সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

বাড়ির কাছেই উদ্ধার চাদরে মোড়ানো মহিলার গলাকাটা দেহ, আটক মেয়ে-জামাই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিছানার চাদর জড়ানো অবস্থায় রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার মহিলার দেহ। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ কলকাতার বেহালায়। রবিবার সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ মহিলা দেহ উদ্ধার করে পর্ণশ্রী থানার পুলিশ। তারা জানিয়েছে, মৃতের নাম শম্পা চক্রবর্ত্তী। বয়স পঞ্চাশের আশেপাশে।

পুলিশ জানিয়েছে, মর্নিং ওয়াক করতে বেরিয়ে স্থানীয়রাই প্রথম দেখেন রাস্তার পাশে চাদরে জড়ানো কী যেন একটা পড়ে রয়েছে। একটু এগিয়ে যেতেই নজরে আসে চাদরের পুঁটুলির ভিতর থেকে বেরিয়ে রয়েছে দু’টো পা। তাড়াতাড়ি খবর দেওয়া হয় পুলিশে। এরপর পুলিশ এসে উদ্ধার করে শম্পাদেবীর দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, ওই মহিলার গলা কাটা ছিল। এ ছাড়াও মুখে প্লাস্টিক জড়ানো ছিল। আর মৃতদেহের পাশে একটি ট্রলিও পড়েছিল। পুলিশ এসে চাদর খুলতেই স্থানীয়রা শনাক্ত করেন শম্পাদেবীকে।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, যেখানে শম্পাদেবীর দেহ উদ্ধার হয়েছে তার উল্টোদিকের বাড়িতে থাকতেন তিনি। কদিন আগেই বিয়ে দিয়েছিলেন মেয়ের। কিন্তু নিত্যদিন মেয়ে-জামাইয়ের সঙ্গে অশান্তি লেগেই থাকত। এমনকী শনিবার অনেক গভীর রাত পর্যন্ত তাঁদের বাড়ি থেকে চিৎকারের আওয়াজ পান বলে দাবি করেছেন প্রতিবেশীরা। পাশপাশি তাঁরা জানিয়েছেন, পাড়ায় সে ভাবে কারও সঙ্গেই মিশতেন না শম্পাদেবী বা তাঁর পরিবার।

প্রতিবেশীদের অভিযোগ, শনিবার অনেক রাতে ওই বাড়ি থেকে শম্পাদেবীর মেয়ে-জামাইকেও বেরোতে দেখেছিলেন কেউ কেউ। তাঁদের অভিযোগ, শম্পাদেবীকে খুন করে সম্ভবত দেহ লোপাটের চেষ্টা করেছিল মেয়ে-জামাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাস্তাতেই দেহ ফেলে রেখে পালায় তারা। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন মৃতার স্বামী, মেয়ে এবং জামাই। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। রবিবার মৃতার মেয়ে এবং জামাইকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। পুলিশ জানিয়েছে, জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেছে শম্পাদেবীর জামাই।

ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে শম্পাদেবীর দেহ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ধারালো কোনও অস্ত্র দিয়ে গলার নলি কেটে খুন করা হয়েছে শম্পা চক্রবর্ত্তীকে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে তবেই সঠিক ভাবে সবটা জানা যাবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

Comments are closed.