রবিবার, অক্টোবর ২০

উত্তর-পূর্বের সব শিশুকেও হিন্দি শেখাব, গোটা দেশে এক ভাষা চাপাতে চান অমিত শাহ  

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘এক দেশ-এক ভাষা’র তত্ত্বকে আরও একবার উস্কে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার হিন্দি দিবস উপলক্ষে নয়াদিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে শাহ বলেন, “সারা দেশে একটা ভাষা হওয়া খুব জরুরি। সারা দুনিয়ায় ভারতের পরিচিতিকে তুলে ধরতেই এই মুহূর্তে তা গুরুত্বপূর্ণ।” জোর দিয়ে বলেন, “ভারতের উত্তর পূর্বের সব শিশুকে হিন্দি বলাব।” হিন্দিকে জাতীয় ভাষা করারও দাবি তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, “এক দেশ-এক ভাষা মহাত্মা গান্ধী এবং সর্দার বল্লভ ভাই পটেলের স্বপ্ন ছিল। তা আমাদের পূরণ করতে হবে।”

তবে এ দিনের বক্তৃতায় শাহ স্বীকার করে নেন যে ভারত বহু ভাষাভাষীর মানুষের দেশ। এবং প্রতিটি ভাষারই নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে। তবে  তার মধ্যেই হিন্দিকে দেশের জাতীয় ভাষা হিসাবে ঘোষণা করার প্রস্তাব রাখেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অমিত শাহ হিন্দি দিবসে টুইট করে লেখেন, “প্রতি বছর ১৪ সেপ্টেম্বর দিনটি হিন্দি ভাষা দিবস হিসাবে পালিত হয়। যখন ভারতের গণপরিষদ হিন্দিকে ভারতের সরকারি ভাষা হিসাবে গ্রহণ করেছিল, সেই দিনের তাৎপর্যকে চিহ্নিত করেই এই দিনটি পালন করা হয়ে থাকে। দেবনাগরী লিপিতে রচিত হিন্দি, দেশের ২২ টি তফসিলী ভাষার একটি। তবে হিন্দি হল কেন্দ্রীয় সরকারের দুটি সরকারি ভাষার মধ্যে একটি। অন্যটি হল ইংরেজি ভাষা। তাঁর কথায় “বর্তমানে যদি এমন একটিও ভাষা থাকে যা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে, তা হল হিন্দি ভাষা। এটি ভারতের সর্বাধিক ব্যবহৃত এবং সহজবোধ্য ভাষা”।

চলতি বছরের জুন মাসে, নতুন শিক্ষা নীতি ২০১৯- এর খসড়ার পরে দেশ জুড়ে তীব্র বিরোধিতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে। বিশেষত দক্ষিণ রাজ্যগুলি থেকে চরম প্রতিবাদ আসে। দেশের সমস্ত স্কুলে হিন্দি বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করে কেন্দ্রীয় সরকার। তারপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে দক্ষিণের রাজ্য গুলি। তামিলনাড়ুরে বিজেপি-র জোট সঙ্গী জয় ললিতার পার্টি এআইডিএমকে-ও সুর চড়ায় হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ক্ষোভ উগরে দেন। পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দেন, বাংলার স্কুলে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত মানা হবে না। সাময়িক ভাবে পিছু হটে কেন্দ্র। এ দিন ফের একবার সেই সওয়াল করলেন বিজেপি সভাপতি।

তবে অনেকেই অমিত শাহের এই কথায়, জবরদস্তির মনোভাব দেখছেন। তাঁদের বক্তব্য, ভাষা নিয়ে চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি করছে বিজেপি। ‘হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তান’-এর স্লোগানকে বাস্তবায়িত করতে চাইছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে এই নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। অধিকাংশ দক্ষিণী রাজ্যেই হিন্দি কার্যত ‘অচল ভাষা।’ সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন স্বর নতুন উত্তেজনা তৈরি করবে বলেই মনে করছেন তাঁরা।

Comments are closed.