করোনা সারছে কি ক্লোরোকুইনে! দ্বিমত আমেরিকা, চিনের বিজ্ঞানীদের, ডোজ বেশি হলে হবে মৃত্য়ুও

করোনার সংক্রামক স্ট্রেন সার্স-সিওভি-২ (SARS-COV-2) কে নাকি ইতিমধ্যেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে ক্লোরোকুইন ফসফেট (Chloroquine Phosphate)। দাবি আমেরিকা ও চিনের বিজ্ঞানীদের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক। জমিয়ে লড়াই করে অ্যামিবিয়েসিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের বিরুদ্ধেও। নাম তার ক্লোরোকুইন। সেই ড্রাগই নাকি কার্যকরী হতে পারে করোনাভাইরাসের মোকাবিলায়। এমনই দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও টেসলা প্ল্যান্টের কো-ফাউন্ডার ইলোন মাস্ক। তবে মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) জানিয়েছে করোনার সংক্রমণ রুখতে ক্লোরোকুইন ফসফেট (Chloroquine Phosphate) কার্যকরী কিনা সেটা এখনও প্রমাণ হয়নি। তাই এখনই এমন দাবি করা অমূলক। তবে চিনের বিজ্ঞানীদের দাবি, ক্লোরোকুইন ফসফেটে নাকি অনেক করোনা আক্রান্তেরই সংক্রমণ কমেছে। যদিও সরকারিভাবে সে তথ্য তারা সামনে আনেনি।

     

    সিওভিডি ১৯ সংক্রমণ ক্লোরোকুইনে সারছে! গবেষণায় আমেরিকা ও চিনের বিজ্ঞানীরা

    প্লাসমোডিয়াম ভাইভাক্স, প্লাসমোডিয়াম ওভাল ও প্লাসমোডিয়াম ম্যালেরির চিকিৎসায় ক্লোরোকুইন অবর্থ্য। অন্যান্য অ্যান্টি-ম্যালেরিয়াল ড্রাগের থেকেও ক্লোরোকুইনের কার্যকারীতার কথা মেনে নিয়েছে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনও। অ্যামিবিয়েসিস এমনকি কিছু ক্ষেত্রে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের রোগীদের উপরেও ক্লোরোকুইন প্রয়োগ করে সুফল পাওয়া গেছে। এফডিএ জানাচ্ছে, সিওভিডি ১৯ সংক্রমণ যদি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে অথবা অল্পের উপর হয় তাহলে ক্লোরোকুইনের নির্দিষ্ট ডোজে সেটা কমতে পারে। গোটা শরীরে যদি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে তাহলে কীভাবে সেটা ক্লোরোকুইন প্রয়োগ করে রোখা যাবে সেই গবেষণাই চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এফডিএ এমনও বলেছে, ক্লোরোকুইন ফসফেট ড্রাগের মাত্রা যদি ২ গ্রামের বেশি হয়ে যায়, তাহলে সেটা রোগীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তাই  করোনার সংক্রমণ কমাতে ক্লোরোকুইনের প্রয়োগ যে সবক্ষেত্রেই সাফল্য আনবে সেটা এখনও জোর গলায় বলতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। বরং বলা যায় গবেষণা এখনও প্রাথমিক স্তরেই আছে।

    আমেরিকার ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ক্লোরোকুইন ফসফেট রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লুপাস এরিথেমাটোসাস, স্ক্লেরোডার্মা, পলিমায়োসিটিসের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়েছে। কয়েকজন করোনা আক্রান্ত রোগীর উপরে এই ড্রাগের প্রয়োগ করে দেখা গেছে সংক্রমণ কিছুটা হলেও কমেছে। তবে এই ড্রাগ টেস্টের রেজাল্ট কতটা পজিটিভ সেটা জানা যাবে আরও বহুবার ট্রায়ালের পরেই।

