রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫

তিরিশ মিনিটে লিখেছিলেন ‘টাপুর টুপুর’, সঙ্গী ছিল মুম্বইয়ের বৃষ্টি, ডেবিউ সং নিয়ে অকপট অর্ণব

সোহিনী চক্রবর্তী

বছরখানেক আগেই ওড়িশাকে যুদ্ধে হারিয়ে রসগোল্লার কর্তৃত্ব নিয়েছে বাংলা। কিন্তু বাঙালিদের অতি আপন, অতি পছন্দের এই রসগোল্লা কীভাবে এল, সেটাই হয়তো জানেন না বেশিরভাগ বাঙালি। আর তাই বড়দিনের কদিন আগেই পাত পেড়ে বাঙালিদের রসগোল্লা খাওয়াবেন পরিচালক পাভেল। ২১ ডিসেম্বর শহরে জুড়ে পাওয়া যাবে রসগোল্লার হাঁড়ি। মুক্তি পাবে পাভেলের প্রায় দু’বছরের বেশি ধরে করা সাধনার ফল, ‘রসগোল্লা’।

ইতিমধ্যেই শহরে ছড়িয়েছে হাল্কা শীতের পরশ। আর ক্যালেন্ডার যখন ডিসেম্বর ছুঁয়েছে তখন তিলোত্তমার আনাচে কানাচে যে নলেন গুড়ের রসগোল্লার গন্ধ ম ম করবে তা বলাই বাহুল্য। তবে শুধু রসগোল্লা নয়, এর পাশাপাশি শহরে উষ্ণতা ছড়াচ্ছেন হুগলির অর্ণব দত্তও। পাভেলের ছবি ‘রসগোল্লা’-তে গান গেয়েছেন অর্ণব। পাভেলের রসগোল্লা-ই অর্ণবের প্রথম ছবির কাজ। শুধু তাই নয়। গানের কথা থেকে সুর সবের সৃষ্টিকর্তাই স্বয়ং অর্ণব। এক সপ্তাহের একটু বেশি সময় হলো রিলিজ হয়েছে ছবির প্রথম গান ‘টাপুর টুপুর’। ইউটিউবে ভিউ এর মধ্যেই দেড় লাখের বেশি। অজান্তেই প্রেমিকার জন্য এ গানের দু কলি গেয়ে উঠছেন ভাসা ভাসা চোখের প্রেমিক। মন মাতানো রিদমের এই মিষ্টি প্রেমের গানের ছোয়া লেগেছে ষাট পেরোনো ব্যানার্জীবাবুর মনেও। মনে মনে ভেবেও ফেলেছেন, কদিন পরে বিবাহবার্ষিকীর সকালে স্ত্রীর জন্য এটাই গাইবেন। এফএম থেকে টেলিভিশনের বিজ্ঞাপনের ফাঁক সব জায়গাতেই বাজছে অর্ণবের গান ‘টাপুর টুপুর’।

ডিসেম্বরের দোরগোড়াতেই গায়ক-সুরকার-গীতিকার অর্ণবের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল দ্য ওয়াল। কফির কাপে চুমুক দিয়ে জমিয়ে আড্ডাও দিলেন অর্ণব। খানিকটা খোলা খাতার মতোই নিজেকে তুলে ধরলেন দর্শকদের সামনে।

আড্ডার শুরুতেই অর্ণব কিন্তু বলেন, “রসগোল্লা খেতে আমি হেব্বি ভালোবাসি। হাওড়া জেলা স্কুলের ছাত্র আমি। জানি না এখন হয় কিনা। তবে আগে সরস্বতী পুজোর সময় স্কুলে মিষ্টি বানানো হতো। তখন কম্পিটিশন করে রসগোল্লাও খেয়েছি একবার। তবে বেশি পারতাম না। ১৭-১৮টা খাওয়ার পরেই হাল ছেড়ে দিতাম।” তবে ফুচকার প্রতিও নাকি অর্ণবের অমোঘ টান।  নিজেই জানালেন, অনেকদিন নাকি ভালো ফুচকা খাননি। তবে এ বার খাবেনই। বললেন,”আমি কোন্নগরে থাকি। ওখানে ভালো ফুচকা পাওয়া যায়। পুদিনার জল দেওয়া। বোন বলেছে নিয়ে যাবে। ওই তো এখন আমার লোকাল গার্জেন।”

