ঘুড়ির সুতো জড়িয়ে গাছে ঝুলছিল বিপন্ন চিল! বন দফতরের গড়িমসি, ফেসবুকে লিখলেন ছাত্রী! তার পর…

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

    তালগাছ থেকে চিলটাকে ঝুলতে দেখে চমকে উঠেছিলেন তরুণী। প্রথমে মনে হয়েছিল হয়তো মৃত চিল ঝুলছে, কিন্তু তার পরেই দেখা যায়, ডানা ঝটপট করছে সে। আরও একটু ভাল করে দেখার পরে বোঝা যায়, ঘুড়ির সুতোয় জড়িয়ে গিয়ে ও ভাবে গাছ থেকে ঝুলে রয়েছে অতিকায় চিলটি। প্রথমে অসহায় হয়ে পড়লেও, এর পরে একে একে সর্বত্র যোগাযোগ করেন সুচেতা বন্দ্যোপাধ্যায় নামের ওই কলেজপড়ুয়া। কিন্তু বন দফতর থেকে দমকল– কেউই এগিয়ে আসেনি। শেষমেশ সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটি জানান তিনি। ভাইরাল হয় সেই পোস্ট। এর ২৪ ঘণ্টা পরে উদ্ধার করা হল চিলটিকে।

    হাওড়ার দানেশ শেখ লেনের বোটানিক্যাল গার্ডেন চত্বরের একটি তালগাছে আটকে পড়েছিল চিলটি। মঙ্গলবার সকালে এমনটা দেখার পরেই প্রথমেই হাওড়া বন দফতরে যোগাযোগ করেন সুচেতা। ফরেস্ট রেঞ্জার সমীর বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমস্যার কথা জানিয়ে অনুরোধ করে, চিলটিকে উদ্ধার করার ব্যবস্থা করতে। সুচেতার দাবি, সমীরবাবু জানিয়ে দেন, তিনি ময়াল সাপ ধরতে যাচ্ছেন। এখন চিল উদ্ধারের বন্দোবস্ত করতে পারবেন না। সুচেতা পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে চাইলে তিনি বলেন, “ঘুড়ি ওড়ানোর সময়ে বারণ করোনি কেন? এখন দেখো, কী ভাবে মরে পাখিটা।”

    সুচেতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    নিরূপায় হয়ে দমকলে যোগাযোগ করেন সুচেতা। দমকল কর্তৃপক্ষের তরফে সুচেতাকে বলা হয়, এটা তাঁদের কাজ নয়। এটা বন দফতরের কাজ। এর পরেও সুচেতা ফের ফোন করে অনুরোধ করেন, দমকল যদি লম্বা মই এনে পাখিটাকে নামানোর ব্যবস্থা করতে পারে। দমকল জানিয়ে দেয়, তাঁদের দফতরে মই থাকলেও কারও এই কাজ করার মতো পর্যাপ্ত ট্রেনিং নেই। ফলে তারা পারবে না।

    হাওড়া-হুগলির ডিএফও সোমনাথ সরকারকে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বন দফতরের সকলে আজ ময়াল সাপ নিয়ে ব্যস্ত। স্থানীয় কাউকে জোগাড় করে, গাছে উঠিয়ে, চিলটিকে নামানোর কথা বলেন তিনি। তার পরে ঝুড়ি চাপা দিয়ে রাখতে বলেন সেটিকে। তার পরে তাঁরা বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।

    “আমার অসহায় লাগছিল। আমার পক্ষে কাউকে জোগাড় করে চিল নামানোর ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। চোখের সামনে একটা প্রাণী মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, চিল তো বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী বলে জানি। বন দফতরের কোনও দায়িত্ব নেই! অবশেষে কী করব বুঝতে না পেরে, কলেজ যাওয়ার সময়ে ফেসবুকে পোস্ট করি গোটা ঘটনাটি। মনে হয়েছিল, কোনও পশুপ্রেমী সংস্থার কাছে যদি বিষয়টা পৌঁছয়!”– বলেন সুচেতা।

    #urgent_HELP#please_share_atlest#location_danesh_seikh_lane আমাদের আবাসনের সামনে চার্চ সংলগ্ন বোটানিকাল সার্ভের একটি…

    Sucheta Banerjee এতে পোস্ট করেছেন সোমবার, 30 সেপ্টেম্বর, 2019

    সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী সুচেতার আন্দাজ ঠিক ছিল। কিছু ক্ষণের মধ্যেই বহু মানুষের কাছে পৌঁছে যায় তাঁর ফেসবুক পোস্ট। তাঁদেরই এক জন, সমাজসেবী বিভাস গুপ্ত। বিভাস বাবু শেয়ার করার পরে সন্ধের মধ্যে রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায় পোস্টটি। বহু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগিয়ে এসে যোগাযোগ করে। পশুপ্রেমীরাও এগিয়ে আসেন। নিন্দার ঝড় ওঠে বন দফতরের বিরুদ্ধে। বিভাস বাবুও তাঁ সংগঠনের তরফ থেকে সর্বতো ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যান, চিলটি উদ্ধারের জন্য নানা মহলে খবর দেওয়ার।

    কিন্তু নেট দুনিয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, খবর পাওয়ার পরেও কেন তৎপরতা দেখাল না বন দফতর! বন্যপ্রাণ আইন অনুযায়ী যে কাজ তাদের অবশ্যকর্তব্য, সে কাজে এত গড়িমসি কেন!

    শেষমেশ সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়ের জোরেই বুধবার সকালে বন দফতরের লোকজন এসে পৌঁছয় ঘটনাস্থলে। আসেন সমীর বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও। উপস্থিত ছিল কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। এমনকী এসে পৌঁছয় দমকলও। বন দফতরের প্রশিক্ষিত এক ব্যক্তি তালগাছে চড়ে, ঘুড়ির সুতো কেটে, জালে করে চিলটিকে উদ্ধার করেন। প্রায় ৭২ ঘণ্টা ওভাবে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকার পরে একেবারেই নেতিয়ে গেছিল সেটি। যদিও শরীরে কোনও জখম ছিল না।

    বন দফতরের আধিকারিকেরা এর পরে চিলটিকে গড়চুমুক নিয়ে যান। সেখানকার স্যাংচুয়্যারিতেই শুশ্রূষা হবে তার।

    ডিএফও সোমনাথ সরকার বলেন, ‘‘জঙ্গলহীন এলাকায় পশুপাখিদের উদ্ধারের পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে আমাদের। স্থানীয় কেউ তালগাছে চড়তে পারলে আরও আগে কিছু একটা বন্দোবস্ত করা যেত।’’ 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More