গরু নিয়ে গোল্ড লোনের অফিসে চাষি, সোনা নিন, টাকা দিন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোনা বন্ধক দিলে ঋণ দেয় যে সংস্থা, তাদের অফিসেই একটি গরু আর একটি বাছুর নিয়ে সটান হাজির হলেন এক চাষি। দাবি, গরু নিন, ঋণ দিন। অনুপ্রেরণায় বিজেপি রাজ্যসভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ।

হ্যাঁ! এমনটাই ঘটেছে হুগলির চণ্ডীতলার গরলগাছা এলাকায়। পেশায় চাষি সুশান্ত মণ্ডল একটি প্রমাণ মাপের গরু এবং একটি বাছুর নিয়ে চলে গেলেন একটি গোল্ড লোনের অফিসে। তাঁর দাবি, এই গরু আর বাছুর জমা রেখে তাঁকে ঋণ দেওয়া হোক। তিনি ব্যবসা বাড়াবেন।

২০টি গরু আছে সুশান্তবাবুর। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “কয়েক দিন ধরেই মিডিয়াতে দিলীপ ঘোষের কথা শুনেছি। উনি বলেছেন গরুর কুঁজে স্বর্ণনাড়ি আছে। তাতে সূর্যের আলো পড়লেই সোনা বেরোবে। তাই আমি গিয়েছিলা। লোন পেলে ব্যবসা বাড়ানোর ইচ্ছে ছিল। কিন্তু ওরা নিতেই চাইল না।”

গোল্ড লোনের দফতর থেকে বেরিয়ে ওই গোপালক সোজা চলে যান স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে। দাবি করেন ব্যবস্থা করে দেওয়ার। পঞ্চায়েত প্রধান মনোজ সিংও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দিলীপবাবুর ওই কথার পর তাঁকেও এরকম ঘটনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এর আগেও নাকি বেশ কয়েকজন তাঁকে গরু বন্ধক রেখে লোন পাওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছেন।

সোমবার দিলীপবাবু বর্ধমান টাউন হলে গাভী কল্যাণ সমিতির সভায় যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, “গরুর দুধে সোনার ভাগ থাকে। ওই জন্য গরুর দুধের রং সোনালি হয়।” এখানেই থামেননি দিলীপবাবু। তাঁর কথায়, “দেশি গরুর কুঁজে স্বর্ণনাড়ি থাকে। সেখানে সূর্যের আলো পড়লেই সোনা বের হয়।” ওই অনুষ্ঠানে দিলীপবাবু পরামর্শের সুরে বলেছেন, “জার্সি গরুর দুধে ভারতীয় গরুর মতো গুণ নেই। আমাদের দেশের গরু মায়ের মতো। আর বিদেশি গরু আন্টির মতো।”  এরপর তিনি বলেন, “দেশি গরুর দুধে সব রকমের গুণ আছে। আমি অনেককে জানি, যাঁরা গরুর দুধ আর গঙ্গাজল খেয়ে বছরের পর বছর বেঁচে আছেন।”

গরুর দুধে সোনা থাকার তত্ত্ব নিয়ে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় হইহই পড়ে গিয়েছে। অনেক প্রাণীবিজ্ঞানীও বিষয়টি শুনে কার্যত অবাক। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের এক অধ্যাপক তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেছেন, “গরুর দুধে সোনা: এমন গবেষণা কোথায় হয়েছে তা জানতে পারলে ধন্য হতাম।” যদিও এর মধ্যে দিলীপ ঘোষও গরুর দুধে সোনার ভাগের ব্যাপারে বৈজ্ঞানিক তথ্য পেশ করেছেন। পোল্যান্ডের একটি গবেষণাপত্র দেখিয়ে দাবি করেছেন, গরুর দুধে সোনা, প্ল্যাটিনামের মতো খনিজ পদার্থ আছে। কিন্তু গরলগাছার গোপালক গরু জমা দিয়ে টাকা নিতে সোজা গোল্ড লোনের দফতরে চলে যাবেন, তা বোধহয় আন্দাজও করতে পারেননি তিনি!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More