কথায় কথায় অর্ণব জানালেন পাভেলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় মুম্বইতেই। “ওঁর ন্যারেশন করা দেখে চমকে গিয়েছিলাম। কী দারুণ গল্প বলতে পারে ছেলেটা। আলাপের পর ওঁকে বলেওছিলাম সেই কথা। হেসে বলেছিল ওটাই তো আমি পারি দাদা।” কিন্তু আলাপের সময়েও অর্ণব জানতেন না যে পরবর্তী সময়ে তাঁর সঙ্গে কাজ করবেন। অর্ণব বলেন, “২০১৬ সালে হঠাৎ ফোন করে পাভেল ভাই। বলে দাদা ১৮৫০-১৮৬০ এই সময় মাথায় রেখে একটা মিষ্টি প্রেমের গান বানাও। সে দিন খুব বৃষ্টি ছিল মুম্বইতে। জালনার পাশে বসে বৃষ্টি দেখতে দেখতে লিখেছিলাম গানটা। ওনলি ৩০ মিনিট। একবারেই পছন্দ হয়ে যায় পাভেলের। দু’টো লাইন খালি আমরা পরে পাল্টেছি।”

মাত্র তিরিশ মিনিটে লিখেছিলেন নবীন ময়রা আর ক্ষীরোদার প্রেমের গান?

একদম। ঘড়ি ধরে ৩০ মিনিট। লোকে ভাববেন একটা গান দর্শকদের ভালো লেগেছে, বাহবা দিচ্ছেন বলে মাথা ঘুরে গিয়েছে, কিন্তু সেটা একেবারেই নয়। আমি সত্যি কথা বললাম। আসলে আমার লেখা গান যে শেষ পর্যন্ত গান হবে, সুরগুলো যে স্ক্র্যাপ হয়েই থেকে যাবে না, আমিও যে পারি বা পারবো এই বিশ্বাসটা পাভেল আমায় সবসময় দিয়েছে।

অর্ণব জানিয়েছেন, আলাপের প্রথম দিন থেকেই পাভেল তাঁকে উৎসাহ দিতেন অন্যরকমের কিছু করার। আরেকজনকেও অবশ্য এই ব্যাপারে ধন্যবাদ দিয়েছেন অর্ণব। তিনি মহেশ ভাট। “মুম্বইয়ের স্ট্রাগল পিরিয়ডে ভাট স্যার খুব সাপোর্ট করেছেন। ওই সময়ে যদি টিকে থাকতে না পারতাম তাহলে আজকের অর্ণব হতো না। তবে ঈশ্বরের আশীর্বাদ যে মুম্বই আমায় খালি হাতে ফেরায়নি। অনেক কিছু শিখিয়েছে ওই শহরটা আমায়।”

ছ’বছর আগের স্ট্রাগলার অর্ণব আর আজকের কম্পোজার অর্ণব…..জার্নিটা কেমন ছিল?

যখন মুম্বই গিয়েছিলাম তখন বাবা রিটায়ার্ড। মা খুব চিন্তায় ছিল। মুম্বই গিয়ে প্রথম কয়েক মাস সেরকম কিছু আয়ও ছিল না। প্রথমদিকে বেকারই ছিলাম বলতে পারেন। তবে তখনও স্বপ্ন দেখা ছাড়িনি। কিন্তু আমি নিজেকে চিরকাল গায়ক হিসেবেই ভাবতাম। কোনওদিন ভাবিনি কম্পোজার হবো। এই বিশ্বাস আমার মধ্যে দিয়েছে পাভেল।

‘টাপুর টুপুর’ তৈরি হওয়ার পুরো ক্রেডিট কিন্তু পাভেলকেই দিয়েছেন অর্ণব। সঙ্গে বলেছেন, ঈশ্বরের আশীর্বাদে আর মুম্বইয়ের সে দিনের ওয়েদারের জন্যই এই গানটা তৈরি হয়েছে। “প্রথমে পাভেল কিছুই বলেনি আমায়। গান সিলেক্ট হওয়ার পর আচমকাই একদিন জানলাম যে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, নন্দিতা রায়, উইন্ডোজ প্রোডাকশন—–এদের অংশ হচ্ছি আমি।”

সবশেষে একটু অন্যরকমের কথা বললেন অর্ণব। জানালেন, “সবাই গানটা শুনছেন, ভালো বলছেন, এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তবে সবাই তো মুম্বই যেতে চান। আমি মুম্বই ঘুরে এসেছি। ভালো কাজ পেলে ওখানেও কাজ করবো। তবে এ বার একটু বাংলায় ফিরতে চাই। ভালো কাজ করতে চাই। আর সেই ভালোটা এমন হোক যাতে সব বড়দিনেই আমি আমার শহরকে নতুন কিছু উপহার দিতে পারি।”

Comments are closed.