১০ লক্ষ বছরের জন্য তেজস্ক্রিয় বর্জ্য সংরক্ষণ করবে জার্মানি, রুখবে পারমাণবিক দূষণ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো:  পৃথিবীর সব উন্নত ও উন্নয়ণশীল দেশেই রয়েছে একাধিক পারমাণবিক চুল্লি। সেখান থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ও পারমাণবিক বর্জ্য পরিবেশের সঙ্গে মিশছে অহরহ। হাজার হাজার টন এই তেজস্ক্রিয় বর্জ্যকে নিষ্ক্রিয় করে সংরক্ষণ করার কোনও উন্নত প্রযুক্তিই এখনও অবধি সেইভাবে সামনে আসেনি। চেষ্টা চালাচ্ছে রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ। সেই কাজে এবার অভিনব উদ্যোগ নিতে চলেছে জার্মানি। মাটির নীচে নিরাপদ জায়গায় এমনভাবে সংরক্ষণ করে রাখা হবে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য যে সেগুলি মানুষ বা পরিবেশের সংস্পর্শে আসতে পারবে না কোনওভাবেই। প্রায় ১০ লক্ষ বছরের জন্য নিরাপদে শ্বাস নেবে ভবিষ্যত প্রজন্ম।

    জার্মানিতে সবচেয়ে বড় সাতটি পরমাণু চুল্লি রয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, ২০২২ সালের মধ্যে সবক’টিই বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যতদিন না নিরাপদে পারমাণবিক বর্জ্য সংরক্ষণের জায়গা পাওয়া যায়, ততদিন দেশের সমস্ত পরমাণু চুল্লি বন্ধ রাখবে জার্মানি।

    অধ্যাপক মিরান্ডা স্কেরিয়ার্স বলেছেন, সাতটি পরমাণু চুল্লি থেকে নির্গত বর্জ্য জমা রাখতে বিশাল জায়গা দরকার। মাটির নীচে গ্র্যানাইট পাথরে ঘেরা জায়গাই হবে সবচেয়ে নিরাপদ। ২০৮০ সালের মধ্যে ১৯০০টি কন্টেনারে প্রায় ২৮ হাজার ঘনমিটার জায়গা জুড়ে এই বর্জ্য জমা করার কাজ শুরু করবে জার্মানি। মিরান্ডা বলেছেন, প্রতিটি পরমাণু কেন্দ্রেই তৈরি হয় প্লুটোনিয়াম ২৩৯, যেগুলি সক্রিয় থাকে প্রায় ২৪ হাজার বছর। এই তেজস্ক্রিয় বস্তুর বিষক্রিয়া মারাত্মকভাবে প্রভাব ফেলে তার চারপাশের পরিবেশে। তাছাড়াও এই পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে তৈরি হয় রাসায়নিক তরল যেগুলি মাটির সঙ্গে মিশে পরিবেশে ক্ষতিকর প্রভাব ছড়ায়।

    মিউনিখ ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা বলেছেন, প্লুটোনিয়াম ২৩৯ হচ্ছে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ, যা ক্যানসার সৃষ্টির জন্য দায়ী।   একটি মাঝারি মাপের পরমাণু চুল্লি প্রতি বছরে ২৫০-৩০০ কিলোগ্রাম প্লুটোনিয়াম ২৩৯ তৈরি হয় যা লক্ষ লক্ষ বছরের জন্য পারমাণবিক দূষণ তৈরি করে। মৃত জীবেও তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব থেকে যায় এবং পরিবেশেও ক্রিয়াশীল থাকে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই তেজস্ক্রিয় বর্জ্য নিষ্ক্রিয় করে নিরাপদে সংরক্ষণ করতে না পারলে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে প্রাণঘাতী ফুসফুসের ক্যানসার রোগ মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়বে গোটা বিশ্বে।

    ২০১১ সালের মার্চে ভূমিকম্প এবং সুনামির জেরেই ভয়াবহ পরমাণু বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। ধারাবাহিক বিস্ফোরণ আর তেজষ্ক্রিয় বিকিরণের জেরে বিপদ ক্রমশ বাড়ছে দেখে, সরকারই কারখানা সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা খালি কর দেয়। কিন্তু তেজস্ক্রিয় বিকিরণের জেরে ওই এলাকার গাছপালায় অদ্ভুত জিনগত পরিবর্তন দেখা দেয়।

    সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ফুকুসিমা থেকে শিক্ষা নিয়েই পারমাণবিক বর্জ্য সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে মাটির গভীরে নিরাপদ সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলবে জার্মানি। গোটা দেশে উৎপাদিত হাজার হাজার টন তেজস্ক্রিয় বর্জ্য জমা করা হবে সেখানে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More