মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

বিজেপির পর সিপিএমের সভাও নেতাজি ইনডোরে, তৃণমূল কি সত্যিই নরম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মনে পড়ে ২০১২ সালের এপ্রিল মাসের কথা?
বাম ছাত্র সংগঠনগুলির বিক্ষোভ মিছিলে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল ধর্মতলা এলাকা। ওই কর্মসূচিতেই এসএফআই নেতা সুদীপ্ত গুপ্তর মৃত্যু হয়। বামেরা অভিযোগ তোলে পুলিশি হেফাজতেই পিটিয়ে মারা হয়েছে সুদীপ্ত গুপ্তকে। তারপর ‘শহিদ’ ছাত্র নেতার স্মরণসভা করার জন্য নেতাজি ইনডোর চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু মেলেনি। স্মরণসভা করতে হয়েছিল নজরুল মঞ্চে।

কাট টু ২০১৯। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি তৈরির শতবর্ষ উদযাপনের সূচনা সমাবেশ করছে সিপিএম। ওই নেতাজি ইনডোরেই। যা দেখে অনেকেই বলছেন, তৃণমূলের হলটা কী?

শুধু সিপিএম নয়। গত কয়েক বছরে একাধিকবার নেতাজি ইনডোর চেয়ে ফিরতে হয়েছে রাজ্য বিজেপি-কে। কখনও বলা হয়েছে মেরামতির কাজ চলছে, কখনও বলা হয়েছে বুকিং রয়েছে। কিন্তু পুজোর আগে সেই নেতাজি ইনডোরে এসে সভা করে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। তাও আবার জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ বা এনআরসি ইস্যুতে। যাতে তৃণমূল আর বিজেপি-র অবস্থান উল্টো মেরুতে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারে আসার পর থেকেই বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, বিরোধীদের ন্যূনতম জায়গা দিচ্ছে না শাসক দল। সরকারি ক্ষমতাকে ব্যবহার করে বিরোধীদের মিছিল মিটিং করার অধিকারকে কেড়ে নিতে চাইছে। সেই তৃণমূল সরকার যদি সিপিএম, বিজেপি-কে বিনা বাক্য ব্যয়ে সভার জন্য নেতাজি ইনডোর দিয়ে দেয় কৌতূহল হবে না?

এক সিপিএম নেতার কথায়, নেতাজি ইনডোর পেতে কোনও সমস্যাই হয়নি। নিয়ম মাফিক আবেদন করতেই সবুজ সংকেত দিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০০৮ থেকে চলতে থাকা তৃণমূলের জয়রথ এই প্রথম ধাক্কা খেয়েছে উনিশের লোকসভা ভোটে। জনমানসে শাসক দলের বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ উঠছিল তার মধ্যে বিরোধীদের জায়গা না দেওয়া অন্যতম। তাঁদের মতে, হতে পারে ভোটে ধাক্কা খেয়ে সংশোধিত পদক্ষেপ হিসেবেই এই পথে হাঁটছে তৃণমূল। সেখানে নেতাজি ইনডোর একটা উদাহরণ মাত্র!

পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

সাতমহলা আকাশের নীচে

Comments are closed.