    এফডিএ ক্লোরোকুইনেরর কার্যকারীতা পূর্ণভাবে মেনে না নিলেও এই ড্রাগকে করোনা-প্রতিরোধী বলে দাবি করেছে চিনের ন্যাশনাল হেল্থ কমিশন। সেখানকার এক গবেষক বলেছেন, সিওভিডি ১৯ সংক্রমণে বেশিরভাগ রোগীর শরীরে নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হন রোগী। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ক্লোরোকুইন ফসফেট ড্রাগের প্রভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে নিউমোনিয়া থেকে রেহাই পাচ্ছেন রোগীরা। শ্বাসের সমস্যা কমছে। মনে করা হচ্ছে এইভাবে ক্লোরোকুইন ফসফেটের উপর আরও পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়ে এবং এর ডোজের নির্দিষ্ট মাপকাঠি ঠিক করতে পারলে সিওভিডি ১৯ সংক্রমণের সব উপসর্গই কমানো যাবে। তবে সেটা সম্ভব হবে ট্রায়াল ও ল্যাবোরেটরিতে এর রাসায়নিক ফর্মুলার উপর আরও পরীক্ষার পরে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও টেসলা প্ল্যান্টের কো-ফাউন্ডার ইলোন মাস্ক

    ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার বিজ্ঞানীরা হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন (Hydroxychloroquine) নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেছেন। করোনা সংক্রমণ রুখতে ক্লোরোকুইনের কার্যকারীতা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পরেই ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি বেয়ার ঘোষণা করেছে এই ড্রাগ উপযোগী প্রমাণিত হলেই ৩০ লক্ষ ক্লোরোকুইন ফসফেটের ড্রাগ ‘রেসোচিন’ তারা সরবরাহ করবে হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিতে। কম রোগীর উপরে হলেও এই রেসোচিন নাকি সিওভিডি ১৯-এর সংক্রমণ কমাতে অনেকটাই সফল হয়েছে।

    ক্লোরোকুইন ফসফেট ড্রাগের ডোজ জানিয়েছেন চিনের বিজ্ঞানীরা

    চিনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও অবধি ১৩০ বার ট্রায়াল করা হয়েছে ক্লোরোকুইন ফসফেটের। কিছু রোগীর উপরে ক্লোরোকুইন ফসফেট ড্রাগের প্রভাবও কার্যকরী হয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ড্রাগ ব্যবহার করা যাবে নির্দিষ্ট মাত্রায়। যেমন পূর্ণবয়স্ক রোগীদের উপরে ১০ দিনের বেশি এই ড্রাগ প্রয়োগ করলে নানারকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ট্যাবলেটের ডোজ দিনে দু’বার ৫০০ মিলিগ্রাম করে। এই ডোজ ৫০ কিলোগ্রামের বেশি ওজনের রোগীর উপরেই প্রয়োগ করা যাবে। তবে ড্রাগের এই মাত্রা এখনও ট্রায়ালেই রয়েছে।

     

    ক্লোরোকুইনের কথা বলেছেন ভারতের ডাক্তাররাও

     

    এইচআইভি, ম্যালেরিয়া ও সোয়াইন ফ্লুয়ের ড্রাগের ককটেলে করোনা আক্রান্ত রোগীরা অনেকটা স্থিতিশীল হচ্ছেন এমন দাবি করেছেন রাজস্থানের ডাক্তাররা। বলা হয়েছে, সংক্রামিত রোগীর উপরে ম্যালেরিয়ার ড্রাগ ক্লোরোকুইন প্রয়োগ করা হয়। এরপর দেওয়া হয় সোয়াইন ফ্লুয়ের ওষুধ। তারপর রোগীকে এইচআইভি ড্রাগ দেওয়া হয়। তিন ড্রাগের ককটেলে রোগী সাড়া দিয়েছে খুব দ্রুত। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চে এই চিকিৎসা পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন রাজস্থানের ডাক্তাররা। তবে ক্লোরোকুইনের প্রভাব কতটা কার্যকরী সেটা এখনও গবেষণার স্তরেই আছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More