ছিনতাইয়ে বাধা, চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা, মৃত্যু দুর্গাপুরের মা-মেয়ের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেয়েকে নিয়ে মেডিক্যালের জন্য কোটার কোচিং সেন্টারে ভর্তি করাতে যাচ্ছিলেন দুর্গাপুরের বাসিন্দা মীনা দেবী। কিন্তু মাঝপথেই ঘটল অঘটন। ট্রেনে ওঠা ছিনতাইকারীদের পাল্লায় প্রাণ গিয়েছে মা-মেয়ে দু’জনেরই। এই ঘটনা ঘটেছে ত্রিবান্দ্রম এক্সপ্রেসে।

    জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে দিল্লির হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠেছিলেন দুর্গাপুরের বাসিন্দা মীনা দেবী, মনীষা এবং তাঁর ছেলে আকাশ। উত্তরপ্রদেশের মথুরার কাছে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন মা-মেয়ে। ছিনতাইকারীরা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিতে গেলে বাধা দেন মীনা দেবী। সে সময়েই তাঁকে ট্রেন থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন ছিনতাইকারীরা। মাকে বাঁচাতে ঝাঁপ দেন মেয়ে মনীষা কুমারী। তারপরেই সব শেষ। শনিবার মথুরা রোড স্টেশনের কাছে রেল লাইনে মীনা দেবীর দেহ উদ্ধার করে রেল পুলিস। এসপি (আগ্রা রেল পুলিশ) যোগেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলেই অচৈতন্য অবস্থায় পড়েছিল মনীষা। স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

    যদিও রেল পুলিশের দাবি ছিনতাইকারীদের পিছনে তাড়া করতে গিয়েই পাশের লাইনে আসা ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে মীনা দেবী (৪৫) এবং মনীষা কুমারীর (২১)। রেল পুলিশ জানিয়েছে, এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি তিনি মীনা দেবী এবং মনীষাকে ছিনতাইকারীদের পিছনে দৌড়তে দেখেছিলেন। শনিবার ভোর ৪টে নাগাদ বৃন্দাবন রোড স্টেশনের কাছে আচমকাই নাকি ট্রেনের চেন টেনেছিলেন মীনা দেবী। অভিযোগ সেই সময়েই তাঁর ব্যাগ ছিনতাই করে পালায় দুষ্কৃতীরা। এরপরেই ট্রেন থেকে নেমে ওই ছিনতাইকারীদের পিছনে দৌড়তে শুরু করেন মা এবং মেয়ে। রেল পুলিশের অনুমান সে সময়ে পাশের লাইনে আসা সম্পর্ক ক্রান্তি এক্সপ্রেসের ধাক্কাতেই মৃত্যু হয়েছে মীনা দেবী এবং মনীষার।

    তবে এমনটা মানতে নারাজ মৃতের পরিবার। বরং তাঁরা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন রেলের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে। শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্তও। ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে মা-মেয়ের দেহ। ঘটনার সময় ট্রেনে ছিলেন মনীষার ভাই আকাশ। ঘুমোচ্ছিলেন তিনি। তাই প্রথমে টের পাননি কিছুই। পরে সকলের চিৎকারে ঘুম ভেঙে বুঝতে পারেন সব শেষ হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজেশ কুমার দুবে নামের এক ইনস্পেক্টরকে ট্রান্সফার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত। ঘটনার দিন তিনিই ছিলেন জিআরপি ইন চার্জ। 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More