শনিবার, আগস্ট ১৭

একুশ শতকের মঞ্চে আসছে সত্তরের দশকের ‘ক্যাপ্টেন হুর্‌রা’

সোহিনী চক্রবর্তী

হাতে মাত্র আর কয়েক ঘণ্টা, তার পরেই জ্ঞান মঞ্চে মঞ্চস্থ হবে তাঁর নতুন নাটক ‘ক্যাপ্টেন হুর্‌রা’। ফাইনাল রিহার্সালের মাঝেই দ্য ওয়াল-এর সঙ্গে একটা ছোট্ট আড্ডা দিলেন নাটকের পরিচালক সৌরভ পালোধী।

মঞ্চে হঠাৎ ‘ক্যাপ্টেন হুর্‌রা কেন’?

“যদিও নাটকটা সত্তরের দশকের প্রেক্ষাপটে লেখা, তবুও মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের ক্যাপ্টেন হুর্‌রা নাটকের বিষয়টা এই সময়ে বড় প্রাসঙ্গিক। আসলে আমাদের বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থার একটা বিকল্প দরকার। প্রয়োজন একটা বিকল্প দেশের। আর সত্তরের দশকেই তো বিকল্পের শুরু, নানা মুভমেন্ট শুরু হয়েছে। আর বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার প্রেক্ষিতে ক্যাপ্টেন হুর্‌রাকে আমাদের প্রয়োজন।”

তবে সৌরভ জানিয়েছেন, একই রয়েছে নাটকের মূল টেক্সট। সৌরভ বলেন, “বহুদিন আগে নাটকটা পড়েছি। মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের লেখার মধ্যে ক্যাপ্টেন হুর্‌রা কিন্তু আমার অন্যতম পছন্দের। আর এখন যে সময় এসেছে তাতে এমন একটা বিষয় মঞ্চস্থ করাটা খুব দরকার।”

সৌরভ পালধির কাছে ‘ক্যাপ্টেন হুর্‌রা’ ঠিক কেমন মানুষ?

ক্যাপ্টেন হুর্‌রা ভীষণ মজার একজন লোক। আমুদে লোক। গুনগুন করে গান করেন। সেই গান মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে যায়। নিরপেক্ষ মানুষকেও একটা পক্ষ নিতে শেখায়। আর এই পক্ষ নেওয়াটা বর্তমানে খুব দরকার। আরে বাবা ভালো মন্দ যা হোক কিছুর একটা পক্ষ তো নিতেই হবে। আর সেটাই আমাদের শেখাবেন ক্যাপ্টেন হুর্‌রা।

বাস্তবের ক্যাপ্টেন হুর্‌রা তো পুরুষ আর আপনার নাটকে নারী। এটা কেন?

চরিত্রটা নিয়ে আমি কিন্তু ওইভাবে নারী-পুরুষ কিছু ভাবিনি। আর আমার মনে হয় মোহিতবাবু যে ধরনের প্রগতিশীল মানুষ তাতে তিনিও এমন কিছু ভেবে বোধহয় নাটকটা লেখেননি। ইনফ্যাক্ট নাটকটা পড়ার সময় ‘মিস্টার’ আর ‘স্যার’ এই দুটো শব্দ ছাড়া আমার একবারের জন্যেও মনে হয়নি যে ক্যাপ্টেন হুর্‌রা পুরুষ চরিত্র। মোদ্দা কথা হলো ওসব নারী-পুরুষ কিছু মাথাতেই আসেনি। শুধু একটাই কথা জানতাম এই চরিত্রটা তূর্ণার চেয়ে ভালো কেউ করতে পারবে না।

রিহার্সালের ফাঁকে

আড্ডার ফাঁকে সৌরভ নিজেই জানালেন দর্শকদের জন্য এই নাটকের অন্যতম প্রাপ্তি নাটকের গান। সৌরভ বলেন, “এখন তো চটকের যুগ। চটকেই আমরা চট করে মজে যাই। সেই সমাজে দাঁড়িয়ে মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের এই নাটক একেবারেই ক্লাসিক ঘরানার। আর সেই ঘরানারই একটা অঙ্গ হলো সুর। নাটকটা যতোবার পড়েছি কানে সুরটাই বাজতো। বলতে পারেন এটা একটা মিউজিকাল ড্রামা।”

নাটকের মিউজিকের জন্য দেবদীপ মুখোপাধ্যায়ই কেন?

