করোনার দুর্বল জিনের খোঁজ মিলল ভারতেই, ৬৪টি জিনোম সিকুয়েন্স করে চমক দিল সিএসআইআর

মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, দিল্লি, তেলঙ্গানা থেকে যত কোভিড রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেখান থেকেই ভাইরাল স্ট্রেন বার করে তার গঠন বিন্যাস দেখে চমকে গেছেন কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর)-এর বিজ্ঞানীরা। সিএসআইআরের সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি (সিএসআইআর-সিসিএমবি)ল্যাবে এই জিনোম সিকুয়েন্সের কাজ চলছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার দুর্বল জিনের বিন্যাস খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা। মারণ ভাইরাসের এমন জিন মিলল ভারতেই। জিনোম সিকুয়েন্স বা জিনের গঠন বিন্যাস খুঁটিয়ে দেখে বিজ্ঞানীরা বললেন, খুব বেশি বদল হয়নি এই জিনে। ঘন ঘন জিনের গঠন বদলে ফেলার আগে করোনা যেমনটি ছিল, এই জিনের বিন্যাস অনেকটা তেমনই। কাজেই এর শক্তিও কম, সংক্রমণ ছড়াবার ক্ষমতাও সীমিত।

    মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, দিল্লি, তেলঙ্গানা থেকে যত কোভিড রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেখান থেকেই ভাইরাল স্ট্রেন বার করে তার গঠন বিন্যাস দেখে চমকে গেছেন কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর)-এর বিজ্ঞানীরা। সিএসআইআরের সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি (সিএসআইআর-সিসিএমবি)ল্যাবে এই জিনোম সিকুয়েন্সের কাজ চলছে। সোমবার নিজেদের টুইটার হ্যান্ডেলে এই নতুন খোঁজের কথাও বলেছে সিসিএমবি।

    আরও পড়ুন: ঘন ঘন বদলাচ্ছে করোনা, জিনের গঠন পাল্টে ফেলছে পরপর ২০০ বার, সামনে এল সেই ছবি

    কী এই খোঁজ? সিসিএমবি-র বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনাভাইরাস এত বার জিনের গঠন বদলেছে এবং এখনও বদলে চলেছে যে তার প্রতিটা স্ট্রেনই একে অপরের থেকে আলাদা। করোনার প্রাণঘাতী ভাইরাল স্ট্রেন সার্স-কভ-২ এখন বিশ্বে অতিমহামারী। এই আরএনএ ভাইরাল স্ট্রেনও বদলে চলেছে ক্রমাগত। দেখা গেছে, এক রোগীর শরীরে যে ভাইরাল স্ট্রেন রয়েছে, তা অন্যের থেকে আলাদা। যার অর্থই হল, এক মানুষের শরীর থেকে অন্য মানুষের শরীরে সংক্রামিত হওয়ার আগেই জিনের গঠন, বিন্যাস বদলে ফেলছে ভাইরাস। কারণ তাকে বেশিদিন টিকে থাকতে হবে। ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা বেঁচে থাকার সময়কাল বাড়াতে হবে। তার জন্য দরকার এই পরিবর্তন।

    গবেষকরা বলছেন, জিনের গঠন বিন্যাস কতটা বদলাচ্ছে, কী কী পরিবর্তন হচ্ছে সেটা দেখতে গিয়েই বিশেষ একরকমের ক্লাস্টার সিকুয়েন্স খুঁজে পেয়েছেন তাঁরা। ৬৪টি ভাইরাল স্ট্রেনের পূর্ণাঙ্গ গঠন বিন্যাস সাজিয়ে এমন ক্লাস্টার পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ফাইলোজেনেটিক ক্লাস্টারের নাম Clade I / A3i। ভারতীয়দের থেকে নেওয়া ৪১% ভাইরাল স্ট্রেনের জিনোম সিকুয়েন্সে এই ক্লাস্টার পাওয়া গেছে।

