বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

‘ছপক’-এর দীপিকা মনে করাচ্ছে তাঁর অতীত, জীবনের অন্ধকার সময়ের কথা জানালেন রঙ্গোলি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চেনা-পরিচিত তাক লাগানো সুন্দরী নন, বরং অ্যাসিডে পুড়ে যাওয়া মুখ, তামাটে কুঁচকে যাওয়া চামড়া নিয়েই এ বার পর্দায় আসছেন দীপিকা পাড়ুকোন। রিলিজ হয়েছে মেঘনা গুলজারের সঙ্গে দীপিকার প্রথম ছবি ‘ছপক’-এর ফার্স্ট লুক। এই ছবি একজন অ্যাসিড অ্যাটাক সারভাইভারের বায়োপিক। যেখানে অ্যাসিড আক্রান্ত লক্ষ্মী আগরওয়ালের চরিত্রে অভিনয় করছেন দীপিকা। ছবিতে তাঁর চরিত্রের নাম ‘মালতি’। নায়িকা নিজে জানিয়েছেন, এই চরিত্র আজীবন তাঁর হৃদয়ে থাকবে।

মেঘনার কাছে গল্প শোনার পর সম্মতি জানাতে আর দেরি করেননি দীপিকা। তারপর থেকেই বলিউড অপেক্ষায় ছিল নতুন লুকে দীপিকার কামব্যাকের জন্য। ‘ছপক’-এর ফার্স্ট লুক প্রকাশ পেতেই সবাই প্রশংসা করেছেন দীপিকা নতুন লুকসের। তবে দীপিকার এই চেহারার সঙ্গে নিজের জীবনের সবচেয়ে বেশি মিল খুঁজে পেয়েছেন রঙ্গোলি চান্দেল। হিমাচল কুইন কঙ্গনা রানাওয়াতের দিদি হওয়ার সুবাদে বি-টাউনের অনেকেই রঙ্গোলির সঙ্গে পরিচিত। তবে তিনি যে একজন অ্যাসিড অ্যাটাক সারভাইভার তা বোধহয় জানা ছিল না অনেকেরই।

২০০৬ সালে রঙ্গোলির উপর অ্যাসিড হামলা হয়। জীবনে এক নিকষ কালো অন্ধকার সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল রঙ্গোলিকে। অ্যাসিডের প্রভাবে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল তাঁর মুখের চামড়া। পুরোপুরি অন্ধ না হয়ে গেলেও, অনেক অংশেই হারিয়ে ফেলেছিলেন দৃষ্টিশক্তি। এরপর দীর্ঘদিন ধরে বহু অস্ত্রোপচারের পর খানিকটা স্বাভাবিক হন রঙ্গোলি চান্দেল। তারপর ২০১১ সালে ব্যবসায়ী অজয় চান্দেলের সঙ্গে বিয়ে হয় রঙ্গোলির। ২০১৭ সালে প্রথম সন্তান পৃথ্বীরাজের জন্ম দেন তিনি।

নিজের জীবনে যিনি অ্যাসিড অ্যাটাকের শিকার, তাঁর চেয়ে ভালোভাবে বোধহয় আর কেউ এই দুর্বিষহ যন্ত্রণার কথা বুঝবেন না। তাই ‘ছপক’-এর দীপিকাকে দেখে বোধহয় নিজের জীবনের সঙ্গেই অনেক মিল পেয়েছেন রঙ্গোলি। টুইট করে দীপিকার লুকসের প্রশংসার পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, মেঘনা গুলজারের এই ছবির জন্য গোটা টিমকে চিয়ার করবেন তিনি।

তবে শুধু রঙ্গোলি নন, চেনা ছকের বাইরে ট্রেন্ড ভেঙে মেঘনার এই প্রয়াসকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আরও অনেক বলি তারকা। অর্জুন কাপুর, আলিয়া ভাট, পরিনীতি চোপড়া ও আরও অনেকেই প্রশংসা করেছেন দীপিকার লুকসের। আর ছবির বিষয় নিয়ে একদম অন্য ঘরানায় ভাবার জন্য মেঘনাকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছে গোটা বলিউড।

Comments are closed.