করোনা-যুদ্ধ: প্রাণ বাঁচাবে ‘প্রাণ-বায়ু’, কম খরচে আধুনিক ভেন্টিলেটর বানাচ্ছে রুরকি আইআইটি

মাত্র ২৫ হাজার টাকায় এমন ভেন্টিলেটর বানিয়ে চমকে দিল রুরকির ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: আকারে দেড় ফুট বাই দেড় ফুট। ওজনেও হাল্কা। এমন পোর্টেবল ভেন্টিলেটর স্বয়ংক্রিয়। তীব্র শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের অক্সিজেন দেবে তো বটেই, শ্বাসের গতিও নির্ণয় করতে পারবে। চাপ নিয়ন্ত্রণ হবে নিজে থেকেই। মাত্র ২৫ হাজার টাকায় এমন ভেন্টিলেটর বানিয়ে চমকে দিল রুরকির ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। রুরকি আইআইটির এই প্রজেক্টকে স্বীকৃতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকও।

    করোনা আক্রান্ত রোগীর প্রাণ বাঁচাবে ‘প্রাণ-বায়ু’ । পোর্টেবল এই ভেন্টিলেটরের এমনই নাম দিয়েছেন রুরকি আইআইটির গবেষকরা। এই প্রজেক্টে রুরকি আইআইটির পাশে আছে এইমস-ঋিষিকেশ। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই ভেন্টিলেটরের প্রোটোটাইপ তৈরি হয়ে গেছে। সুস্থ ব্যক্তির উপরে এবং শ্বাসের সমস্যা রয়েছে এমন রোগীর উপরে এই ভেন্টিলেটরের ট্রায়াল সফল। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতেই এই ভেন্টিলেটর রোগীর শরীরে অক্সিজেন পাঠাতে পারে। করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য বড় বড় আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করা হচ্ছে দেশজুড়েই, বিরাট এলাকা জুড়ে তৈরি হচ্ছে আইসিইউ। গবেষকরা বলছেন, এইসব জায়গাতে খুব ভালভাবে ইনস্টল করা যাবে এমন ভেন্টিলেটর।

    আইআইটি রুরকির টিঙ্কারিং ল্যাবরেটরিতে এক সপ্তাহ আগে এমন ভেন্টিলেটর বানানোর কাজ শুরু হয়। আইআইটি রুরকির অধ্যাপক অক্ষয় দ্বিবেদী ও অরুপ কুমার দাস এবং ঋষিকেশ এইমসের দেবেন্দ্র ত্রিপাঠি রয়েছেন এই প্রজেক্টে।

    গবেষকরা বলছেন, কম খরচে পোর্টেবল ভেন্টিলেটর প্রাণ-বায়ু। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কাজ করে। ভেন্টিলেটরে বাতাসের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, প্রতি মিনিটে রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস নির্ণয় করা যায় এই ভেন্টিলেটরে। আইআইটি রুরকির ডিরেক্টর অজিত কে চতুর্বেদী বলেছেন, “এখনও ৪৫০টি কোম্পানির কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে এই ভেন্টিলেটর। দেশের সমস্ত সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল, আইসোলেশন সেন্টারে পাঠানোর জন্য বিপুল পরিমাণ এমন ভেন্টিলেটর তৈরির দরকার হবে। তার জন্য এগিয়ে আসতে চায় অনেক সংস্থাই। কম খরচে এমন পোর্টেবল ভেন্টিলেটর করোনা মোকাবিলায় বড় অস্ত্র হবে বলেই আশা রাখছি আমরা।”

    স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, দেশে এখন ভেন্টিলেটরের সংখ্যা ৪৮ হাজার। তার মধ্যে অনেকগুলোই অকেজো। সংক্রামিতদের সংখ্যা যদি বাড়ে তাহলে রোগীদের পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর দেওয়ার মতো পরিকাঠামো কোনও হাসপাতাল-নার্সিংহোমেই নেই। এদিকে চিন্তার বিষয় হল, করোনা আক্রান্ত ছ’জন রোগীর মধ্যে একজনই ভোগেন তীব্র শ্বাসকষ্টে, বাকিদের ফুসফুস কাজ করাই বন্ধ করে দেয়। তখন রোগীদের বাঁচাতে দ্রুত ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করতে হয়। দেশে মাত্র দুটি সংস্থা বানায় এই ভেন্টিলেটর। তাও সেই ভেন্টিলেটরের প্রতিটার দাম দেড় লক্ষ টাকার কাছাকাছি। আগভা হেলথকেয়ার জানিয়েছে, কম খরচে তারা ২০ হাজার ভেন্টিলেটর সরবরাহ করতে পারবে। চিন থেকেও ১০ হাজার ভেন্টিলেটর চেয়ে পাঠিয়েছে ভারত।

    সঙ্কটের এই পরিস্থিতিতে কম খরচে ভেন্টিলেটর বানানোর কাজ শুরু করেছেন আইআইটি, এমআইটির ইঞ্জিনিয়াররা। পুণের নানা রিসার্চ ফার্ম, ল্যাবরেটরিতে চলছে কাজ। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভেন্টিলেটরের নকশা, যন্ত্রপাতি, পার্টস বয়ে নিয়ে আসছেন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া, তরুণ বিজ্ঞানীরা।  আইআইটি কানপুরের পড়ুয়ারাও ইতিমধ্যেই ভেন্টিলেটরের প্রোটোটাইপ তৈরি করে ফেলেছেন। কৃত্রিম মানব ফুসফুস তৈরি করে ভেন্টিলেটরের পরীক্ষা চলছে। কীভাবে দ্রুত মেশিন বানাতে হবে ভিডিও কনফারেন্সে তার পরামর্শ দিচ্ছেন আইআইটি-প্রাক্তনী গুগল কর্তা সুন্দর পিচাই। ভেন্টিলেটর তৈরির এই কাজে এবার অনেকটাই এগিয়ে গেল রুরকির আইআইটি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More