বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

প্যান্ডেলে প্রথম দেখা, প্যান্ডেলেই বিয়ে, মায়ের সামনে মালাবদল সুদীপ, প্রীতমার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওঠ ছুঁড়ি, তোর বিয়ে। না, ঘুম থেকে তুলে বিয়ের পিঁড়িতে বসানোর গল্প এটা নয়। তবে তার থেকে কম কিছুও নয়। সুদীপ আর প্রীতমার প্রথম দেখা শিয়ালদহের পুজো মণ্ডপে। সে দিন অষ্টমী। রাত তখন আটটার আশপাশে। প্রথম দেখার কয়েক মিনিট পরেই প্রস্তাব। আর তার চার ঘণ্টার মধ্যেই বিয়ে!

সানাই বাজেনি। তার বদলে পুজো মণ্ডপের ঢাক, কাঁসর। রজনীগন্ধা ছিল না। তার বদলে হলুদ গাঁদার মালা। পুরোহিত ছিলেন না, কিন্তু ছিল পুজোয় দেওয়া সিঁদুর। মধ্যরাতের মণ্ডপ নিমেষে যেন ছাদনাতলা। হল মালাবদল, হল সিঁদুরদান। হল চার হাত এক।

এবারের পুজোয় এমনই এক প্রেম ও প্রণয় রাতারাতি পরিণয়ের কাহিনি হয়ে উঠল। হুগলির হিন্দমোটরের পাত্র সুদীপ ঘোষাল আর বৈদ্যবাটির পাত্রী প্রীতমা বন্দ্যোপাধ্যায় অষ্টমীর সন্ধ্যায় যাকে বলে আগন্তুক বন্ধু থেকে হয়ে উঠলেন জীবনসঙ্গী!

সুদীপ আর প্রীতমার ঠিকানার মধ্যে মাত্র পাঁচ স্টেশনের দূরত্ব। ফেসবুকে মাস তিনেক আগে আলাপ। তবে চার চোখ এক হয়নি এত দিন। একে অপরের মুখ দেখার সুযোগ হয়নি। সেটা প্রথম হল অষ্টমীর সন্ধ্যায়। শিয়ালদহ এলাকার একটি পুজো মণ্ডপে দেখা হয় দু’জনের।

সঙ্গে সঙ্গেই প্রেমে পড়ে যান ওঁরা। যাকে বলে ‘লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট’। আর তার পরে দু’জনেই ঠিক করে নেন, শুভকাজে দেরি করা ঠিক নয়। আর সেই ‘শুভস্য শীঘ্রম্’টা একেবারে রাতারাতি হয়ে যায়।

পেশায় মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ সুদীপ জানিয়েছেন, পুজো প্যান্ডেলে প্রীতমাকে দেখেই তিনি প্রেমে পড়ে যান। মনে হয়নি চার পাশের ভিড়ের কথা। প্যান্ডেল ভরা কৌতূহলী চোখের সামনেই হাঁটু মুড়ে প্রেম নিবেদন করেন তিনি। আর এই সারল্য দেখে প্রেম পড়ে যান বৈদ্যবাটীতে বুটিক চালানো প্রীতমাও। প্রেম নিবেদনের পরে ঘণ্টাখানেক ঘুরে ঘুরে ঠাকুরও দেখেন ওঁরা।

তার পরেই ঠিক হয় ওই রাতেই বিয়ে পর্ব সেরে ফেলবেন। সেই মতো বন্ধুবান্ধবরা আয়োজন করে ফেলেন। অষ্টমীর রাতেই হিন্দমোটরে সুদীপের পাড়ার পুজো মণ্ডপে চার হাত এক হয়।

মণ্ডপে বেজে ওঠে ঢাক, কাঁসর, ঘণ্টা। উপস্থিত জনতার কলতান, শাঁখ, উলুধ্বনি– সব মিলিয়ে সে এক হুলস্থুল কাণ্ড। ধূপ-ধুনোর গন্ধ মাখা মণ্ডপ মুহূর্তে যেন অন্য চেহারায়। আর ঠিক তখনই কে যেন মাইকে সানাই বাজিয়ে দেয়।

Comments are closed.