বুধবার, অক্টোবর ১৬

জরুরি বিভাগ খুললেও পরিষেবা অমিল, অচলাবস্থা জারি এনআরএসে, অপেক্ষায় রোগীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশিকা, মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিতেও বরফ গলল না। অচলাবস্থা কাটল না নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের। শুক্রবারও যথারীতি ব্যাহত স্বাস্থ্য পরিষেবা। সূত্রের খবর, জরুরি বিভাগের গেট খুললেও ভিতরে নেই ডাক্তার-নার্স। পরিষেবা চালু হয়নি আউটডোরেও। এ দিন সকাল থেকে ফের মুমূর্ষু রোগী নিয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে রোগীর আত্মীয়দের। প্রসূতি বিভাগের সামনেও অপেক্ষায় রোগীরা।

বৃহস্পতিবার এসএসকেএম হাসপাতালের উঠোনে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, রোগীদের বিপদে ফেলে আন্দোলন চালিয়ে গেলে তিনি কোনওভাবেই বরদাস্ত করবেন না। প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ করবেন। মুখ্যমন্ত্রীর সেই হুঁশিয়ারির পরেও জুনিয়র ডাক্তাররা তাঁদের আন্দোলনে অনড়। বরং, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেন্ডেন্ট ও ভাইস প্রিন্সিপাল সৌরভ চট্টোপাধ্যায় এবং প্রিন্সিপাল শৈবাল মুখোপাধ্যায় দু’জনেই সরকারের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন। শুক্রবারও এনআরএস হাসপাতালের আরও ষোলো জন সিনিয়র ডাক্তার ইস্তফা দিতে পারেন বলে খবর। ইতিমধ্যেই সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে ১৮ জন চিকিৎসক ইস্তফা দিয়েছেন। সিউড়ি জেলা হাসপাতালের ৬৪ চিকিৎসক জানিয়ে দিলেন, ইস্তফা দিতে চান তাঁরা। এমনকী এই মর্মে একটি আবেদনপত্রও তাঁরা পাঠিয়ে দিয়েছেন হাসপাতালের সুপারের কাছে।

এনআরএসের মতোই শহরের বাকি হাসপাতালগুলিতেও স্বাস্থ্য পরিষেবা সংকটে। প্রায় ডাক্তার শূন্য অবস্থা কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, আরজিকর, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, এসএসকেএম-সহ সমস্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে।

৬০ ঘণ্টা আন্দোলন চালানোর পর বৃহস্পতিবারই প্রথম মুখ্যমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন। এসএসকেএমে পা দিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, আউটডোর  ও জরুরি বিভাগের পরিষেবা বন্ধ রেখে যাঁরা কর্মবিরতি করবেন অথবা বাধা দেবেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। এমনকি স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে হাসপাতাল সুপারদের চিঠি পাঠিয়ে বলা হয়,  সব সরকারি হাসপাতালের বর্হিবিভাগ তথা ওপিডি এবং ইমার্জেন্সি যেন খোলা হয়। রোগীদের পরিষেবা দেওয়া হয়। তার পরেও কর্মবিরতির সিন্ধান্তে অনড় ডাক্তাররা।

আরও পড়ুন:

জুনিয়র ডাক্তারদের সহযোগিতায় আন্দোলনের মধ্যেও মরণোত্তর দেহদান এনআরএস হাসপাতালে

Comments are closed.