রবিবার, ডিসেম্বর ৮
TheWall
TheWall

শোভনের মোবাইল থেকে মেসেজ রত্নাকে,‘সত্যের জয় হল…মিউচুয়াল ডিভোর্স দাও’, তারপর..

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাইফোঁটার দিন দুপুরের কথা মনে পড়ে?

বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ঢুকছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। পরে বৈশাখী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, শোভনের সঙ্গে কীরকম স্নেহশীল আচরণ করেছিলেন দিদি।

এ পর্যন্ত অনেকটাই টিভি-র পর্দায় দেখা গিয়েছিল। কিন্তু যা দেখা যায়নি এ বার সেটাই তৃণমূলের মধ্যে জানাজানি হয়ে গেল। তা হল—ভাইফোঁটার সেই বিকেলেই ধর্মপত্নী রত্না চট্টোপাধ্যায়কে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন শোভন।

যতদূর জানা গিয়েছে, রত্নাকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়েছিলেন তাঁর স্বামী তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। তাতে লেখা ছিল, “সত্যের জয় হল। আজ বৈশাখীর সম্মানের জন্য লড়ে জিতলাম তো? মিউচুয়াল ডিভোর্স দাও।”

জানা গিয়েছে, মিনিট পনেরো বাদে শোভনের সেই মেসেজ দেখে উত্তর দেন রত্না। তার পর হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে দু’জনের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ চলে।

কিন্তু ব্যাপারটা সেখানেই থামেনি। জানা গিয়েছে, ভাইফোঁটার পরদিনই কালীঘাটের দিদির বাড়িতে চলে যান রত্না। তারপর মোবাইল বের করে দিদিকে শোভনের ওইসব মেসেজ দেখান তিনি। তৃণমূলের একটি সূত্রের খবর, ওইসব মেসেজ দেখে বেজায় চটে যান দিদি। তিনি শোভনকে ফোন করেন। জানতে চান, কেন এইসব মেসেজ তিনি করেছেন রত্নাকে? যতদূর জানা গিয়েছে, শোভন দিদিকে বলেন মেসেজগুলি তিনি পাঠাননি। তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না।

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের মতে, শোভনের ওই মেসেজের কারণেই তৃণমূল ও সরকারে তাঁর পুনর্বাসনের বিষয়টি আপাতত থমকে গিয়েছে। কারণ, কাননের (শোভনকে ওই নামেই ডাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) উপর দিদি এতে অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলেই খবর। কেন না দিদির বাড়িতে শোভনের ফোঁটা নেওয়াকে যদি বৈশাখীর জয় হিসাবে কেউ তুলে ধরেন, তা হলে তা নেত্রীর জন্য অপমানের বইকি।

প্রশ্ন হল, তা হলে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মোবাইল থেকে কে মেসেজ পাঠাল রত্নাকে?

এ ব্যাপারে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দ্য ওয়ালের তরফে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে পরে এই প্রতিবেদনেই জানানো হবে।

তবে দ্য ওয়াল-কে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “যেদিন শোভন চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন যে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে ডিভোর্স দেবেন সেদিন থেকেই তিনি রত্নার নম্বর ব্লক করে রেখেছেন। কিন্তু তারপরেও ভাইফোঁটার দিন রাতে রত্নার নম্বর থেকে শোভনবাবুর ফোনে বেশ কিছু মেসেজ আসে।” বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ সেইসব মেসেজে তাঁর সম্পর্কে বেশ কিছু অশীষ্ট কথাবার্তা লেখা ছিল। এই গোটা ব্যাপারটা তৃণমূলের কয়েকজন শীর্ষ নেতৃত্বকে জানানো হয় বলেও দাবি করেছেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি তিনি এও বলেন, “এর আগে পুজোর সময়েও ফোন নম্বর ব্লক থাকা সত্ত্বেও শোভনের ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ আসে রত্না চট্টোপাধ্যায়ের নম্বর থেকে। এ ব্যাপারে আইফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি আমরা। তাঁরা জানিয়েছেন নম্বর ব্লক থাকলে মেসেজ আসা সম্ভব নয় যদি না কোনও উন্নত ধরনের হ্যাকিংয়ের কাজ হয়ে থাকে।”

বৈশাখী বন্দ্যোয়াপধ্যায় এও জানিয়েছেন যে এই মেসেজ আসার ব্যাপারে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে জিজ্ঞেস করেছিলেন তিনি। প্রাক্তন মেয়র জানিয়েছেন, তাঁর তরফ থেকে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে কোনও মেসেজ করা হয়নি। সম্ভবত প্রযুক্তির অপব্যবহার করে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে এসব করছেন রত্না চট্টোপাধ্যায়। এ বিষয়ে যা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া তা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন শোভনবাবু।

এ ব্যাপারে রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমে কিছু বলতে চাননি। তবে জানা গিয়েছে, দিদিকে রত্না বলেছেন, মেসেজে যে ভাষায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে তা তাঁর স্বামীর মুখের ভাষা হতেই পারে না। কারণ, তাঁর সঙ্গে শোভনবাবুর সম্পর্ক যতই তলানিতে ঠেকুক, বাইশ বছরের বিবাহিত জীবনে এমন ভাষা স্বামীর মুখে কখনও শোনেননি তিনি।

তা হলে মেসেজটা লিখল কে? দলের নেতাদের রত্না বলেছেন, বুঝতে পারছেন না কে?

তাৎপর্যপূর্ণ হল, দিদির বাড়িতে শোভন ভাইফোঁটা নিতে যাওয়ার পর পরই তৃণমূলের মধ্যে আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল। দলের মধ্যে কিছু নেতা মন্ত্রী ‘আশঙ্কা’ করতে শুরু করে দিয়েছিলেন যে ফের মন্ত্রিসভায় কাননকে ঠাঁই দিতে পারেন দিদি। এমনকী কোন কোন দফতরের দায়িত্ব শোভন পেতে পারেন তা নিয়ে জল্পনাও শুরু হয়ে গেছিল। কিন্তু এই মেসেজের কথা জানাজানি হতে সেই জল্পনা ফের ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছে। অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, শোভন দলে এলেও এখনই কোনও পদ হয়তো পাবেন না।

Comments are closed.