ফের মুর্শিদাবাদে বিরোধী শিবির ভাঙলেন শুভেন্দু, এ বার সিপিএম বিধায়ক তৃণমূলে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের মুর্শিদাবাদে বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরালো তৃণমূল। সৌজন্যে সেই শুভেন্দু অধিকারী।

রবিবার শাসকদলে যোগ দিলেন মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রাম বিধানসভার সিপিএম বিধায়ক কানাই চন্দ্র মণ্ডল। এ দিন নবগ্রামের রসুলপুর স্কুল ময়দানে জনসভা করেন রাজ্যের পরিবেশ ও পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই কানাই চন্দ্র মণ্ডলের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন তিনি। কানাই চন্দ্র মণ্ডল ছাড়াও এ দিন শাসকদলে যোগ দেন বেলডাঙা পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলার অনিতা সাহা। কানাই চন্দ্র মণ্ডলের যোগদানের ফলে মুর্শিদাবাদের যতগুলি বিধানসভা কেন্দ্র আছে তাতে বিধায়কদের সংখ্যা হয়ে দাঁড়ালো এইরকম, তৃণমূল কংগ্রেস ১১, কংগ্রেস ৮ ও সিপিএম ৩।

আরও পড়ুন পর্ন সাইট সবচেয়ে বেশি দেখেন মহিলারা, ভারতকে তাই সতর্ক করছে ‘পর্ন হাব’, কেন জানেন!!

এ দিনের মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, ১৬ ডিসেম্বর রানিনগরের সভায় মুর্শিদাবাদের মানুষের জন্য আরও বড় চমক অপেক্ষা করে আছে। এই ঘোষণার পর থেকেই জেলা রাজনীতিতে চাপা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা সেখানকার কংগ্রেস বিধায়কও হয়তো এ বার যোগ দিতে চলেছেন শাসক দলে। রসুলপুরের সভা থেকেও অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন শুভেন্দু। বলেন, ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেডের সমাবেশে কংগ্রেসের অনেক কেন্দ্রীয় নেতা আসবেন। কিন্তু অধীর চৌধুরী সব জায়গায় মমতা ব্যানার্জীর সমালোচনা করে চলেছেন। অধীর যে বিজেপিকে ইন্ধন যোগাচ্ছেন তা এই কাজ থেকেই স্পষ্ট বলে মন্তব্য করেন শুভেন্দু।

ধারাবাহিকভাবে মুর্শিদাবাদ সফরে যাচ্ছেন শুভেন্দু। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে তিনি ওই জেলার পর্যবেক্ষকও বটে। মুর্শিদাবাদ জেলায় ৩টি লোকসভা কেন্দ্র। বহরমপুর, জঙ্গিপুর ও মুর্শিদাবাদ। বহরমপুর ও জঙ্গিপুরের সাংসদ হলেন যথাক্রমে কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী ও প্রণব-পুত্র অভিজিৎ মুখার্জী। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ হলেন সিপিএমের বদরুদ্দোজা খান। অর্থাৎ এমন একটি জেলা যেখানে একটা সিটও শাসক দলের নেই। এদিকে উনিশের লোকসভা নির্বাচনে ৪২-এ ৪২ করার ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দু জানেন মুর্শিদাবাদে সেটা একটা চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে আরও চ্যালেঞ্জ হলো অধীর চৌধুরীর গড় ভাঙা।

কয়েকদিন আগেই মুর্শিদাবাদে জোড়া সভা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। একটা নওদা ও অন্যটি রেজিনগরে। দুটি সভা থেকেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান নন্দীগ্রামের বিধায়ক। অধীর চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানির বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদ জেলায় বিজেপি-কে বাড়তে সাহায্য করারও অভিযোগ করেন শুভেন্দু। ফলে মুর্শিদাবাদকেই যে পাখির চোখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী, তা শুভেন্দু অধিকারীর এই কার্যকলাপেই স্পষ্ট।

এই যোগদানের পরিপ্রেক্ষিতে মুর্শিদাবাদের সিপিএম নেতা মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য্য বলেন, “আগে বাংলার রাজনীতিতে এই ঘোড়া কেনাবেচা ছিল না। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরেই তা শুরু হয়েছে। তবে মানুষ সবকিছুই দেখছেন। সামনের লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের মানুষই তাঁদের জবাব দেবেন।” যদিও শাসকদলের বক্তব্য, উন্নয়নে যোগ দিতেই কানাই চন্দ্র মণ্ডল লাল ঝাণ্ডা ছেড়ে জোড়া ফুলে যোগ দিয়েছেন।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More