সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

নুসরতের বিরুদ্ধে ফতোয়া, পাশে দাঁড়ালেন বিজেপি নেত্রীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেগুনি পাড়ের সাদা শাড়ি, দু’হাতে গাঢ় মেহেন্দি, সিঁথিতে টকটকে লাল সিঁদুর। বিয়ের পর প্রথম দিন সংসদে গিয়েই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান। শাড়ি, মেহেন্দি, সিঁদুর পরে যখন শপথ নিচ্ছিলেন ফোকাস ছিল তাঁর দিকেই। নির্দিষ্ট ধর্মের বেড়াজাল ভেঙে নুসরতের এ হেন সাজপোশাক নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে বিতর্ক। এ বার দেওবন্দের মৌলবাদী সংগঠনের তোপের মুখে পড়লেন তৃণমূল সাংসদ। মুসলিম ধর্মের মেয়ে হয়েও হিন্দু রীতি মেনে সিঁদুর পরার ‘অপরাধ’-এ নুসরতের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করল ইসলামদের ওই সংগঠন।

নুসরতের সিঁদুর পরার প্রসঙ্গে মৌলবাদী সংগঠনের সদস্য মুফতি আসাদ ওয়াসমি বলেন, “ইসলাম ধর্মে মেয়েদের অমুসলিমদের বিয়ে করার অধিকার নেই। বিয়ের পরে হিন্দু রীতি মেনে নুসরত সিঁদুর ও মঙ্গলসূত্র পরে ইসলাম ধর্মকে অসম্মান করেছেন।” সেই সঙ্গেই ওয়াসমির দাবি, “নুসরত একজন অভিনেত্রী। আর অভিনেত্রীরা ধর্মকে গুরুত্ব দেন না। তাঁরা যেটা ভালো মনে করেন সেটাই করেন। তাই সংসদে এমন আচরণ দেখা গেছে নুসরতের মধ্যে। ”

রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেও প্রতিপক্ষের পাশে দাঁড়াতে দেখা গেছে রায়গঞ্জের বিজেপি সাংসদ তথা নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী ও বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রাচীকে। ফতোয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন রায়গঞ্জের বিজেপি সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরী৷ তিনি জানান, নিজের ধর্ম উল্লেখ করে, আত্মপরিচয় দেওয়া সাংবিধানিক অধিকার৷ সেই বিষয়ে ফতোয়া জারি করা অন্যায়৷ কেবল রায়গঞ্জের সাংসদই নন, একই ইস্যুতে নুসরতের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রাচীও৷ তাঁর কথায়, “এক মুসলিম মহিলা হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করে টিপ, সিঁদুর, মঙ্গলসূত্র পরলে, ইসলাম ধর্মগুরুদের কাছে সেটা হারাম। অথচ যখন মুসলিম ছেলেরা আমাদের মেয়েদের জিহাদের নামে তুলে নিয়ে গিয়ে বোরখা পরাতে বাধ্য করে তখন সেটাকে কি হারাম বলা চলে না?”

অভিনয় জীবনে বেশ কয়েকবার ট্রোলিংয়ের শিকার হয়েছেন নুসরত। হালে নিখিল জৈনকে বিয়ে করা নিয়েও জলঘোলা কম হয়নি। এর পরে সিঁদুর বিতর্ক। নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে নুসরত লিখেছেন, “আমি সর্বধর্ম সমন্বয়ের ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছি, যা জাতপাত, ধর্মের বেড়াজালের উর্ধ্বে। মুসলিম হলেও আমি সব ধর্মকে সম্মান করি। আমার তো মনে হয় কোন ধর্ম অনুসরণ করব, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সকলের রয়েছে। আর আমি কী পোশাক পরব, সেটা সম্পূর্ণই আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছার উপরে নির্ভর করে। আমি মনে করি বিশ্বাস, পোশাক বিধির থেকেও অনেক বড়। ”

বিজেপি নেত্রীদের পাশাপাশি নুসরতের পাশে দাঁড়াতে দেখা গেছে তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ মিমি চক্রবর্তীকেও। নুসরতের টুইটের প্রসঙ্গে ধরে নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “আমরা ভারতীয়, আর সেটাই আমাদের একমাত্র পরিচয়। আমরা গর্বিত ভারতীয় আর তোমাকে (নুসরত) খুব ভালোবাসি।”

সদ্য তুরস্কের বোদরুমে পেশায় ব্যবসায়ী নিখিল জৈনকে বিয়ে করেছেন নুসরত। সে কারণেই সংসদের প্রথম দিনে শপথ নিতে পারেননি বসিরহাটের এই তৃণমূল সাংসদ। গত মঙ্গলবার সংসদে বাংলায় শপথ নেন নুসরত। শুরুতে ‘সালাম ওয়ালেকুম’ এবং শপথ শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শোনা যায় তাঁর মুখে। শপথ শেষে স্পিকারের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতেও দেখা গিয়েছিল সদ্য নির্বাচিত সাংসদকে। ওয়াসমি পাশাপাশি নুসরতকে টার্গেট করেন দেওবন্দের ইসলাম সংগঠনের আরও এক সদস্য মৌলানা কোয়ারি। তিনি বলেন, “নুসরতের পাশে যাঁরা দাড়াচ্ছেন সেই সাধ্বী প্রাচীরা জানেন না উলেমা কাকে বলে। সেই মহিলারা নিয়ন্ত্রণে থাকেন না, দেশে আগুন লাগিয়ে দেন। তারা সর্বদাই বিষ উগড়ে দেন, দেশকে ভাগ করার চেষ্টা করেন। আমাদের ধর্মের ভালোবাসা ও শান্তির দিকটা তাঁরা দেখেন না। আমার মনে হয় আগে উলেমা সম্বন্ধে জেনে তার পর মন্তব্য করা উচিত। “

Comments are closed.