বাংলাদেশের মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, মহিলা ও শিশু-সহ মৃত অন্তত ১৬, আহত অসংখ্য

৩৬১

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভয়াবহ বিস্ফোরণ বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের মসজিদে। এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে শিশু এবং মহিলাও। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহত অবস্থায় যাঁরা হাসপাতালে ভর্তি তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের পশ্চিমে বায়াতুস সালা মসজিদে। শুক্রবার রাত ৮.৩০ নাগাদ নমাজ পড়ার জন্য অনেকে মসজিদে জড়ো হয়েছিলেন। প্রার্থনার যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে সেই সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। আগুন ও কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় মসজিদ সংলগ্ন অঞ্চল।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মসজিদের পাশ দিয়ে গ্যাসের পাইপলাইন গিয়েছে। সেখানে অনেকদিন ধরেই ফাটল ছিল। অনুমান মসজিদের তলার অংশের সঙ্গে মাটির নীচে দিয়ে যোগ ছিল এই পাইপলাইনের। হয়তো কোনও ভাবে পাইপলাইনের লিকেজ দিয়ে মসজিদের ভিতরে গ্যাস জমা হয়েছিল। কিন্তু নামাজ পড়তে আসা ব্যক্তিরা কেউ কিছু টের পাননি। ফলে ফ্যান এবং এসির সুইচ দেওয়া মাত্রই ঘটে অঘটন। তীব্র বিস্ফোরণে ফেটে যায় এসি। গ্যাসের উপস্থিতি থাকায় নিমেষে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে মসজিদের ভিতরের অংশ। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বেঁকে গিয়েছে ফ্যানের ব্লেড। পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছে মসজিদের ভিতরের বিস্তীর্ণ অংশ।

দগ্ধ অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালে আনা হয়। সেখান থেকে বেশ কয়েকজনকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে রেফার করা হয়েছে। দুই হাসপাতালেই ভর্তি দগ্ধ রোগীদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। কারও শরীর ৭৫ শতাংশেরও বেশি পুড়ে গিয়েছে। কারও বা তারও বেশি। অনেকের শ্বাসনালী ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মৃত ব্যক্তিদের দেহ এমন ভাবে ঝলসে গিয়েছে যে শনাক্তকরণে সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।

এই ঘটনায় তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড—- এই তিনটি পক্ষ থেকে একটি করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে তৈরি হওয়া ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচদিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মৃতদেহ কবরস্থ করার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। আর আহতদের চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More