অক্টোবরেই কোভিড ভ্যাকসিন নিয়ে আসব, দাবি করল মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট ফাইজার

জার্মান বায়োটেকনোলজি ফার্ম বায়োএনটেক এসই-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কোভিড ভ্যাকসিন বানাচ্ছে ফাইজার। সিইও অ্যালবার্ট বোরলা বলেছেন, ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে ভাল ফল দেখা গেছে। সব ঠিক থাকলে এ বছর অক্টোবরের মধ্যেই কোভিড ভ্যাকসিন বাজারে নিয়ে আসবেন তাঁরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্টের নানা দেশে কোভিড ভ্যাকসিনের সলিডারিটি ট্রায়াল চালাচ্ছে আমেরিকার অন্যতম বড় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ফাইজার। আমেরিকাতেই ৩৬০ জনের উপরে ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হয়েছে। এখনও অবধি ক্লিনিকাল ট্রায়ালের ফল সন্তোষজনক বলেই দাবি করেছেন ফাইজারের কর্ণধার অ্যালবার্ট বোরলা। আজ একটি ভিডিও কনফারেন্সে তিনি দাবি করেছেন, ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে ভাল ফল দেখা গেছে। সব ঠিক থাকলে এ বছর অক্টোবরের মধ্যেই কোভিড ভ্যাকসিন বাজারে নিয়ে আসবেন তাঁরা।

    জার্মান বায়োটেকনোলজি ফার্ম বায়োএনটেক এসই-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কোভিড ভ্যাকসিন বানাচ্ছে ফাইজার। সিইও অ্যালবার্ট বোরলা বলেছেন, ১০০ রকমের ভ্যাকসিন ডিজাইন করা হয়েছে পৃথিবীর নানা দেশে। তার মধ্যে ১০টি ভ্যাকসিন সাফল্যের খুব কাছাকাছি রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভেক্টর ভ্যাকসিন, আমেরিকার বায়োটেকনোলজি ফার্ম মোডার্নার এমআরএনএ ভ্যাকসিন। ইতালির মেডিক্যাল ফার্মও দাবি করেছে তাদের বানানো ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ইঁদুরের শরীরে ভাইরাস প্রতিরোধী শক্তিশালী অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে। ফাইজার ও বায়োএনটেকের বানানো ভ্যাকসিনও আরএনএ সিকুয়েন্সকে কাজে লাগিয়ে তৈরি হয়েছে। তবে এই ভ্যাকসিনের ডিজাইন মোডার্নার থেকে আলাদা। সিইও-র কথায়, প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে ভ্যাকসিনের ভাল ফল দেখা যাচ্ছে। তৃতীয় পর্যায়ে আরও বেশি সংখ্যক মানুষের উপর ভ্যাকসিনের প্রভাব লক্ষ করেই বাণিজ্যিক হারে তার উৎপাদন শুরু হয়ে যাবে। অক্টোবরের মধ্যেই ভ্যাকসিন বাজারে নিয়ে আসার চেষ্টা করবেন তাঁরা।

    আরও পড়ুন: করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে আরও এক ধাপ অগ্রগতি, বিশ্বকে পথ দেখাতে পারে ভারতের সেরাম

    ফাইজারের ভ্যাকসিন রিসার্চ বিভাগের প্রধান ক্যাথরিন জ্যানসেন বলেছেন, এই আরএনএ ভ্যাকসিন দেহকোষকে ভাইরাল প্রোটিন তৈরিতে বাধ্য করে যাতে তার প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি শরীরেই তৈরি হয়ে যায়। এই গবেষণার নেতৃত্বে রয়েছেন জার্মানির বায়োএনটেকের অধ্যাপক উগার সাহিন। তিনি জানিয়েছেন এই আরএনএ ভ্যাকসিনের নাম BNT162। এটি আসলে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট। সার্স-কভ-২ আরএনএ ভাইরাসের সারফেস প্রোটিনগুলোকে বিশেষ উপায় বিশুদ্ধ করে এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের ডিজাইন করা হয়েছে। এই ভাইরাল প্রোটিনগুলো মানুষের শরীরে ‘মেমরি বি সেল’ তৈরি করবে যা থেকে দেহকোষে ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হবে। অ্যান্টিবডি বেসড ইমিউন রেসপন্স বা অ্যাডাপটিভ ইমিউন রেসপন্স তৈরি করবে এই ভ্যাকসিন। ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

    আরও পড়ুন: করোনাভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে অ্যান্টিবডি, ইজরায়েলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে মোদী সরকার

    আমেরিকার আরও এক বায়োটেকনোলজি ফার্ম মোডার্নাও সম্প্রতি দাবি করেছে তাদের এমআরএনএ-১২৭৩ (mRNA-1273) ভ্যাকসিন মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। মোডার্না বায়োটেকনোলজি ফার্মের সঙ্গে এই এমআরএনএ ভ্যাকসিন তৈরির কাজ করছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকসিয়াস ডিজিজ (NIAID)-এর ভ্যাকসিন রিসার্চ সেন্টারের (VRC) বিজ্ঞানীরা। মোডার্নার চিফ একজিকিউটিভ অফিসার স্টিফেন ব্যানসেল দাবি করেছেন, এই ভ্যাকসিনের প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালে সাফল্য মিলেছে। ধীরে ধীরে শরীরে কাজ শুরু করেছে ভ্যাকসিন। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, রোগীদের শরীরে ভাইরাসের প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি শুরু হয়ে গেছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও একটু একটু করে বাড়ছে।

    আরও পড়ুন: করোনা রুখতে কাজ করছে এমআরএনএ ভ্যাকসিন, মানুষের শরীরে তৈরি হচ্ছে অ্যান্টিবডি, দাবি বিজ্ঞানীদের

    আরও পড়ুন: করোনা ভ্যাকসিন গবেষণায় বড় অগ্রগতি, জোড়া দাবি ইতালি, ইজরায়েলের

    এদিকে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভেক্টর ভ্যাকসিনের ডিজাইন ভারতে তৈরি করছে সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া। অস্ট্রিয়ার থেমিস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোডাজেনিক্স ও ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিন রকমের কোভিড ভ্যাকসিন তৈরি হচ্ছে সেরাম ইনস্টিটিউটে। অক্সফোর্ডের ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্টের টিমের তৈরি ভেক্টর ভ্যাকসিনের ক্নিনিকাল ট্রায়াল রেসাস প্রজাতির বাঁদরের উপর ব্যর্থ হয়েছে। এই বাঁদরের শরীরে কোভিড সংক্রমণ রুখতে না পারলেও নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করেছে এই ভ্যাকসিন। মানুষের শরীরে কীভাবে এই ভেক্টর ভ্যাকসিনের প্রয়োগ সফল হবে সেই নিয়ে বৃহত্তর গবেষণা চলছে অক্সফোর্ডে। ডক্টর অ্যাড্রিয়ান হিলের তত্ত্বাবধানে ভারতে এই গবেষণা চালাচ্ছে একমাত্র সেরাম ইনস্টিটিউট। সেরাম সিইও আদর পুনাওয়ালা বলেছেন, সব ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের শেষে অথবা অক্টোবরেই ভ্যাকসিন চলে আসতে পারে ভারতের বাজারে। ভ্যাকসিনের প্রতি ডোজ হাজার টাকা করে হলেও দেশবাসীর জন্য বিনামূল্যেই ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করবে সরকার। সেরাম, অক্সফোর্ড, মোডার্না না ফাইজার—কোন সংস্থা আগে ভ্যাকসিন আনে সেটাই এখন দেখার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More