মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩

জসীমউদ্দীনের নকশি কাঁথা এ বার বড় পর্দায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আহমেদ, অরিত্র, সম্প্রতি, সন্দীপ ও আফসানা সবাই একসময় পড়াশোনা করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। বন্ধুত্ব গাঢ় হওয়ার পরে সবাই একসঙ্গে ওপার বাঙলায় আহমেদ এর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। আহমেদ এর বাড়ি বাংলাদেশের ফরিদপুরে। কিন্তু তিনি ঢাকায় একটা ফ্ল্যাটে থাকেন। চাকরিও করছেন সেখানে। কলকাতার পুরনো বন্ধুদের পেয়ে খুশি হন আহমেদ। তাদের জানান, বছরের শুরুতেই পল্লী কবি জসীম উদ্দীনের জন্ম মাস উপলক্ষে একটা মেলা হয় সেখানে। উৎসাহিত করেন সেই মেলা দেখতে যাওয়ার জন্য। তারপরেই দল বেঁধে কবির স্মৃতি বিজড়িত এই মেলা দেখতে বেরিয়ে পড়েন সবাই ।

আফসানা আর সন্দীপের মধ্যে এক সময় ভালোবাসার সম্পর্ক থাকলেও, পেশা ও ভাবনার নানা অভিঘাতে দানা বাঁধেনি সেই প্রেম। চিত্র পরিচালক হওয়ার স্বপ্ন দেখতো সন্দীপ। কিন্তু, আফসানার বাড়িতে তখনই তাঁর বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় ভিন্ন ধর্মের এক যুবক, যে কি না আবার ফিল্ম মেকার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে, তার স্ত্রী হওয়ার অপেক্ষায় থাকা হয় না আফসানার।

গল্পের এই গতিপথেই মেলার মাঠে একটা স্টল নজর টানে তাঁদের। বিশেষ করে আফসানা আর সন্দীপের। স্টলের নাম “নকশী কাঁথার খোঁজে”। বৃদ্ধ বিক্রেতার সাথে জমে ওঠে গল্প। রূপাই আসে, সাজু আসে। কখন যেন আফসানা, সন্দীপ, রূপাই সাজু সবাই মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। সেলুলয়েডের খোলসে গল্প এগিয়ে চলে আপন গতিতে।

বিশিষ্ট কবি জসিম উদ্দীনের লেখা ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ এর অনুপ্রেরণায় পরিচালক হৃষিকেশ মণ্ডলের প্রথম ছবি ‘নকশী কাঁথার খোঁজে’। রাহুল ফিল্ম অ্যান্ড টেলি প্রোডাকশনের এটি দ্বিতীয় প্রয়াস। সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং নীলাকাশ রায় সামলেছেন সঙ্গীতের দায়িত্ব। শাহিন আখতারের স্ক্রিপ্টে রাহুল এবং ডালিয়া ঘোষ মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বিশেষ একটি গানে ও চরিত্রে বাংলাদেশের শিল্পী নাজমুল হাসান প্রভাতকে পাওয়া যাবে এই ছবিতে।

রাহুল এবং ডালিয়া কী ভাবে রূপাই এবং সাজুর চরিত্র ফুটিয়ে তুলবেন, সেদিকেই এখন নজর গোটা টিমের। প্রবীণ অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে দেখা যাবে বিশেষ একটি চরিত্রে। রূপাইয়ের বিরহে সাজুর দিন গুজরান, কাঁথা তৈরি করে কবরে শেষ শয্যা পাতার সেই মন ছুঁয়ে থাকা কাব্যকথা শেখ আখতারের প্রযোজনায় বড় পর্দায় আসছে আগামী বছরের মাঝামাঝি।
এই ছবির ফার্স্ট লুক লঞ্চ হল বুধবার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলাকুশলী থেকে প্রযোজক পরিচালক সহ গোটা টিম। ছিলেন বিশিষ্ট পরিচালক রাজা সেন। তাঁর অনুপ্রেরণাতেই এই ছবির কাজ হাতে নেওয়া বলে জানালেন হৃষিকেশ। “নকশী কাঁথার খোঁজ” নিয়ে আশাবাদী রাজা সেনও।

Shares

Comments are closed.