পুলওয়ামা এনকাউন্টারে খতম জইশের বোমা বিশেষজ্ঞ, ফিদায়েঁ প্রশিক্ষক ফৌজি ভাই ওরফে লম্বু, বড় সাফল্য ভারতীয় সেনার

ঘণ্টাখানেকের এনকাউন্টারে তিন জঙ্গি খতম হয়েছে বলে জানায় সেনাবাহিনী। ওই তিন জঙ্গিই জইশ গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য। তাদের মধ্যেই একজন উপত্যকার জইশ কম্যান্ডার ও বোমা বিশেষজ্ঞ ফৌজি ভাই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলওয়ামার কঙ্গন গ্রাম লাগোয়া আস্তান মোহল্লা এলাকা তখন ঘিরে ফেলেছে সেনাবাহিনীর ৫৫ নম্বর ব্যাটেলিয়ন ও সিআরপিএফের ১৮৩ নম্বর ব্যাটেলিয়নের বাহিনী। সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের স্পেশাল টিম। ওই মোহল্লাতেই লুকিয়ে জইশের বোমা বিশেষজ্ঞ, ফিদায়েঁ হামলার প্রশিক্ষক ফৌজি ভাই ওরফে ‘লম্বু’। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে গোপন ডেরা থেকে গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। পাল্টা জবাব দেয় সেনাও। ঘণ্টাখানেকের এনকাউন্টারে তিন জঙ্গি খতম হয়েছে বলে জানায় সেনাবাহিনী। ওই তিন জঙ্গিই জইশ গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য। তাদের মধ্যেই একজন উপত্যকার জইশ কম্যান্ডার ও বোমা বিশেষজ্ঞ ফৌজি ভাই।

    রাজপোরা চেকপোস্টের কাছে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ছক ছিল এই ফৌজি ভাইয়েরই। গত বছর সিআরপিএফ কনভয়ে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের পিছনেও এই ফৌজি ভাইয়ের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলেই জেনেছেন গোয়েন্দরা। কীভাবে গাড়িবোমা বানাতে হয়, বিস্ফোরক সাজিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালাতে হয়, তার খুঁটিনাটি ছিল এই ফৌজি ভাইয়ের নখদর্পণে। জইশের জন্য কমবয়সী ছেলেদের মগজ ধোলাই করে টেনে আনা, ফিদায়েঁ প্রশিক্ষণ দেওয়া সব কাজই করত এই ফৌজি ভাই ওরফে লম্বু। তার সঙ্গেই সেনার গুলিতে নিকেশ হয়েছে পুলওয়ামার করিমবাদ গ্রামের বাসিন্দা জইশের আর এক আগ্নেয়াস্ত্র বিশেষজ্ঞ জাহিদ মনজুর ওয়ানি এবং শোপিয়ানের বাসিন্দা মানজুর আহমেদ কর। জইশের তিন সক্রিয় সদস্যকে নিকেশ করে ফের জঙ্গি দমন অভিযানে বড় সাফল্য পেল ভারতীয় বাহিনী। সেনা সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জইশ-ই-মহম্মদের পাঁচ জঙ্গিকে এনকাউন্টারে খতম করা হয়েছে।

    জইশের বোমা বিশেষজ্ঞ, কে এই ফৌজি ভাই?

    জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)জানিয়েছে, এই ফৌজি ভাইয়ের অনেক নাম। পাকিস্তানের বাসিন্দা। ২০১৮ সালে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে দেশে ঢোকে। অস্ত্র চালানোয় পারদর্শিতা তো ছিলই, বোমা বানানো, বিস্ফোরক তৈরিতে হাত পাকিয়েছিল এই ফৌজি ভাই। অল্পদিনেই উপত্যকার জইশ সংগঠনের অন্যতম সদস্য হযে ওঠে সে। কখনও ফৌজি ভাই, কখনও ইদ্রিস, হায়দার বা লম্বু নামে ডেরা পাল্টে পাল্টে উপত্যকায় নানারকম নাশকতার কাজ চালিয়ে গেছে সে। আবার ইসমাইল নামেও নাকি জইশ গোষ্ঠীতে তার পরিচয় ছিল। উপত্যকায় এই ফৌজি ভাইয়ের নেটওয়ার্ক বিরাট। গোয়েন্দারা বলছেন, মোবাইল ফোন ব্যবহার করত না, স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে পাকিস্তানে জইশ শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।

