রবিবার, মার্চ ২৪

মেয়েকে পোলিও খাওয়াতে অস্বীকার, আটক পাক অভিনেতা ফাওয়াদ খান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেয়েকে পোলিওর টিকা দিতে চাননি পাক অভিনেতা ফাওয়াদ খান। অভিযোগ অ্যান্টি পোলিও টিম তাঁর বাড়িতে যাওয়ার পর সেখানেই তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন অভিনেতা এবং তাঁর স্ত্রী। অভব্যতার অভিযোগ উঠেছে ফাওয়াদের ড্রাইভারের বিরুদ্ধেও। আর এই ঘটনার জেরেই এফআইআর দায়ের হয়েছে পাক অভিনেতা ফাওয়াদ খানের বিরুদ্ধে। এমনকী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফাওয়াদ সহ ছ’জনকে আটকও করে পুলিশ।

বিশ্বের বিভিন্ন মারণ রোগের মধ্যে পোলিও অন্যতম। সঠিক বয়সে টিকা না নিলে পোলিওর থাবায় পঙ্গু হয়ে যেতে পারে যেকোনও শিশু। সামান্য অসাবধানতার জন্য চিরকালের মতো পঙ্গু হয়ে যেতে পারে একটি শিশু। আর এমন মারণ রোগের প্রতিষেধকই নাকি নিজের মেয়েকে দিতে চাননি ফাওয়াদ। এমনটাই অভিযোগ উঠেছে অভিনেতা এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে।

অ্যান্টি পোলিও টিমের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার ফাওয়াদের বাড়িতে যান তাঁরা। কিন্তু অভিনেতার মেয়েকে পোলিও খাওয়ানোর কথা বলতেই তাঁদের সঙ্গে অভব্য আচরণ করতে শুরু করেন ফাওয়াদ খানের স্ত্রী সাদাফ। অভিযোগ, ফাওয়াদের ড্রাইভার এসে তাঁদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। এরপরেই স্থানীয় ফয়জল টাউন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন অ্যান্টি পোলিও টীমের সদস্যরা। চারটি মামলাও রুজু হয়েছে অভিনেতার বিরুদ্ধে।

তবে গোটা ঘটনাই অস্বীকার করেছেন ফাওয়াদ। তাঁর কথায়, “মিথ্যে অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে আমায়। এই এফআইআর-ও ভিত্তিহীন। কারণ ওই সময়ে আমি এবং আমার স্ত্রী কেউই বাড়িতে ছিলেন না।” পাশাপাশি ফাওয়াদ দাবি করেছেন, তাঁর মেয়ের পোলিও ভ্যাকসিনেশন একেবারেই সঠিক সময়ে হচ্ছে। প্রমাণস্বরূপ মেয়ের ভ্যাকসিন নেওয়ার ভিডিও-ও মিডিয়ার হাতে তুলে দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন এই পাক অভিনেতা।

গোটা ঘটনায় অ্যান্টি পোলিও টিমের মুখপাত্র বারবারা বিন আটা বলেন, “ফাওয়াদ আমাদের গর্ব। ওঁকে অনুরোধ করবো একটু নিয়ম মেনে চলার। ওঁর স্ত্রী-ও বোধহয় বুঝতে পারেননি যে বিদেশ থেকে মেয়েকে ভ্যাকসিন দিয়ে আনলেও পোলিও রোখা যায় না। এর জন্য সঠিক টিকাকরণ প্রয়োজন।” এর পাশাপাশি বারবারা বিন জানিয়েছেন, বিশ্বের পোলিও প্রবণ দেশের মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম। লাহোরেও এর প্রকোপ অত্যন্ত বেশি। কিছুদিন আগেই এখানে একটি বাচ্চার পোলিওতে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। তাই বর্তমানে লাহোরের প্রতিটি বাচ্চার সুস্থতার ক্ষেত্রে পাক প্রশাসন সচেতন।

Shares

Comments are closed.