    জেনেটিক মিউটেশন বা জিনের গঠনগত বদল দেখতে হলে তার বিন্যাস বার করতে হয়। দেখতে হয়, জিন ঠিক যেমনটি থাকার কথা ছিল, সেটা রয়েছে কিনা। নাকি তার বিন্যাসে পরিবর্তন আসছে এবং সেই পরিবর্তন ঠিক কতটা। যেভাবে জিনের বিন্যাস সাজিয়ে তাতে ঘটে জলা বদল দেখা হয় তাকেই বলে জিনোম সিকুয়েন্সিং করা। সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনের জিনোম সিকুয়েন্সিং করে বিজ্ঞানীরা আগেই দেখেছিলেন, অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নিজেদের জিনের গঠন বিন্যাস বদলে ফেলছে এই ভাইরাস। এমনকি এও দেখা গিয়েছিল, ভারতেই প্রায় ৫০% নতুন জিনোম পাওয়া গেছে এই ভাইরাসের।

    সিসিএমবি-র গবেষকরা বলছেন, এই বদল দেখতে গিয়েই এই ক্লাস্টার সিকুয়েন্সের খোঁজ মিলেছে। এর বৈশিষ্ট্য কী? নিশ্চিত প্রমাণ দিতে না পারলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় বোঝা গেছে এই ফাইলোজেনেটিক ক্লাস্টার সিকুয়েন্স Clade I / A3i তুলনামূলকভাবে দুর্বল। এই ক্লাস্টারের আবার চারটে ধরন আছে, C6312A (T2016K), C13730T (A88V/A97V), C23929T এবং C28311T (P13L) । এরা প্রত্যেকেই অপেক্ষাকৃত কমজোরি ভাইরাল স্ট্রেন সেখানে মিউটেশন বা জিনের গঠনগত বদল খুব বেশি হয়নি। বিশ্বে যত জিনোম সিকুয়েন্স বার করা হয়েছে এই ভাইরাসের, এখনও অবধি কোথাও এমন ক্লাস্টার পাওয়া যায়নি।

    আরও পড়ুন: ৫০% নতুন ভাইরাল স্ট্রেন পাওয়া গেছে ভারতেই, জিনের গঠন বদলাচ্ছে ‘স্পাইক’ প্রোটিনে, দাবি গবেষকদের

    গবেষকরা বলছেন, সাধারণ ফ্লু যখন মহামারী হয় তার মধ্যে এক আধটা ভাইরাল প্রোটিনের বদল ঘটে, যাকে বলে পয়েন্ট মিউটেশন’ (Point Mutation) । অর্থাৎ এক বা সিঙ্গল অ্যামাইনো অ্যাসিডের বদল। কিন্তু করোনার মধ্যে সেই পরিবর্তন লাগামছাড়া। এত বেশিবার মিউটেশনের ফলে করোনাভাইরাসের প্রকৃত চরিত্র ও রাসায়নিক গঠন বিজ্ঞানীদের কাছে অধরাই থেকে যাচ্ছে। কারণ ঠিক কোন জিন থেকে বদলটা শুরু হয়েছে সেটা ধরা যাচ্ছে না। সিসিএমবি জানাচ্ছে, এই ক্লাস্টার সিকুয়েন্স একেবারে শুরুর দিকেরই বলে মনে হচ্ছে। বদলের মাত্রা কম দেখেই এমন ধারণা হয়েছে। এমন সিকুয়েন্স যদি আরও খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে ভাইরাসকে থামানোর রাস্তাও বার করা যাবে।

    সংক্রমণ ছড়াতে ছড়াতে একটা পর্যায়ে গিয়ে ভাইরাস দুর্বল হতে শুরু করে। তার মধ্যে জেনেটিক মিউটেশনের ক্ষমতা কমে যায়। এই মারণ ভাইরাসের পূর্বসূরী সার্স-কভ-১ ভাইরাসের ক্ষেত্রে এমনটাই দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সার্স-কভ-২ অনেক বেশি সংক্রামক। কারণ মানুষের শরীরে ঢোকার জন্য সে একাধিক ‘বন্ধু’ প্রোটিন খুঁজে পেয়েছে যাদের সম্বল করেই নিজেদের গঠন বদলে বদলে ছড়িয়ে পড়ছে। তবে, ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডনের বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন সব ভাইরাসের মতো এই ভাইরাসেরও একটা দুর্বল দিক আছে। এমন জিন আছে যেখানে মিউটেশন হয় না বা খুব কম হয়। ড্রাগ বা ভ্যাকসিন যদি সেখানেই টার্গেট করা যায় তাহলে রোখা যেতে পারে এই ভাইরাসকে। এই নতুন খোঁজ সেই সুযোগ এনে দেবে কিনা সে নিয়েই মাথা ঘামাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More