বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১
TheWall
TheWall

শ্যুটিং ফ্লোরে ‘ইন্টিমেসি’-তে নজর রাখতে সুপারভাইজার

সোহিনী চক্রবর্তী

গত কয়েক মাসে #মিটু ঝড়ে তোলপাড় হয়েছে বলিউড। অভিযোগের তালিকায় এমন সব তারকার নাম উঠে এসেছে যা শুনে হতবাক হয়ে গিয়েছে সিনেমাপ্রেমী জনগণ। প্রায় সব অভিযোগেই নায়িকারা একবাক্যে স্বীকার করেছিলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শ্যুটিং সেটে যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছেন তাঁরা। কখনও কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন পরিচালক, কখনও প্রযোজক, কখনও বা ছবির সঙ্গে যুক্ত অন্য কোনও কলাকুশলী। এমনকী খোদ নায়ক কিংবা সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের দিকেও উঠেছে অভিযোগের আঙুল।

নিজের ছবির ক্ষেত্রে এমন কোনও ঘটনা ঘটুক তা চাননি পরিচালক রামকমল মুখোপাধ্যায়। তাঁর শ্যুটিং সেটে অভিনেত্রী এবং বাকি সব মহিলা ক্রু মেম্বার স্বচ্ছন্দ্যে কাজ করবেন এটাই ছিল লক্ষ্য। কিন্তু অনেক ছবিতেই তো নানান ইন্টিমেট সিন থাকে। গল্পের প্রয়োজনে গুরুত্ব পায় বেডসিনও। আর সেইসব সিনের শ্যুটিং করতে গিয়ে অনেকসময়েই নানা সমস্যার মধ্যে পড়েন অভিনেত্রীরা। চট করে হয়তো বলতেও পারেন না কাউকে। এই সমস্যার সমাধানের জন্যই প্রযোজক অরিত্র দাসের সঙ্গে আলোচনায় বসেন পরিচালক। বেরোয় সমাধান। শ্যুটিং সেটে অভিনেত্রীর সব সুযোগ-সুবিধার খেয়াল রাখার জন্য যুক্ত করা হয় একজন ইন্টিমেসি সুপারভাইজারকে।

হলিউডে এই চল বহুদিন আগে থেকেই রয়েছে। তবে বলিউডে ছবির শ্যুটিং সেটে ‘ইন্টিমেসি সুপারভাইজার’—–সম্ভবত এই প্রথম। সৌজন্যে রামকমল মুখোপাধ্যায় এবং অরিত্র দাস।

কিন্তু শ্যুটিং সেটে এই ইন্টিমেসি সুপারভাইজারের কাজটা ঠিক কী?

অরিত্র জানিয়েছেন, “ওঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল সেলিনাকে কমফরটেবল ফিল করানো। যাতে কোনও অবস্থাতেই ওঁর কোনও অসুবিধে না হয়। বিশেষ করে বেডসিনের ক্ষেত্রে। কারণ এই ছবিতে ওই সিনটার একটা আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।” নির্দিষ্ট ওই সিনের শট নেওয়া হয়েছে বিশেষ কায়দায়। রাখা হয়েছিল একটি মহিলা কাস্ট অ্যান্ড ক্রু টিম। যাঁরা সব সময় অ্যাসিস্ট করেছিলেন সেলিনাকে। শ্যুটিংয়ের সময় ওই মহিলা টিম আর সিনেমাটোগ্রাফার ছাড়া আর কাউকেই ঘরে থাকার অনুমতি দেননি পরিচালক। এমনকী নিজেও ছিলেন না। সিন বুঝিয়ে দিয়ে বাইরে থেকেই মনিটরে নির্দেশ দিচ্ছিলেন।

কিন্তু হঠাৎ কেন এই সুপারভাইজার?

পরিচালক এবং প্রযোজক দু’জনেই জানিয়েছেন, #মিটু বিতর্কের পর থেকেই তাঁরা বারবার ভেবেছেন অভিনেত্রী এবং সেটের বাকি মহিলা কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ নয়ে। তখন থেকেই মাথায় ঘুরছিল সিজনস গ্রিটিংসে এমন কী করা যায় যাতে কমফরটেবল ফিল করবেন সবাই। এ নিয়ে ছবির দুই প্রধান অভিনেতা সেলিনা এবং আজহার খানের সঙ্গেও বেশ কয়েকবার আলোচনা করেন রামকমল এবং অরিত্র। তারপরেই ঠিক হয় যে এ বার একটু বদল দরকার। প্রয়োজনে হলিউডের স্টাইলকেই আয়ত্ত করতে হবে। তারপরেই সিদ্ধান্ত হয় সিজনস গ্রিটিংসের জন্য একজন ইন্টিমেসি সুপারভাইজার নেওয়া হবে।

এষা দেওয়ালের কামব্যাক শর্ট ফিল্ম ‘কেকওয়াক’-এর সুবাদে বি-টাউনে রামকমল মুখোপাধ্যায় এখন পরিচিত নাম। তাঁর আগামী ছবি ‘সিজনস গ্রিটিংস’। পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষকে ট্রিবিউট দিতেই এই ছবি বানিয়েছেন রাম কমল। তাঁর প্রথম ছবিতে কামব্যাক করেছিলেন এষা দেওল। দ্বিতীয় ছবিতে কামব্যাক করছেন সেলিনা জেটলি। মূলত মা এবং মেয়ের সম্পর্কই দেখানো হয়েছে এই ছবিতে।

ছবির গল্প প্রসঙ্গে অরিত্র বলেন, “শর্টফিল্ম তাই বেশি কিছু বলবো না। শুধু এটুকু বলতে পারি মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ককে এক নতুন আঙ্গিকে দেখানো হয়েছে এই ছবিতে। আমরা সব সময় চাই মা-বাবারা আমাদের সব দাবি, আবদার মেনে নিক। কিন্তু উল্টো দিকে তাঁদের ভাবনাগুলোকে অনেক সময়েই আমরা পাত্তা দিই না। আর এই টানপোড়েনই সিজনস গ্রিটিংসে দেখানো হয়েছে।” তবে অরিত্র এও জানিয়েছেন, এই ছবি ঋতুপর্ণর বায়োগ্রাফি নয়। বরং তাঁকে সম্মান জানাতেই বানানো হয়েছে এই ছবি। তবে রয়েছে কিছু টুইস্ট। সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে মে মাস পর্যন্ত।

Comments are closed.