রবিবার, অক্টোবর ২০

খোলাখুলি প্রশ্ন আশা ভোঁসলে-র, ‘দম মারো দম, গাইতে পারব তো নাকি?’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশ জুড়ে ‘জয় শ্রীরাম’ বিতর্ক যখন খুবই স্পর্শকাতর চেহারা নিয়েছে, বিক্ষিপ্ত ভাবে গণপিটুনি ও মারধরের ঘটনা ঘটছে, তখন শুক্রবার সাত সকালে আশা ভোঁসলে-র একটি টুইট নিয়ে সাড়া পড়ে গেল।
টুইটে আশা লিখেছেন, দম মারো দম… বোলো সুবহ শাম হরে কৃষ্ণ হরে রাম, এই এভ্রারগ্রিন গান আমি গাইতে পারব তো নাকি?

সত্তরের দশকের গোড়ায় আন্তর্জাতিক মহলে যখন নতুন করে শ্রীকৃষ্ণ তথা ভাগবত গীতা-র দর্শন নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে, সেই পটভূমিতে মুক্তি পেয়েছিল হিট ছবি ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’। দেব আনন্দ, মুমতাজ, জীনাত আমান অভিনীত সে ছবি-র প্রতিটি গানই ছিল সুপারহিট। এর মধ্যে ‘দম মারো দম’ গানটি গেয়েছিলেন আশা ভোঁসলে ও উষা উত্থুপ। গানটির চিত্রায়নে দেখা যায়, জিনাত আমান ও তাঁর বন্ধুরা গাঁজা-চরশের নেশা ভাঙ করতে করতেই উদ্দাম নেচে এই গান গাইছেন।
কৃষ্ণ নামের সঙ্গে কেন গাঁজা-চরশের আবহ মিশিয়ে ফেলা হল তা নিয়ে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর তেমন কোনও বিতর্ক হয়নি। তা ছাড়া দেশে তখন উগ্র হিন্দুত্বের রাজনীতিও ছিল না।

আশা ভোঁসলে এই প্রশ্ন কেন তুলেছেন, তার ব্যাখ্যা অবশ্য তিনি দেননি। তবে অনেকে মনে করছেন, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে যে স্পর্শকাতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাকেই খোঁচা দিতে চেয়েছেন আশা। হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন, এই গান গাইলে আবার নতুন করে বিতর্ক তৈরি হবে না তো? উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা হামলা করবে না তো?

প্রসঙ্গত, লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের সম্পর্ক বরাবরই ভালো। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ-কে ভাই বলে সম্মোধন করেন তিনি। লতার বাড়িতেও গিয়েছেন অমিত শাহ সহ বিজেপি শীর্ষ নেতারা। কিন্তু আশা বরাবরই উদারপন্থী বলে পরিচিত।

এ দিকে তাঁর টুইট নিয়েও সোশাল মিডিয়া প্রায় দু’ভাগ হয়ে গিয়েছে। কেউ বলেছেন, “অসাধারণ ম্যাডাম, জোর কা ঝটকা ধীরে সে লাগা।” আবার কেউ বলেছেন, “আশা তাই (দিদি) আপনি এভারগ্রিন, আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে বলব জয় শ্রীরাম।”

Comments are closed.