শনিবার, জানুয়ারি ২৫
TheWall
TheWall

ভবিষ্যৎ কিন্তু ব্যক্তিগত, মনে করিয়ে দিলেন জুকারবার্গ! জানালেন, ফেসবুকে গুরুত্ব পাবে ব্যক্তিগত বিনিময়ই

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফেসবুক মানেই যেন খোলা মাঠ। এখানে যে যেমন খুশি, যা খুশি শেয়ার করতে পারেন বলেই মনে করেন অনেকে। কিন্তু এই খোলামেলা ফেসবুকে এবার  গোপনীয়তাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে জানালেন ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সংস্থা এখন তাদের পোস্ট বা বিজ্ঞাপনের চেয়ে, মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশনগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে।

সহজ কথায় বলতে গেলে, প্রাইভেসি বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়গুলোকেই পুঁজি করে যোগাযোগের নতুন ব্যবসা দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। কারণ মার্ক জুকারবার্গের কথায়, “আমাদের ভবিষ্যৎ ভীষণ ভাবে ব্যক্তিগত।” তাই ফেসবুককে ‘প্রাইভেসি ফোকাসড কমিউনিকেশনস প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবেই দেখতে চান বলে জানিয়েছেন সংস্থার সিইও মার্ক জুকারবার্গ।

আজ, মঙ্গলবার থেকে আমেরিকায় শুরু হওয়া ফেসবুকের বার্ষিক এফ-৮ সম্মেলনে এই কথা জানিয়ে, মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশনগুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ফেসবুক।

মার্ক জুকারবার্গ অবশ্য মার্চ মাসেই ঘোষণা করেছিলেন, ফেসবুকের ভবিষ্যৎ মূলত ব্যক্তিগত যোগাযোগের ওপরেই নির্ভরশীল। তাই অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগের বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে ফেসবুকের বিশেষ ফিচার তৈরির বিষয়টি আগামী পাঁচ বছর ধরে প্রাধান্য পাবে বলে জানা গিয়েছে এফ-৮ সম্মেলনে।

বস্তুত, বেশি ‘খোলামেলা’ ফিচারের জন্যই সম্প্রতি বেশ খারাপ সময় গিয়েছে ফেসবুকের। সম্প্রতি তথ্য ফাঁসের কেলেঙ্কারির মুখে পড়েছিল সংস্থা। কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা ও ভুয়ো খবর ছড়ানো ঠেকাতে ব্যর্থতা নিয়ে বড় নিন্দার মুখে পড়েছে ফেসবুক। এ ছাড়া ফেসবুকের পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। তাই এই সব দিকে বিশেষ নজর দিয়ে, খারাপ সময় কাটিয়ে ব্যবসায় নতুন পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন জুকারবার্গ।

সেই কারণেই এফ-৮ সম্মেলনে যে এক ডজনের বেশি বিষয় নিয়ে আলোচনা রয়েছে, তাদের মধ্যে একটি হচ্ছে ‘ডিপ ডাইভ অন মেসেঞ্জার আপডেট।’ বস্তুত, এফ ৮ সম্মেলনে প্রতি বছরই ফেসবুকের নতুন কিছু পণ্য বা ফিচার ঘোষণা করা হয়। গত বছর ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি হেডসেট অকুলাস গো বিক্রির ঘোষণা করেছিল ফেসবুক। এ ছাড়া ডেটিং ফিচার ও ক্লিয়ার ফিচারের ঘোষণাও করা হয়েছিল। কিন্তু এর কোনওটিই ফেসবুককে তেমন ব্যবসা দেয়নি।

নেট-বিশ্লেষকেরা বলছেন, এবার ফেসবুক ব্যবসাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। তাঁরা বলছেন, জুকারবার্গ ভালই বুঝেছেন যে, তাঁর ব্যবসা বাড়াতে হলে মোবাইল মেসেজে শেয়ার বাড়াতে হবে। ইতিমধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার শক্ত ভিত গড়ে তুলেছে এ বিষয়ে। তবে আমেরিকা ও জাপানের মতো গুরুত্বপূর্ণ টেক-স্যাভি দেশে অবশ্য ব্যক্তিগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে মানুষ এখন আর ফেসবুকের সেবায় আস্থা রাখে না। সে দু’টি দেশে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপলের আইমেসেজ।

কিন্তু ব্যক্তিগত মেসেজিংয়ে গুরুত্ব দিলেও, ফেসবুকের মেসেজিং পরিষেবা থেকে ঠিক কী ভাবে অর্থ আয় হবে, তা ফেসবুকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলেই মনে করছেন অনেকে। তুলনায় বিজ্ঞাপন বা বুস্টিংয়ে অনেক বেশি টাকা আয় করে ফেসবুক। গত বছরেই অনলাইন বিজ্ঞাপন থেকে ফেসবুক ৫ হাজার ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার আয় করেছে বলে সূত্রের খবর।

মনে করা হচ্ছে, ফেসবুকের ব্যক্তিগত মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে পণ্য কেনাবেচার সুযোগ করে দেবে ফেসবুক। মেসেঞ্জারেও বিভিন্ন ব্যবসায়ী অর্থের বিনিময়ে পণ্য বিক্রি করার সুযোগ পাবেন নেটিজেনরা। তারই লভ্যাংশ জমা হতে পারে জুকারবার্গের খাতায়।

সূত্রের খবর, ফেসবুক তাদের যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, তার বাস্তব উদাহরণ এখন চীন। সে দেশের মানুষ শিয়াওহংসু নামের সামাজিক যোগাযোগের অ্যাপ ব্যবহার করে কেনাকাটা করছে। তথ্য বলছে, ২০২২ সাল নাগাদ দেশটিতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কেনাকাটার পরিমাণ ১৫ শতাংশ পৌঁছে যাবে। যা ২০১৭ সালে ছিল মাত্র সাড়ে ৮ শতাংশ।

মনে করা হচ্ছে, জুকারবার্গ এখন চীনের ওই অনলাইন কেনাকাটার ধরনটাই সারা বিশ্বে প্রয়োগ করে অর্থ আয় করতে চাইছেন।

জুকারবার্গ সম্মেলনে বলেন, “আসলে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎটা যেভাবে বাঁচতে চাই, ফেসবুকটাকেও আমি তেমন করে বানাতে চাইছি। এমন একটা যোগাযোগ দুনিয়া তৈরি করতে চাইছে ফেসবুক, যাতে মানুষ তাদের ইচ্ছে মতো মুক্ত হয়ে চলাচল করতে পারে, এবং তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তদের কেবল তাদেরই দেখতে দিতে পারবে, যাদের তারা দেখাতে চায়। ফেসবুকের প্রাথমিক শর্ত হবে গোপনীয়তা। নিরাপত্তা বাড়িয়ে ক্ষতির সম্ভাবনা ন্যূনতম করা হবে। প্রাইভেট হোক বা পাবলিক, তার নিয়ন্ত্রণ মানুষের নিজের হাতে আরও কড়া ভাবে থাকবে।”

Share.

Comments are closed.