বুধবার, জুন ১৯

পুরোটা পারলাম কই, তবে তৃণমূলটাই এ বার উঠে যাবে: মুকুল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দশ বছর আগের কথা মনে পড়ে! ২০০৯ সাল। তখনও লোকসভা ভোট। মাঠ, ঘাট, নির্বাচন কমিশনের দরজায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন তৃণমূলের সেকেন্ডম্যান মুকুল রায়। আর প্রশ্ন করলেই বলছেন, “লিখে নিন-বাংলায় বিশটা আসন পাবে তৃণমূল। আমি মানুষের পালসটা বুঝি।” শোনা যায় দিদিও নাকি একদিন ডেকে বলেছিলেন, মুকুল অতটা আশা করো না। দশ বারোটা পেলেই আমরা খুশি।

কাট টু ২০১৯। দিদির সঙ্গে বনিবনা নেই। মুকুলবাবু দল পাল্টে এখন বিজেপি-তে। কিন্তু সেই এক কথা। গত তিন-চার মাস, মাঠে-মঞ্চ-সাংবাদিক বৈঠক যেখানেই মুখ খুলেছেন, বার বার বলেছেন, “বাংলায় এ বার সুনামি হবে। কুড়িটা আসন পাবে বিজেপি। মানুষেক পালসটা কিন্তু আমি বুঝি”। বাইরের মানুষ দূরের কথা, বিজেপি-র ঘরের লোকেরাই অনেকে তা বিশ্বাস করেননি। এমনকী কৈলাস বিজয়বর্গীয়-অমিত শাহরাও বলেছিলেন, বারো-চোদ্দোটা পেলেও তাঁরা খুশি।

বিষ্যুদবার ইভিএম খুলতে দেখা গেল, মেলালেন তিনিই মেলালেন। উনিশের ভোট ফলাফলকে ২০০৯-এর সঙ্গে প্রায় মিলিয়ে দিলেন মুকুল রায়ই। শুধু সংখ্যায় নয়, চরিত্রের দিক থেকেও সেই ফলাফল প্রায় একই রকম।
এ দিন ভোট গণনা যখন শুরু হয় মুকুলবাবু তখন ছিলেন দিল্লিতে। পরে দুপুরেই কলকাতার বিমান ধরেন। তার আগে তাঁকে ফোনে ধরতেই প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘কী মিলল তো’?

তা মিলল বটে। তা হলে এই ফলাফলে নরেন্দ্র মোদী খুশি, অমিত শাহ খুশি এবং মুকুল রায়ও খুশি? বললেন, “হ্যাঁ খুশি তো বটেই। তবে পুরোটা পারলাম কই। শেষ দফাগুলোর নির্বাচনে যে জাল ভোট পড়ল, তা আটকে দিতে পারলে অন্তত পঁচিশটা আসন জিতত বিজেপি!”

বিজেপি-র অন্দরের সমীকরণ কোনও কালেই কংগ্রেসের মতো হাটখোলা ছিল না। মোদী-অমিত শাহ জমানায় তো আরও নয়। তবু বিজেপি-র অন্দরমহলে উঁকি মারলে দেখা যায়, এ বার লোকসভা ভোটে বাংলায় মুকুলের উপরেই ভরসা করেছিলেন অমিত শাহরা। তা নিয়ে দিলীপ ঘোষদের অসন্তোষ ছিল না তা নয়। কিন্তু মোদী-শাহ চাইলে কে আপত্তি করবেন। এবং বাংলায় বিজেপি-র যাবতীয় নির্বাচনী কৌশলের নেপথ্যে ছিলেন মুকুলবাবুই। ঠিক যেমন তিন বছর আগেও দিদি-র ‘মধুসূদন দাদা’ ছিলেন তিনিই। তা যে রটনা নয়, বরং ঘটনা, তারও বহু বার প্রমাণ মিলেছে মোদীর প্রচার সফরে। সভা মঞ্চের পিছনে বার বার দেখা গিয়েছে, মুকুল রায়কে ডেকে হিসাব কষে নিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী। বাকিরা কেউ কিন্তু নেই সেখানে।

সে যাক। এখন প্রশ্ন হল, এ সাফল্যের রসায়ন কী? মুকুল রায়ের কথায়, “অবশ্যই মোদী ম্যাজিক। সঙ্গে অমিতজির সাংগঠনিক দক্ষতা”। আর? “আর কী? মানুষের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে তৃণমূল। মমতার সরকারের অত্যাচার, পুলিশরাজ, পঞ্চায়েত ভোটে মানুষকে ভোট দিতে না দেওয়া, গণতন্ত্রের হত্যা, সরকারি প্রকল্পের টাকা লুঠ- তৃণমূলকে আর দু’চোখে দেখতে পারছে না মানুষ। সে জন্যই তো বলেছিলাম, এ বার সুনামি হবে।”

মুকুলের এই বক্তব্যের সঙ্গে শাসক দলের অনেকেই অবশ্য এক মত। বিশেষ করে তৃণমূলে একদা যাঁরা তাঁর ঘনিষ্ঠ ছিলেন তাঁদের অনেকের কথায়, উনি যতদিন দলে ছিলেন, তৃণমূলের পার্টি অফিস বলে একটা বস্তু ছিল। দিদির কাছে যাঁরা পৌঁছতে পারতেন না, তাঁদের ভরসা ছিলেন মুকুলই। এখন পার্টি অফিসটাই শুধু রয়েছে। নিচু তলার সঙ্গে যোগাযোগটা আর নেই। শুধু তা নয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের নামে একগুচ্ছ জেলা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু দলের উপর তলায় ও মাঝের সারিতে পারস্পরিক বিশ্বাস বলে বস্তুটাও উধাও।

তা হলে? এ বার রোডম্যাপ কী? উনিশের ফলাফলের পর বাংলায় আর কতটা উজ্জ্বল হতে পারে বিজেপি-র ভবিষ্যৎ? বিজেপি-র পোড় খাওয়া নেতার এ বার সপাটে জবাব, “তৃণমূলটাই উঠে যাবে। ভেঙে বাংলা কংগ্রেস হবে। তার পরে সেটাও আর থাকবে না।”

আরও পড়ুন…

বাংলার ফল লাইভ: টানটান লড়াই শেষে ব্যারাকপুরে জয়ী অর্জুন

Comments are closed.