেওয়া হয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই একই রেজাল্ট পাওয়া গেছে। পাঁচদিনের কোর্সে যাঁদের রেমডেসিভিরের ডোজ দেওয়া হয়েছিল তাঁদের সংক্রমণ যতটা কমেছে, দশদিনের কোর্স করা হয়েছিল যাঁদের উপরে তাঁরাও একইভাবে উপকৃত।

    গিলিয়েড সায়েন্সেসের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে ভারতেও রেমডেসিভির ওষুধের মূল উপকরণ বানাচ্ছে সরকারি সংস্থা কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর)-এর অধীনস্থ ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল টেকনোলজিতে (সিএসআইআর-আইআইসিটি) । রেমডেসিভিরের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। এই ওষুধের প্রয়োগে ৬৮ শতাংশ রোগীর শ্বাসের সমস্যা কমেছে বলে জানানো হয়েছে। রেমডেসিভির তৈরির লাইসেন্স পেয়েছে দেশের তিন সংস্থা সিপলা, হেটেরো ল্যাব ও জুবিল্যান্ট লাইফসায়েন্সেস। আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, মিশর, ফিজি, ঘানা, কেনিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা-সহ ১২৭টি দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে গিলিয়েড সায়েন্সেস। এইসব দেশেও রেমডেসিভিরের উৎপাদন শুরু হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More