ট্রেলরে বাজিমাত করলেও ‘পিহু’-র প্রোমোশন স্ট্র্যাটেজি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন, তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: “এভরি পেরেন্টস ওয়ার্স্ট নাইটমেয়ার”। যে ছবির ট্রেলরের ট্যাগলাইন দেখেই হাড়হিম হয়ে যায় সে ছবির ট্রেলর দেখে যে শিউরে উঠবেন সবাই, সেটাই বোধহয় স্বাভাবিক। হয়েওছে ঠিক তাই। ছবির নাম এবং চরিত্রাভিনেতা খুব মিষ্টি হলেও ট্রেলর দেখে শিউরে উঠেছেন থ্রিলার প্রেমী দর্শকরা।

পিহু। ছবির নাম যেমন মিষ্টি তেমনই মিষ্টি একরত্তি এক মেয়ে অভিনয় করেছে নাম ভূমিকায়। কিন্তু দু’বছরের এই খুদের জীবনে রয়েছে একতাই অভিশাপ। সাংঘাতিক রকমে একা সে। আর এই একাকীত্বই বোধহয় কাল হয়ে আসতে চলেছে তার জীবনে।

সারাদিন একা একাই খেলা করে পিহু। একা ঘরে টিভি চালিয়ে নাচ করে। কখনও ফ্রিজের দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে বসে থাকে। তারপর আটকে গেলে দরজা খোলার জন্য ছটফট করে। মাকে ডাকে। কিন্তু সাড়া পায় না। সাহায্যও না। কোনওমতে নিজেই দরজা খুলে বেরিয়ে আসে। খিদে পেলে পিহু নিজেই যায় দুধের বোতল নিতে। কিন্তু নাগাল না পেয়ে হাত ফস্কে চলকে পড়ে যায় দুধ। সাহস করে গ্যাস বার্নার জ্বালিয়ে রুটিও গরম করতে যায় একরত্তি পিহু। সেখানেও ঘটে বিপত্তি। শর্টসার্কিট হয়ে উড়ে যায় বাড়ির বিদ্যুতের লাইন। অগত্যা সারা মুখে জ্যাম আর চকলেট মেখে বসে থাকে পিহু। ছোট্ট হাতে খাবার জোগাড় করে খেতে গেলে আর পাঁচটা বাচ্চার যা হতো তাই হয় পিহুর সঙ্গেও।

কিন্তু কেন? তার বাড়িতে কে কেউ নেই? আরে মা-বাবা নাই থাকতে পারেন, কিন্তু নিদেন পক্ষে দেখভালের জন্য কেউ তো থাকবেন। আছেন তো। বিছানায় শুয়ে আছেন। পিহুর মা। যাঁকে গিয়ে বারবার পিহু ডাকছে। ঘুম থেকে তোলার চেষ্টা করছে। কখনও হেসে কখনও বা কেঁদে। কিন্তু মহিলার কোনও সাড়াশব্দ নেই। থাকবেই বা কি করে? কারণ বিছানায় যিনি শুয়ে আছেন তিনি পিহুর জীবন্ত মা নন, মায়ের লাশ। খুদে পিহুর অবশ্য তা বোঝার মতো বোধ হয়নি। মা বেঁচে আছেন না মারা গেছেন সেটা বোঝার মতো পরিণত নয় এই খুদে। তাই শেষে হাল ছেড়ে বারন্দায় যায় পিহু। উঠে পড়ে রেলিং বেয়ে। হাত থেকে নীচে পড়ে যায় সাধের গোলাপি পুতুল। পুতুলকে বাঁচাতে রেলিং দিয়ে ঝুঁকে পড়ে পিহু নিজেও। আর তারপর………..

এ ঘটনা নিছক গল্প নয়, রূঢ় বাস্তব। আর বাস্তব নিয়ে আগামী নভেম্বরে সিলভার স্ক্রিনে আসছে বিনোদ কাপরির ‘পিহু’। যেখানে দেখানো হবে এক নিঃসঙ্গ ২ বছরের চোট্ট মেয়ের জীবন। আর সেই জীবনে তৈরি হওয়া সমস্যাকে। প্রযোজনায় সিদ্ধার্থ রায় কাপুর এবং রনি স্ক্রুওয়ালা। এর আগে এই টিম দর্শকদের উপহার দিয়েছে ‘এ ওয়েডনেস ডে’, ‘দেব ডি’, ‘পান সিং তোমর’-এর মতো ছবি। তাই দর্শকদের প্রত্যাশা তুঙ্গে। শুধু আম জনতা নয় পিহু’র ট্রেলর সাড়া ফেলেছে বলিউডেও। টিনসেল টাউনের তাবড় অভিনেতারা শিউরে উঠেছে ট্রেলর দেখে। একই সঙ্গে অভিভূত হয়েছেন শিশু শিল্পীর অভিনয় দেখেও। ট্রেলর মুক্তির কয়েকদিনের মধ্যেই জনপ্রিয়তা তুঙ্গে পৌঁছে গিয়েছে ‘পিহু’। জনতার দরবারে ‘পিহু’ এই বছরের শ্রেষ্ঠ থ্রিলার হতে চলেছে বলে মনে করছে টিনসেল টাউনের একটা বড় অংশ।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

কিন্তু জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছে ছবির প্রোমোশন নিয়ে প্রোমোটিং এজেন্সি যে স্ট্র্যাটেজি নিয়েছে তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। আম জনতার কাছে ক’দিন ধরেই এসেছে একটি ফোন। ফোন তুললেই হ্যালোর বদলে শোনা গিয়েছে এক বাচ্চার করুণ কান্না। সাহায্য চাইছে সে। ব্যাস…কয়েক সেকেন্ড পরেই অবশ্য বলা হয়েছে পুরো ব্যাপারটা করা হচ্ছে ‘পিহু’ ছবির প্রোমোশনের জন্য। আর এতেই বেজায় চটেছেন নেটিজেনরা। সবাই একবাক্যে একটাই কথা বলছেন, যে ছবির ট্রেলর এত ভালো তার প্রচারের জন্য এত সস্তার ট্রিক ব্যবহার করা উচিৎ হয়নি প্রযোজনা সংস্থার। তাঁদের দাবি, একে তো একবার ট্রেলর দেখেই শিউরে উঠেছেন। এ বার আবার ফোন কল। রীতিমতো আতঙ্কে কাঁপছেন অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় বইছে নিন্দার ঝড়। ‘পিহু’-র ব্যবসার ক্ষেত্রে ছবির প্রচারে ব্যবহৃত এই অদ্ভুত ট্রিক মন্দা আনতে পারে বলেই মনে করছেন ফিল্ম সমালোচকরা।

তবে ‘পিহু’ বক্স অফিসে সাফল্য পাবে নাকি মুখ থুবড়ে পড়বে তা সময়ই বলবে। এখন শুধুই অপেক্ষা। আগামী ১৬ নভেম্বর মুক্তি পাবে এই ছবি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More