মঙ্গলবার, মার্চ ২৬

রীনা রায়কে মনে পড়ে? সোনাক্ষী ফিরিয়ে ছিলেন যাঁর নস্ট্যালজিয়া

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চুলবুল পাণ্ডে। সলমন খানের এই চরিত্র সেলুলয়েডে এক অন্য মাত্রা এনেছিল। ‘দাবাং’ ছবির বিশাল সাফল্যের পিছনেও রয়েছেন এই চুলবুল পাণ্ডেই। নয় নয় করে রিলিজ হয়েছে ‘দাবাং সিরিজ’-এর তিন তিনটি ছবি।

তবে শার্টের কলারের পিছন দিকে সানগ্লাস গোঁজা চুলবুল ছাড়াও এই ছবিতে নজর কেড়েছিলেন আরও এক জন। তিনি সোনাক্ষী সিনহা। দাপুটে অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহার মেয়ে। দাবাং ছবিতেই অভিষেক হয়েছিল সোনাক্ষীর। আর পর্দায় তাঁকে দেখে চমকে উঠেছিলেন দর্শকরা। এ কাকে দেখছেন? এ যে অবিকল রীনা রায়?

কিন্তু কে এই রীনা রায়? আর সোনাক্ষী-শত্রুঘ্ন-রীনার ট্রায়াঙ্গলটাই বা কী?

রীনা রায় হলেন সেই অভিনেত্রী যাঁর সঙ্গে একসময় চুটিয়ে প্রেম করছেন শত্রুগ্ন। এমনকী পুনমের সঙ্গে বিয়ের পরেও রীনার সঙ্গে শত্রুঘ্নর সম্পর্কে ছেদ পড়েনি। বরং বলিউডের ওপেন সিক্রেট ছিল রীনা-শত্রুঘ্নর একস্ট্রা ম্যারিটাল অ্যাফেয়ার। ১৯৭০ সালে মডেল হিসেবে কেরিয়ার শুরু করেন রীনা। তবে সুন্দরী হওয়ার দৌলতে বলিউডে চান্স পেয়েছিলেন মাত্র ১৯ বছরেই। ১৯৭৬ সালে ‘কালিচরণ’ ছবিতে শত্রুঘ্ন সিনহার বিপরীতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি এই অভিনেত্রীকে। শত্রুঘ্ন-রীনার এরপরের হিট ছবি ছিল ‘বিশ্বনাথন’। আর এই সিনেমার পর থেকেই বি-টাউনের হিট জুটিও হয়ে গিয়েছিলেন এই দুই তারকা। কান পাতলেই শোনা যেত নানান গুঞ্জন।

তবে বলিউড রীনা রায়কে তাঁর অভিনয়ের জন্য মনে রাখেনি। বরং মনে রেখেছে রীনার রঙিন ‘লাভ লাইফ’-কে। আম জনতার একটা বড় অংশ ধরেই নিয়েছিলেন রিলের পর রিয়েল লাইফের জুটি বাঁধবেন শত্রুঘ্ন এবং রীনা। কিন্তু সে গুড়ে বালি। অনুরাগীদের সব আশায় জল ঢেলে আচমকাই পুনমকে বিয়ে করেন শত্রুঘ্ন সিনহা। কিন্তু বিয়ের পরেও নাকি রীনার সঙ্গে অভিনেতার যোগাযোগ ছিল আগের মতোই। আজও এমনটাই দাবি করেন টিনসেল টাউনের একাংশ।

এ নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি অবশ্য কিছু কম হয়নি। একসময় প্রকাশ্যেই রীনা এবং শত্রুঘ্ন সম্পর্কে নানান কটূক্তি করেছেন পুনম। দীর্ঘদিন শত্রুঘ্ন সিনহার দ্বিতীয় পছন্দ হয়ে থাকতে থাকতে রীনাও বোধহয় বুঝেছিলেন, এ জীবনের শত্রুঘ্নর সঙ্গে তাঁর আর সংসার করা হবে না। বদলে জুটবে শুধুই অপমান। তাই খানিক জেদের বশেই বোধহয় পাকিস্তানি ক্রিকেটার মহসিন খানের সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন রীনা রায়। কেরিয়ারের একেবারে পিক পয়েন্টে তখন ছিলেন মহসিন। পিছিয়ে ছিলেন না রীনাও। সেই সময়েই করাচিতে বিয়ে সেরে নেন এই দুই তারকা।

স্ত্রী অভিনেত্রী হওয়ার সুবাদে বেশ সহজেই বলিউডেও পা রাখেন মহসিন। এরপরেই আসে রীনার প্রথম সন্তান জন্নত। সব ভালোই চলছিল। কিন্তু প্রবাদে আছে স্বয়ং বিধাতারও বোধহয় কখনও কখনও সুখ বেশিদিন সয় না। রীনা রায়ের জীবনও খানিকটা তাই। মহসিন খানের সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে যায় তাঁর। এমনকী মেয়ে জন্নতের কাস্টডিটাও সে সময় পাননি রীনা। পরে অবশ্য অনেক লড়াইয়ের ফলে মহসিনের তৃতীয় বিয়ের পর জন্নতকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন রীনা। নাম রাখেন সনম।

অবিকল রীনা রায়ের আদলের সোনাক্ষীকে নিয়েও কম জলঘোলা হয়নি। চোখ থেকে হাসি—-সবেতেই সাংঘাতিক মিল এই দুই নায়িকার। জেন ওয়াইয়ের ভাষায় কপিক্যাট। ২০১০ সালে সোনাক্ষীর বলিউড ডেবিউয়ের পর অনেকে তো ধরেই নিয়েছিলেন রীনা এবং শত্রুঘ্নরই সন্তান সোনাক্ষী। প্রকাশ্যে এ বিষয়ে নানান প্রশ্নের মুখোমুখিও হয়েছেন ‘দাবাং গার্ল’। তবে সবসময়েই সোনাক্ষী সাফ জানিয়েছেন পুনমই তাঁর মা। আর এ ক্ষেত্রে একজন যোগ্য মায়ের মতোই মেয়ের পাশে থেকেছেন পুনম। সমাজের সমস্ত বিপদ থেকে ঢাল হয়ে রক্ষা করেছেন মেয়েকে।

Shares

Comments are closed.