শুক্রবার, মে ২৪

‘যাত্রীগণ কৃপয়া ধ্যান দে…’, রেল স্টেশনে রোজ যাঁর গলা শোনেন তাঁকে চিনুন, জানুন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘যাত্রীগণ কৃপয়া ধ্যান দে…’। অনেক বার হয়তো আপনার মনে প্রশ্ন জেগেছে, এই গলার আওয়াজটি কার? কেমন দেখতে তাঁকে? আসুন চিনে নেওয়া যাক। জেনে নেওয়া যাক সেই মহিলার কাহিনি।
হাওড়া কিংবা দিল্লি সব স্টেশনেই গলার স্বর এক। ট্রেনে সফর করতে হলে উৎকর্ণ হয়ে থাকতে হয় ট্রেন ঘোষণার জন্য। ট্রেন স্টেশনে ঢোকার আগে ভীষণ চেনা একটি মহিলা কণ্ঠ হিন্দি ভাষায় মাইকে জানিয়ে দেয় কোন স্টেশন কোন প্লাটফর্ম থেকে কখন ছাড়বে। কিংবা আরও অনেক ঘোষণা।

এই গলার আওয়াজটি যাঁর, তাঁর নাম সরলা চৌধুরি। ১৯৮২ সালে সরলা সেন্ট্রাল রেলওয়েতে অ্যানাউন্সারের পদের জন্য পরীক্ষা দেন। পরীক্ষা পাসের পরে প্রথমে দৈনিক পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে বছর চারেক কাজ করতে হয় সরলাদেবীকে। কিন্তু তাঁর কণ্ঠস্বর এতই মধুর ছিল যে, ১৯৮৬ সালে সেন্ট্রাল রেলওয়ে তাঁকে স্থায়ী অ্যানাউন্সার হিসেবে নিয়োগ করে। সেই সময়ে প্ল্যাটফর্মের অ্যানাউন্স সিস্টেম কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ছিল না। ফলে মূল ঘোষণাগুলি রেকর্ড করে চালানো সম্ভব হলেও, আচমকা তৈরি হওয়া কোনও পরিস্থিতির উপযোগী ঘোষণার জন্য স্টেশন থেকে স্টেশনে ছুটে বেড়াতে হত সরলা দেবীকে।

সরলা চৌধুরি

কিন্তু শুধুই হিন্দি ভাষার ঘোষণা তো আর সর্বত্র চালানো সম্ভব নয়, তাই মরাঠিতেও বিভিন্ন পরিস্থিতির কথা ভেবে ঘোষণা রেকর্ড করতে হয় সরলাদেবীকে। এই গোটা রেকর্ডিং প্রসেসটি শেষ করতে ৩-৪ দিন সময় লেগেছিল বলে এক সংবাদমাধ্যমকে একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন সরলাদেবী।

পরবর্তী কালে ট্রেন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (টিএমএস) চালু হয়। এখন এই পদ্ধতির মাধ্যমেই প্ল্যাটফর্মে ঘোষণার বিষয়টি দেখভাল হয়। কিন্তু থেকে যায় সরলাদেবীর কণ্ঠস্বর। সেই ঘোষণা গুলোকেই স্ট্যান্ড বাই মোডে কন্ট্রোল রুমগুলিতে সেভ করে ফেলে। ফলে দেশজুড়ে সমস্ত স্টেশনেই হিন্দি ঘোষণাটি এখনও সরলার কণ্ঠেই বেজে ওঠে। বিগত কুড়ি বছর ধরে স্টেশন থেকে স্টেশনে এমনটাই হয়ে আসছে।

পরে অবশ্য অ্যানাউন্সারের কাজ ছেড়ে দেন সরলাদেবী। যোগ দেন রেলওয়ের ওভারহেড ইকুইপমেন্টস বিভাগে। কেমন লাগে, যখন রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে নিজের গলার আওয়াজ শুনতে পান? সেই সাক্ষাৎকারে সরলাদেবী হেসে বলেছিলেন, “খুব আনন্দ হয়। মনে হয়, একদিন আমি থাকব না, কিন্তু আমার গলার আওয়াজ তো লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে গেঁথে থাকবে।”
সত্যিই গেঁথে গিয়েছে। রেলের ঘোষণায় ওই স্পষ্ট ও সুরেলা স্বর সব যাত্রীরই চেনা। কিন্তু সবার কাছে চেনা নন সরলাদেবী।

Shares

Comments are closed.