সোশ্যাল মিডিয়ায় দশ বছর চ্যালেঞ্জে মেতেছেন? কী বিপদ হতে পারে জেনে নিন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দশ বছর আগে কেমন দেখতে ছিলেন আপনি, আর দশ বছর পরে এখন কেমন! সোশ্যাল মিডিয়ায় জুড়ে এখন সেই ট্রেন্ডেই মাতোয়ারা জেন এক্স, জেন ওয়াই। মিমও হয়েছে এই অ্যাপের। যেখানে রাজনীতিবিদ থেকে অভিনেতা—বাদ যাচ্ছেনা কিছুই। তাতে লাইক, কমেন্টও অজস্র। ভেবে দেখেছেন কখনও, এই হিড়িকে মাতলে আপনার কোনও বিপদ হবে না তো!

    সোশ্যাল মিডিয়া মানেই তো খুল্লমখুল্লা চর্চা। আপনি যখন দশ বছর আগের চেহারা যখন দিচ্ছেন, তাতে কী কী টেকনোলজি ব্যবহার হচ্ছে বা তা থেকে আপনার সম্পর্কে কী কী তথ্য জানা যাচ্ছে, আপনার সেটা জানা নেই নিশ্চয়ই। টেকনোলজি এখন অনেক উন্নত। এর যেমন ভালো দিক রয়েছে, তেমনি রয়েছে খারাপ দিকও। EXIF (EXCHANGABLE IMAGE FILE)data থেকে আপনার বয়স, কোথায় তোলা হয়েছে সেই ছবি দু’টো বা কে তুলেছেন, কোন ক্যামেরায় এবং তার কী লেন্স এই সব তথ্যই সহজে পাওয়া যাচ্ছে। এই টেকনোলজির জন্যই আপনি যখন আপনার বদলে ছবিতে কুকুর, বিড়াল বা অন্য কিছুর ছবি আপলোড করেন তখন সেটা বাতিল হয়। অথচ আপনি এতকিছু না জেনেই লাইক, শেয়ারের বন্যায় আহ্লাদে আটখানা। ফলে আপনার সব ডেটাই ফেসবুকের জিম্মায়।

    এর অন্য অসুবিধাও রয়েছে! ধরুন, বিমার জন্য আপনি আবেদন করলেন, আর সেই সংস্থা আপনার ‘ফেস রেকগনিশন’-এর মাধ্যমে আপনার দশ বছর আগের গতিবিধির উপর নজর করে আপনাকে বিমা দিতে অস্বীকার করতে পারে। অতএব সাবধান হন।

    তবে এই টেকনোলজির কিছু ভালো দিকও আছে। ২০১৮ সালে নিউ দিল্লিতে ৩০০০ শিশুকে উদ্ধার করেছিল পুলিশ এই টেকনোলজির মাধ্যমে। মাত্র চার দিনে এই টেকনোলজিতেই সাফল্য এসেছে। বছরের পর বছর যাঁরা তাঁদের সন্তানদের খুঁজে পান না, তাঁরা এই পদ্ধতিতেই মুখের গঠন-সহ বহু তথ্য মিলিয়েই তাঁদের ছেলেমেয়েদের কাছে পেয়েছেন।

    ২০১৬ সালে, অ্যামাজন একটি রিয়েল-টাইম ‘ফেস রেকগনিশন’ প্রযুক্তি চালু করেছিল। মূলত সরকারি কাজে সাহায্যের জন্যই তারা অরল্যান্ডো ও ওয়াশিংটন কাউন্টি এবং ওরেগনে এই ব্যবস্থা চালু করেন। দাগি অপরাধীদের ধরতে বা প্রশাসনিক কাজে পুলিশও এই টেকনোলজি ব্যবহার করে। কিন্তু আমেরিকার সিভিল লিবার্টি ইউনিয়ন অ্যামাজনকে এই পরিষেবাটির বিক্রি বন্ধ করতে বলছে। অ্যামাজন শেয়ার হোল্ডার এবং কর্মচারীদের একটি অংশও কোম্পানির মূল্যায়ন এবং খ্যাতির বিষয়ে উদ্বেগের ভিত্তিতে পরিষেবাটি আপাতত থামিয়ে রাখতে বলেছে।

    মোদ্দা কথা হল, কোনও কোম্পানি তার প্রয়োজনে এই ধরনের অ্যাপস বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাভবান হতেই পারে, কিন্তু আপনার ক্ষতি ছাড়া কিছুই নয়। তাই অযথা স্রোতে না ভেসে ভেবে দেখুন ১০-২০ বছরের ছবি দিয়ে লাইক, শেয়ারে মাতবেন না নিজের তথ্য নিজের কাছেই রাখবেন!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More