মমতার সতর্কবাণী, ‘ভয়ঙ্কর দিন আসছে! এক ভোট, একজনই নেতা, একটাই পার্টি..!’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক আচরণের অভিযোগ দিদির নতুন নয়। কিন্তু বুধবার নতুন অশনিসংকেত দেখাতে চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেয়ো রোডের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বললেন, “ভয়ঙ্কর দিন আসছে। বাংলার শিক্ষিত সমাজ, ছাত্রছাত্রী, বিদ্বজ্জনদের বলছি,– আমার অনুমান মিলিয়ে নেবেন। দেশটা প্রেসিডেন্সিয়াল ফর্ম অব গভর্নমেন্টের দিকে যাচ্ছে। এক ভোট, একজনই নেতা, একটাই পার্টি…”।

অনেকের মতে, দিদি হয়তো স্বৈরাচারী শাসনের জুজু দেখাতে চেয়েছেন। কারণ, একজনই নেতা-একটাই পার্টি প্রেসিডেন্সিয়াল ফর্ম অব গর্ভনমেন্টেও থাকে না। তা স্বৈরাচারী শাসনেই সম্ভব।

সে যাক। প্রশ্ন হল, কী কী উপসর্গ দেখে দিদির মনে হচ্ছে যে আগামী দিন ভয়ঙ্কর?

ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চে এ দিন তার ব্যাখ্যা দিয়েছে মমতা। তিনি বলেন, “চোদ্দ সালে ভোট হয়েছিল। তার পর ষোল সালে ভোট হয়েছে। উনিশ সালেও ভোট হয়েছে। কিন্তু চোদ্দর ভোট নিয়ে এখন উনিশ সালে চিঠি পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। বলছে, তোমার দলের অ্যাকাউন্ট ম্যাচ করছে না!” এ কথা জানিয়েই দিদি প্রশ্ন ছোঁড়েন, “টার্গেটটা কী? বাকি রাজনৈতিক দলগুলোকে উঠিয়ে দেবে? সব এমপি-এমএলএ-দের কিনে নেবে? দল ভেঙে দেবে?”
দিদি এ দিন বোঝাতে চান, শুধু এ কারণেই নয়। আরও বিবিধ কারণে তিনি সিঁদুরে মেঘ দেখতে পাচ্ছেন। তাঁর কথায়, মিডিয়াকে ভয় দেখানো হচ্ছে। তারা আর ঘেউ ঘেউ, মিউ মিউ করছে না। যা ছাপতে বলছে, তাই ছাপছে। রিজার্ভ থেকে মানুষের টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে। কাশ্মীর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কোনও আলোচনা করা হচ্ছে না। বন্দুকের নল দেখিয়ে সবাইকে চুপ করিয়ে রাখা হয়েছে।

এমন নয় যে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই এই সব উপসর্গ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। তবে ঘটনা হল, দিদি এ কথা বলতেই পাল্টা প্রতিক্রিয়াও এ দিন উড়ে এসে বাংলার বাকি বিরোধী দলের নেতাদের থেকে।
যেমন লোকসভায় কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, “বাংলায় কৌনসা গণতন্ত্র চলছে। এখানেও তো একজনই নেতা। যাতে একটাই পার্টি থাকে তার ব্যবস্থাও করতে চেয়েছিলেন এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। ষোল সালের ভোটে ২১১ টি আসনে জিতেও তৃণমূলের পেট ভরেনি। টাকা দিয়ে, ভয় দেখিয়ে সিপিএম, কংগ্রেসের বিধায়ক কেনা শুরু করেছিল”।

এখানেই থামেননি অধীরবাবু। তিনি বলেন, “আমরা তো অনেক আগে থেকেই বলছিলাম, দিল্লি আর কলকাতায় একই মডেল রয়েছে। একটা বড় মডেল একটা ছোট। কিন্তু রসায়ন একই”। তাঁর কথায়, বাংলায় মিডিয়াকে কারা ধমকায় কেউ জানে না বুঝি? তা হলে সরকারের সমালোচনা করলেই সেই সংবাদপত্রের সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া হয় কেন?
অন্যদিকে বিজেপি নেতা মুকুল রায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে গণতন্ত্রের কথা কি আদৌ মানায়? বিরোধী দলের নেতাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেল ভর্তি করে রেখে ভালোমানুষির মুখোশ পড়ে ঘুরছেন উনি”। তাঁর কথায়, “বাংলাতেও তো স্বৈরাচারি ব্যবস্থাই কায়েম করে রেখেছেন মমতা। ওঁর স্লোগানেই পরিষ্কার,-দিদিকে বলো। মানে সরকারের আর কারও কোনও ভূমিকা নেই। বাকি মন্ত্রীরা সব অপ্রাসঙ্গিক। শুধু একজনই নেত্রী।”
এ দিনের সভায় বামেদেরও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এই বাংলা থেকেই ভিয়েতনামের মুক্তি যুদ্ধের স্লোগান উঠেছিল। সেই বামেদের হার্মাদরাই এখন বিজেপি-র জল্লাদ হয়ে গিয়েছে।

জবাবে বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সিপিএমের লড়াইয়ে সতত চলছে। তা কোনও শর্ত সাপেক্ষে থামেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিজেপি-র সঙ্গে সরকার গড়েছেন। এমনকি বিজেপি-র সঙ্গে আঁতাত করে চিটফান্ডের তদন্ত আটকানোর চেষ্টা করেছিল তৃণমূল। বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওঁদের বিশ্বাসযোগ্যতাই নেই।

আরও পড়ুন:

জেলে যেতে তৈরি, সে হবে আমার স্বাধীনতা সংগ্রামের মতোই: মোদী সরকারের বিরুদ্ধে হুঙ্কার মমতার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More