দেখুন আজকাল অনেকেই থিয়েটারে মিউজিক করে। আমি চাইলেই অন্য কাউকে দিয়ে করাতে পারতাম কাজটা। কিন্তু সেটা আমি চাইনি। দেবদীপ একদম নতুন। সেভাবে এই ধরণের কাজ আগে করেনি। আর আমিও ওকে বলিনি যে আমি এরম ধরণের মিউজিক চাই, ওরকমটা হলে ভালো হতো। নাটকটা শুনে ওর মধ্যে থেকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে যেটা বেরিয়েছে সেটাই আমাদের নাটকে ব্যবহার হচ্ছে। একটাই কথা বলতে পারি, দর্শকরা নাটক দেখতে এসে যে গান শুনবেন তা অনেক কিছুর থেকে অনেকটা আলাদা। সচরাচর এমনটা শোনা যায় না।

নাটকের পরিচালকের পাশাপাশি দ্য ওয়াল আড্ডা দিয়েছে দেবদীপের সঙ্গেও। জেনে নিয়েছে ক্যাপ্টেন হুর্‌রায় তাঁর কাজ করার অনুভূতিটা কেমন।

 
দেবদীপ মুখোপাধ্যায়ের নাটকে মিউজিক তো এই প্রথম?

না ঠিক প্রথম নয়। ইউনিভার্সিটিতে বেশ কয়েকবার বন্ধুদের জন্য নাটকে সুর দিয়েছি। তবে বড় প্ল্যাটফর্মে সেই অর্থে এটাই প্রথম।

কিন্তু সৌরভের সঙ্গে আলাপটা কীভাবে হলো?

সৌরভ আমায় একটা ছবিতে কাজ করার জন্য প্রথম যোগাযোগ করেছিল। আমার ‘প্রিয় বন্ধু’ গানটা শুনে ওর মনে হয়েছিল আমি পারবো। যাই হোক সেই ছবিটা হয়নি। কিন্তু ‘ক্যাপ্টেন হুর্‌রা’ হয়ে গেল। প্রচুর মজা করে কাজ করেছি আমরা। রাতের পর রাত জেগে গানগুলো বানিয়েছে। আমাদের সবার আশা গানগুলো সবারই ভালো লাগবে। তবে ক্যাপ্টেন হুর্‌রাতে কিন্তু আমার বউ সংহিতাও কাজ করেছে। আসলে কাজের চাপে বড্ড ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। তখনই ওকে বলি একটা গান লিখে দেওয়ার জন্য। ওই ‘নীল’ গানটা লিখে দেয়।

সৌরভের পরিচালনা আর দেবদীপের মিউজিকের পাশপাশি দর্শকরা এই নাটকে শুনতে পাবেন সরোদ। তাও আবার দেবদীপের নিজের বাজানো।

এ প্রসঙ্গে সৌরভ জানিয়েছেন, “ক্ল্যাসিকাল নাটক তাই চেয়েছিলাম ক্ল্যাসিকাল ইন্সট্রুমেন্টের ব্যবহার হোক। মোহিতবাবু সেতার হিসেবে লিখেছিলেন। আমি সরোদ ব্যাবহার করেছি। আর দেবদীপ যে অনবদ্য সরোদ বাজায় সেটা জানতাম। তাই ওর বাজানো মিউজিকই ব্যবহার হবে নাটকে। কোনও পুরনো রেকর্ড নয়।”

 কিন্তু কী বললেন স্বয়ং সরোদ বাদক?

দেবদীপের কথায়, “সরোদ আমার বড্ড কাছের বাজনা। সৌরভও বললো। তাই বাজালাম। গোটা মিউজিকটাই লাইভ করার প্ল্যান ছিল আমাদের। কিন্তু নাটক চলাকালীন স্টেজে মিউজিকের নির্দেশনা দিলে দর্শকদের নাটকটা দেখতে অসুবিধা হতে পারে। ইনফ্যাক্ট আরও অনেক সমস্যাই আসতে পারে। সেসব ভেবেই মিউজিকটা রেকর্ড করা হয়েছে।” তবে সৌরভ জানালেন, কয়েক জায়গায় লাইভ মিউজিকও থাকছে নাটকে। থাকছে বেশ কিছু পুরনো হিন্দি গান। এমনকী নাটকের টেক্সটের একটা পার্টকেও গান হিসেবে বানানো হয়েছে। রয়েছে একটা টাইটেল ট্র্যাকও।

ক্যাপ্টেন হুররা-র চরিত্রে তূর্ণা

নাটক মঞ্চস্থ হতে বাকি আর কয়েক ঘণ্টা। সৌরভ এবং দেবদীপ দু’জনেরই অ্যাড্রিনালিন রাশ এখন তুঙ্গে। রয়েছে চাপা টেনশনও। সৌরভ জানালেন, “মিরাক্কেলের সেটে ক্যামেরার সামনে প্রথমদিনের অ্যাকশন শোনা আর বর্তমানে থার্ড বেলের ঘণ্টা—-দুটোই আমার কাছে এক। একই ভাবে পা কাঁপে। রজতাভদা বলতেন পা কাঁপাটাই ভালো। যেদিন পা কাঁপবে না সেদিনই পারফরম্যান্স খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা সমূহ।” তবে চাপা টেনশনের মাঝেও দু’জনেই আত্মবিশ্বাসী। এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।

Comments are closed.