    আরও পড়ুন: পুলওয়ামায় গাড়িবোমা হামলার ছক কষেছিল হিজবুল, গোয়েন্দাদের দাবি গাড়ির চালাচ্ছিল ফিদায়েঁ আদিল হাফিজ

    পাকিস্তানের জইশের অন্যতম শীর্ষ নেতা আবদুল রউফ আসগার ২০১৮ সালে জম্মু-কাশ্মীরে তার ডেরা তৈরি করে। গোয়েন্দারা বলছেন, সম্ভবত রউফের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এই ফৌজি ভাইয়ের। আত্মঘাতী হামলার প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ফৌজি ভাইকে কাজে লাগিয়েছিল আসগর। উপত্যকার নানা জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য একজন আইইডি বিশেষজ্ঞের দরকার ছিল জইশ গোষ্ঠীর। নিজের সেই জায়গাই পাকা করেছিল ফৌজি ভাই ওরফে লম্বু। উনিশে পুলওয়ামার লেথপোরায় সিআরপিএফ কনভয়ে আত্মঘাতী গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনাতেও তারই নাম জড়িয়েছে। এক বছর ধরে এনআইএ-র মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় নাম ছিল তার।

    গোয়েন্দাদের অনুমান, জইশ প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহারের আত্মীয় মহম্মদ ইসমাইল আলভিই আসলে ফৌজি ভাই। নিশ্চিত না হলেও গোয়েন্দারা বলছেন, সূত্র মারফৎ জানা গেছে এই মহম্মদ ইসমাইল আলভিই লম্বু নাম নিয়ে উপত্যকায় গা ঢাকা দিয়েছিল। এখানকার জইশ গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করছিল। গতবারের পুলওয়ামা হামলার স্টাইলেই গাড়িবোমা বানিয়েছিল এই ইসমাইল ওরফে ফৌজি ভাই ওরফে লম্বু। আরডিএক্স, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও নাইট্রোগ্লিসারিন ঠাসা হয়েছিল তিনটি সাদা স্যান্ট্রো গাড়িতে। তার একটি রাজপোরা অবধি চালিয়ে এনেছিল হিজবুল জঙ্গি আদিল আহমেদ হাফিজ। বাকি দুটি গাড়ি কুলগাম ও বদগামের কোথাও প্লট করা হয়েছিল বলে গোয়েন্দাদের অনুমান। ওই গাড়ি দুটির খোঁজ চলছে।

    গোয়েন্দারা আগেই বলেছিলেন, পুলওয়ামার লেথপোরার ফিদায়েঁ হামলার মতোই দ্বিতীয়বার গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ছক সাজিয়েছিল উপত্যকার হিজবুল গোষ্ঠী। তবে শুধু হিজবুল নয়, এই নাশকতায় প্রত্যক্ষ মদত আছে জইশেরও। গোয়েন্দাদের অনুমান, এই আদিল আহমেদ হাফিজকে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য নিয়োগ করেছিল এই লম্বুই। সম্ভবত ফিদায়েঁ হামলারই পরিকল্পনা ছিল তার।

    জম্মু-কাশ্মীরের ইনস্পেকটর জেনালের বিজয় কুমার জানিয়েছেন, পুলওয়ামার লেথপোরার স্টাইলে ফের হামলা চালাতে পারে জঙ্গিরা এমন খবর বহুদিন থেকেই দিচ্ছিলেন গোয়েন্দারা। বিস্ফোরক বোঝাই একটি সাদা গাড়ি পুলওয়ামায় হামলা চালাতে পারে এমন খবরও ছিল। আইজি জানিয়েছেন, প্রস্তুতি আগে থেকেই ছিল। পুলওয়ামার বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট তৈরি করে সেনা, আধাসেনা ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের স্পেশাল টিম। গত ২৮ মে, বুধবার বিকেলে রাজপোরা এলাকার একটি চেকপোস্টের কাছে এমনই একটি সাদা স্যান্ট্রো গাড়ি দেখে শূণ্যে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে নিরাপত্তা বাহিনী। গুলির আওয়াজেই পালায় গাড়ির চালক। ৪০-৪৫ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে গাড়িটি থেকে। নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গাড়িটিকে নষ্ট করে দেয় বম্ব স্কোয়াড।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More