রবিবার, জুলাই ২১

পদ্মশ্রী সম্মান ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন সইফ! এত অভিমান কেন অভিনেতার?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রোল হওয়া বলিউড তারকাদের জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। যাই করুন না কেন, নেটিজেনদের একটা বড় অংশ সেটা নিয়েই সমালোচনা শুরু করে দেবে। নেটিজেনদের এই রোষ থেকে বাদ যাননি সইফ আলি খানও। তাঁর অভিনয় থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবন, সমালোচকরা ছুরি-কাঁচি চালিয়েছে সর্বত্রই।

কেউ কেউ বলেন অভিনয়টা একেবারেই পারেন না সইফ। কেউ বা বলেন নবাব বলেই এত প্রতিপত্তি। মা-বাবার নাম ভাঙিয়েই এত দূর এসেছেন তিনি। তবে হালফিলের ওয়েব সিরিজ সেক্রেড গেমসের ‘সরতাজ সিং’ কিন্তু নিজের অভিনয়ের ব্যাপারে যথেষ্টই আত্মবিশ্বাসী। আর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যে যাই বলুন না কেন, সইফ যে বেবো বেগম এবং তৈমুরকে নিয়ে বেশ খুশিই রয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের ‘পারফেক্ট ফ্রেম’-ই বারবার বলে দেয় সে কথা।

কিন্তু আজকের আত্মবিশ্বাসী এই সইফ-ই নাকি একসময় ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন পদ্মশ্রী পুরস্কার। কিন্তু কেন? ২০১০ সালে পস্মশ্রী পেয়েছিলেন সইফ। ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ সম্মান এই পুরস্কার। সম্প্রতি আরবাজ খানের টক শো ‘পিঞ্চ’-এ এসেছিলেন সইফ। আর সেখানেই তিনি জানান, পুরস্কারে তাঁর নাম ঘোষণার পরেই সইফ ভেবেছিলেন যে এই পুরস্কার তিনি নেবেন না। এই টক শোয়ে সেলিব্রিটিদের ট্রোল করে করা বিভিন্ন টুইট কিংবা মিম পড়ে শোনান আরবাজ। আর সেইসব ট্রোলের জবাব দেন সামনের কুর্সিতে বসা অতিথি। সইফের এপিসোডেও এর অন্যথা হয়নি। এক নেটিজেন ট্রোল করে টুইটে লিখেছিলেন, “সইফের মতো একজন ঠগ কী করে পদ্মশ্রী পেতে পারেন। যিনি ছেলের নাম রেখেছেন তৈমুর, রেস্তোরাঁয় ঢুকে একজনের সঙ্গে মারপিট করেছেন , যিনি অভিনয়ও করতে পারেন না, এদিকে সেক্রেড গেমসে চান্স পেয়ে গেছেন।”

চোখা চোখা ভাষায় এ হেন ট্রোলের জবাব দিতে গিয়েই ৯ বছর আগের কথা জানিয়েছেন সইফ। বলেন, “সে সময় আমি পুরস্কার ফেরত দিতে চেয়েছিলাম। কারণ আমি মনে করি, ইন্ডাস্ট্রিতে এমন অনেকে আছেন যাঁরা এই সম্মানের যোগ্য। কিন্তু হয়তো তাঁরা এই সম্মান পাননি।” পাশাপাশি সইফ এও বলেন যে, “এটা তো সম্ভব নয় যে ভারত সরকারকে ঘুষ দিয়ে এই সম্মানটা পেয়েছি। আমার থেকে বয়সে বড়দের জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে আসল ব্যাপারটা কী। তবে সে সময় বাবা আমায় বলেছিলেন তুমি সরকারকে বলতে পারো না যে এই পুরস্কার তুমি নেবে না। বাবার কথা শুনেই সে সময় পুরস্কার নিয়েছিলাম। খুব খুশি মনেই নিয়েছিলাম।”

তবে পদ্মশ্রী পাওয়ার প্রসঙ্গে যে এত বিতর্ক তা নিয়ে যে সইফ বেশ বিরক্ত এ দিন সেটাও বুঝিয়ে দেন ছোটে নবাব। তবে লোকে যাই বলুন না কেন নিজের অভিনয়ের প্রতি যথেষ্টই আত্মবিশ্বাসী সইফ। আরবাজের টক শোয়ে এসে খোলসা করে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, “যা কাজ আমি এখন করছি সেগুলো থেকে যাবে। সঠিক সময়ে মানুষ বুঝতে পারবেন আমি পদ্মশ্রী সম্মানের যোগ্য কিনা।”

মাঝেমধ্যে তিরিক্ষি মেজাজে দেখা গেলেও সইফের মধ্যে যে যথেষ্ট রসবোধ রয়েছে এ দিন ‘পিঞ্চ’-এর ফ্লোরেই তার প্রমাণ মিলেছে বেশ কয়েকবার। যেমন আরবাজ একবার সইফকে জিজ্ঞেস করেন, নবাব হওয়ায় ফলে সইফ নিশ্চয় সবাইকে খুব হুকুম করেন? জবাবে সইফ সটান বলেন, “নাহ নবাব হওয়ার তুলনায় কাবাবে মন দিতেই আমি বেশি আগ্রহী।” আবার সোনম কাপুরের বিয়ের দিন একদম সাদামাঠা সাদা একটা কুর্তা পরে গিয়েছিলেন সইফ। এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আরে ওটা সোনমের বিয়ের ছিল। আমার তো আর বিয়ে ছিল না।”

Comments are closed.